করোনাভাইরাস মহামারি মোকাবিলায় ১২ থেকে ১৫ বছর বয়সীদের জন্য কোভিড-১৯ টিকার বুস্টার ডোজের অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। অল্পবয়সীদের বুস্টার ডোজ হিসেবে ফাইজার-বায়োএনটেকের টিকাকে বুধবার (৫ জানুয়ারি) অনুমোদন দেয় দেশটির রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা বিষয়ক প্রধান সরকারি সংস্থা সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি)।

বৃহস্পতিবার (৬ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স। করোনাভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রনের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে সম্প্রতি করোনার সংক্রমণ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সংক্রমণের এই উল্লম্ফনের মধ্যেই বুধবার অল্পবয়সীদের ফাইজারের বুস্টার টিকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলো সিডিসি।

সিডিসি’র অ্যাডভাইসরি কমিটি অন ইমিউনাইজেশন প্রাক্টিসেস (এসিআইপি) ভোটাভুটির মাধ্যমে বুধবার ১২ থেকে ১৫ বছর বয়সী শিশুদের করোনা টিকার বুস্টার ডোজ দেওয়ার পক্ষে মত দেয়। ভোটাভুটিতে অল্পবয়সীদের টিকার বুস্টার ডোজ দেওয়ার পক্ষে ১৩ জন এবং বিপক্ষে ভোট দেন একজন।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বুস্টার ডোজ হিসেবে ১২ থেকে ১৫ বছর বয়সীদের ফাইজার-বায়োএনটেকের টিকা দেওয়া হবে। টিকার দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার কমপক্ষে পাঁচ মাস পর বুস্টার ডোজ নেওয়া যাবে।

এসিআইপি প্যানেল বলছে যে, ১২ থেকে ১৫ বছর বয়সীদের পাশাপাশি ১৬-১৭ বছর বয়সীদের জন্য সিডিসির সুপারিশ আরও জোরদার করা উচিত। কারণ ১৬-১৭ বছরের কিশোর-কিশোরীদের জন্য সিডিসি ইতোপূর্বে বুস্টার ডোজের অনুমোদন দিলেও এই বয়সসীমার সকলেরই এই টিকা গ্রহণ করা উচিত; এমন কথা বলা থেকে বিরত ছিল সংস্থাটি।

অবশ্য বুধবার দেওয়া এক বিবৃতিতে সিডিসি জানিয়েছে, ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী সকল অল্পবয়সীকে করোনা টিকার বুস্টার নেওয়ার সুপারিশ করা হচ্ছে। ফাইজার-বায়োএনটেক করোনা টিকার দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার কমপক্ষে পাঁচ মাস পর বুস্টার ডোজ গ্রহণ করা যাবে।

পৃথক এক বিবৃতিতে সিডিসির পরিচালক রচেল ওয়ালেনস্কি জানিয়েছেন, ‘করোনাভাইরাস এবং ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টের বিরুদ্ধে টিকার বুস্টার ডোজ ভালো সুরক্ষা দেবে।

উল্লেখ্য, গত ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রে। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত, মৃত্যু ও সুস্থতার হিসাব রাখা ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারস থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বুধবার যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন সাড়ে ৬ লাখেরও বেশি মানুষ। একইসময়ে করোনায় আক্রান্ত হয়ে দেশটিতে মারা গেছেন ১ হাজার ৭৫৯ জন। 

করোনাভাইরাস মহামারিতে সারা বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এই দেশটিতে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫ কোটি ৮৮ লাখ মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন এবং সাড়ে ৮ লাখের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।

টিএম