কী কারণে গ্রিনল্যান্ডের দখল আবশ্যক, জানালেন ট্রাম্প
রাশিয়া ও চীনকে প্রতিরোধ করতেই যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনল্যান্ড দখল করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এক্ষেত্রে গ্রিনল্যান্ডের বাসিন্দাদের পছন্দ-অপছন্দ গুরুত্বপূর্ণ নয় বলেও মনে করেন তিনি।
আজ বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন হোয়াইট হাউসে মার্কিন বিভিন্ন তেল কোম্পানির কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভেনেজুয়েলার জ্বালানি তেল নিয়ে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে ট্রাম্প বলেন, “গ্রিনল্যান্ডের লোকজন পছন্দ করুক আর না-ই করুক, আমরা এ ইস্যুতে কিছু একটা করতে চাই। কারণ আমরা যদি (দখল) না করি, তাহলে চীন কিংবা রাশিয়া গ্রিনল্যান্ড দখল করে নেবে এবং প্রতিবেশী হিসেবে রাশিয়া কিংবা চীন— কাউকেই আমরা চাই না।”
বিজ্ঞাপন
“আমরা অবশ্যই গ্রিনল্যান্ড দখল করব। যদিও ১৯৫১ সালের চুক্তি অনুসারে গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি আছে, কিন্তু শুধু একটা চুক্তি গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে না। আপনাকে মালিকানাও রক্ষা করতে হবে, ইজারাও রক্ষা করতে হবে এবং গ্রিনল্যান্ডকে আমাদের রক্ষা করতেই হবে। যদি আমরা তা না করি, তাহলে চীন কিংবা রাশিয়া করবে।”
প্রসঙ্গত, বিশ্বের সবচেয়ে বড় দ্বীপ গ্রিনল্যান্ডের আয়তন ২১ লাখ ৬৬ হাজার ৮৬ বর্গকিলোমিটার, জনসংখ্যা মাত্র ৫৬ হাজার ৫৮৩ জন। এই জনসংখ্যার প্রায় ৯০ শতাংশই ইনুইট জাতিগোষ্ঠীভুক্ত। গ্রিনল্যান্ডের অবস্থান উত্তর আমেরিকা অঞ্চলে হলেও এই দ্বীপটি ডেনমার্কের অধীন একটি স্বায়ত্ত্বশাসিত প্রদেশ। গ্রিনল্যান্ডের জনসংখ্যা মাত্র ৫৭ হাজার এবং তারা ডেনমার্ক এবং ইউরোপের দেশগুলোর জোট ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নাগরিক।
বিজ্ঞাপন
২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের শপথ গ্রহণের পর থেকে গ্রিনল্যান্ড দখলের কথা বলে আসছে ট্রাম্প এবং গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্ক বরাবরই তাতে তীব্র আপত্তি জানিয়ে আসছে।
মঙ্গলবার এক যৌথ বিবৃতিতে ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, পোল্যান্ড, স্পেন, ব্রিটেন ও ডেনমার্ক জানিয়েছে, গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এক্তিয়ার কেবলমাত্র গ্রিনল্যান্ড এবং ডেনমার্কের রয়েছে।
সূত্র : রয়টার্স
এসএমডব্লিউ