আফগান সাংসদ রঙ্গিনা কারগার

আফগানিস্তান থেকে ভারতে আশ্রয় নিতে আসা আফগান নারী সাংসদ রঙ্গিনা কারগারকে তুরস্কে ফেরত পাঠানোর ঘটনায় ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি, তাকে দ্রুত আপৎকালীন ভিসার জন্য আবেদন করতে বলা হয়েছে।

ভারতের সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গত ২০ অগস্ট ইস্তানবুল থেকে দুবাইয়ের একটি উড়োজাহাজে নয়াদিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসেন রঙ্গিনা কারগার। গত ১১ বছর ধরে আফগানিস্তানের ফারইয়াব প্রদেশের ওলেসি এলাকা সাংসদ তিনি।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে কারগার জানান, আফগানিস্তানের কেন্দ্রীয় আইন সভার সদস্য হওয়ায় তিনি কূটনৈতিক পাসপোর্ট বহনের অনুমতি প্রাপ্ত। এর আগে সরকারি পাসপোর্ট দেখিয়ে অনেকবার ভারতে এসেছেন তিনি, কোনো সমস্যায় পড়তে হয়নি।

কিন্তু এবার ভারতে পৌঁছানোর পর বিমানবন্দরের অভিবাসন কর্মকর্তা তাকে অপেক্ষা করতে বলেন এবং জানান, উচ্চপদস্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে তাকে ছাড়া হবে। তার প্রায় দু’ঘণ্টা পর একই বিমানে তাকে ইস্তাম্বুলে ফেরত পাঠানো হয়।

৩৬ বছর বয়সী এই আফগান সাংসদের অভিযোগ, ‘আমাকে ফেরত পাঠানো হয়। অপরাধীর মতো আমার সঙ্গে আচরণ করা হয়েছে। দুবাইয়ে আমার পাসপোর্ট দেওয়া হয়নি আমাকে। ইস্তানবুলে নামার পর সেটি দেওয়া হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার সঙ্গে ওরা (অভিবাসন কর্তৃপক্ষ) যেটা করল সেটা ঠিক নয়। কাবুলের পরিস্থিতি খারাপ, আমি ভেবেছিলাম ভারত সরকার একজন আফগান নারীকে সাহায্য করবে। কেন আমাকে ফেরত পাঠানো হল, তার কোনো কারণ আমাকে জানানো হয়নি।’

পৃথক আরেক প্রতিবেদনে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, ২৬ তারিখ আফগানিস্তান পরিস্থিতি নিয়ে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার যে সর্বদলীয় বৈঠক ডেকেছিল, সেখানে এই বিষয়টি উত্থাপন করেন দেশটির রাজ্যসভার কংগ্রেস নেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে, আনন্দ শর্মা এবং অধীররঞ্জন চৌধুরি।

অভিযোগের জবাবে নিজেদের ভুল স্বীকার করে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি, মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, আফগান জঙ্গি সদস্যরা নকল পাসপোর্ট ব্যবহার করে ভারতে প্রবেশের চেষ্টা করছে- এমন একটি তথ্য গোয়েন্দা কর্মকর্তারা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অবহিত করেছিলেন। এ কারণেই এই ভুল হয়েছে।

ইতোমধ্যে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্নসচিব জেপি সিং অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চেয়েছেন বলে শুক্রবার ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে জানিয়েছেন কারগার।

তিনি বলেন, ‘যুগ্ম সচিব জেপি সিং আমাকে ফোন করেছিলেন। পুরো ঘটনার জন্য তিনি ক্ষমা চেয়েছেন। আর আমাকে আপৎকালীন ভিসার জন্য আবেদন করতে বলেছেন।’

তবে আমি যখন জানতে চাইলাম, সরকারি পাসপোর্ট কি বৈধ নয়, তিনি তার কোনও উত্তর দেননি। তারপর আমি যখন তাঁকে জিজ্ঞাসা করলাম, আমার মেয়ের জন্য ১৯ অগস্ট ই-ভিসার জন্য আবেদন করেছিলাম। কবে নাগাদ তা পাওয়া যেতে পারে- তার কোনো জবাবও আমি পাইনি।

ভারতে তিনি একাই এসেছিলেন রঙ্গিনা কারগার। তার স্বামী ও চার সন্তান ইস্তানবুলে আছেন। জুলাই মাস থেকেই সেখানে আছেন তারা।

কয়েকদিন আগেই প্রথম আফগান শিখ মহিলা সাংসদ আনারকলি কৌর হোনারইয়ার এবং আরেক শিখ সাংসদ নরিন্দর সিং খালসা ভারতে এসেছেন। ভারতীয় উদ্ধারকারী বিমানে এসেছেন তারা দু’জন।

সূত্র : ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

এসএমডব্লিউ