করোনাভাইরাস মহামারি প্রতিরোধে সারা বিশ্বেই টিকা প্রয়োগের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। ভাইরাসের অতিসংক্রামক ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়ার পর টিকা নেওয়ার গুরুত্ব বেড়েছে আরও। এই পরিস্থিতিতে রাশিয়ার তৈরি এক ডোজ বিশিষ্ট স্পুটনিক লাইট ভ্যাকসিনের অনুমোদন দিয়েছে ভারত।

রোববার (৬ ফেব্রুয়ারি) ভারতের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডব্য নিজেই এই তথ্য জানিয়েছেন। এর মাধ্যমে চলমান টিকাদান কর্মসূচিকে আরও জোরদার করতে চায় দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটি। রোববার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় বার্তাসংস্থা এএনআই এবং সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাস মহামারি মোকাবিলায় জরুরি ব্যবহারের জন্য এক ডোজের স্পুটনিক লাইট কোভিড-১৯ টিকার অনুমোদন দিয়েছে ভারতের ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ড্রাগ কন্ট্রোলার জেনারেল অব ইন্ডিয়া (ডিসিজিআই)। তবে আপাতত জরুরি ভিত্তিতে ব্যবহার করা যাবে ভ্যাকসিনটি। এটি করোনা মোকাবিলায় ভারতে অনুমোদন পাওয়া নবম ভ্যাকসিন।

পরে ভারতের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডব্য বলেন, সিঙ্গেল ডোজের স্পুটনিক লাইট করোনা টিকা অনুমোদনের সিদ্ধান্ত মহামারি মোকাবিলায় ভারতকে আরও শক্তিশালী করবে।

রোববার রাতে দেওয়া এক টুইট বার্তায় তিনি বলেন, ‘ভারতে এক ডোজ বিশিষ্ট স্পুটনিক লাইট ভ্যাকসিনের জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে ডিসিজিআই। এটি ভারতে অনুমোদন পাওয়া নবম করোনা টিকা। মহামারি মোকাবিলায় এটি ভারতের সক্ষমতাকে আরও সমৃদ্ধ করবে।’

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম বলছে, দীর্ঘ পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে হায়দ্রাবাদভিত্তিক ডা. রেড্ডিস ল্যাবরেটরিতে তৈরি হয়েছে স্পুটনিক লাইট ভ্যাকসিন। কয়েকদিন আগেই ডিসিজিআই’র কাছে করোনার ভ্যাকসিন হিসেবে নিবন্ধন করার জন্য প্রস্তাব জমা দেয় ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থাটি।

ওই সংস্থার দাবি, করোনার নতুন অতিসংক্রামক ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রনের বিরুদ্ধে এক ডোজ বিশিষ্ট এই টিকা অন্তত ৭৫ শতাংশ কার্যকরী। সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, ৬ মাস আগে নেওয়া থাকলেও করোনা প্রতিরোধে ১০০ শতাংশ কাজ করতে পারে এই ভ্যাকসিন।

আর এরপরই সবদিক বিবেচনা করে রুশ এই করোনা টিকার অনুমোদন দিলো ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। তবে আপাতত জরুরি ভিত্তিতে ব্যবহার করা যাবে ভ্যাকসিনটি। রাশিয়ার তৈরি সিঙ্গেল ডোজের এই করোনা টিকাটি ইতোমধ্যে ২৯টি দেশে অনুমোদন পেয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম বলছে, ভারতের মাত্র পাঁচটি জায়গায় স্পুটনিক লাইট সিঙ্গল ডোজের এই টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করা হয়। এর মধ্যে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে এই ভ্যাকসিনটির ট্রায়াল হয়। পরীক্ষামূলকভাবে ভ্যাকসিন নেওয়ার পর সেখানে কারও শরীরে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি।

টিএম