গত ৪০ বছরের মধ্যে চীনের সাথে তাইওয়ানের সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি উত্তেজনা তৈরি হয়েছে বলে হুঁশিয়ার করে দিয়েছেন তাইওয়ানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী চিউ কুয়ো-চেং। এই উত্তেজনা থেকে দু’পক্ষের মধ্যে দুর্ঘটনাক্রমে যেকোনো সময় লড়াই শুরু হয়ে যেতে পারে বলেও সতর্ক করে দিয়েছেন তিনি।

চলতি অক্টোবরের প্রথম চারদিনই চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) তাইওয়ানের আকাশসীমায় প্রায় ১৫০টি যুদ্ধবিমানের অনুপ্রবেশ ঘটিয়েছে। চীনের গণমাধ্যমের খবরে যুদ্ধবিমানের এই অনুপ্রবেশকে শক্তিপ্রদর্শন বলে মন্তব্য করা হয়েছে। কিন্তু বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার চীনের এ ধরনের কার্যক্রমকে ‘ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং আগ্রাসন’ হিসেবে উল্লেখ করে নিন্দা জানিয়েছে।

মঙ্গলবার মার্কিন ফরেইন অ্যাফেয়ার্স সাময়িকীতে লেখা নিবন্ধে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট সাই ইং-ওয়েন তাইওয়ানের পতন হলে তা এশীয় অঞ্চলে ‌‘বিপর্যয়কর পরিণতি’ ডেকে আনবে বলেও হুঁশিয়ার করে দেন। তিনি বলেন, যদি তাইওয়ানের গণতন্ত্র এবং জনগণের জীবন হুমকির মুখোমুখি হয়; তাহলে নিজেদের রক্ষায় প্রয়োজনীয় সবকিছুই করবে তাইওয়ান।

তাইওয়ানকে নিজেদের একটি প্রদেশ হিসেবে মনে করে চীন এবং প্রয়োজনে বলপ্রয়োগ করে তা দখলে নেওয়ার অঙ্গীকার করেছে দেশটি। সাই ইং-ওয়েন নেতৃত্বাধীন সরকারকে চীন বিচ্ছিন্নতাবাদী মনে করে। ১৯৪৯ সালে কমিউনিস্ট সরকার চীনের শাসন ক্ষমতা দখল করার পর তাইওয়ান মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

চীনা জঙ্গি বিমান তাইওয়ানের আকাশ সীমা অতিক্রম না করলেও চলমান উত্তেজনার জেরে ‌‘ভুলক্রমে’ দু’পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি শুরু হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তাইওয়ানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী। 

প্রতিরক্ষামন্ত্রী চিউ কুয়ো-চেং বলেছেন, ২০২৫ সালের মধ্যে তাইওয়ানে সর্বাত্মক হামলা চালানোর সক্ষমতা অর্জন করতে পারে চীন। তাইপের সংসদীয় এক কমিটিতে ক্ষেপণাস্ত্র এবং যুদ্ধজাহাজ কেনার জন্য শত শত কোটি ডলারের প্রতিরক্ষা বিল নিয়ে যখন আলোচনা চলছে তখন চিউ এই মন্তব্য করেছেন।

সূত্র: বিবিসি।

এসএস