ঘুম ভালো না হলে কী অসুবিধা হতে পারে, এ নিয়ে অভিজ্ঞতা রয়েছে প্রায় সবারই। মাঝে মাঝে দুই-একদিন ঘুমে সমস্যা হওয়াটা অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু আপনার যদি টানা ঘুমে সমস্যা হতে থাকে এবং আপনি যদি পর্যাপ্ত না ঘুমাতে পারেন তবে দ্রুতই তার কুপ্রভাব পড়বে শরীরে। সুস্থ ও সতেজ থাকতে চাইলে নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম জরুরি। প্রতিদিন সাত-আট ঘণ্টা ঘুম হলে তাকে পর্যাপ্ত হিসেবে ধরা হয়। 

ঘুম কম হওয়া কিংবা অনিদ্রার জন্য দায়ী হতে পারে আপনার জীবনযাপনের ধরনও। অনেক সময় ঘুমের পরিবেশ সহায়ক না হলে ভালো ঘুম হয় না। তাই ভালো ঘুম পেতে চাইলে আপনাকে করতে হবে কিছু কাজ। চলুন জেনে নেওয়া যাক সেই কাজগুলো সম্পর্কে-

পরিবেশ হোক আরামদায়ক

ভালো ঘুমের জন্য পরিবেশ হতে হবে সহায়ক। ঘুমের আগে মন ভালো রাখে এমন কাজগুলো করুন। প্রার্থনা সেরে নিন। পছন্দের বই পড়তে পারেন। মোট কথা হলো, মানসিক শান্তি নিয়ে ঘুমাতে যাওয়া। রাতে ঘুমের অন্তত এক ঘণ্টা আগে ফোন দূরে সরিয়ে রাখুন। ঘুমের আগে পান করতে পারেন ক্যামোমাইল চা। এতে আপনি আরাম বোধ করবেন।

হালকা রং ব্যবহার করুন

শোবার ঘরের দেয়াল এবং আসবাবের রং হালকা রাখুন। তবে বিছানায় খুব বেশি হালকা রঙের চাদর ব্যবহার করবেন না। বিছানায় হালকা রঙের চাদর থাকলে আপনি আলস্য অনুভব করবেন। তাই লাল বা গোলাপি রঙের চাদর ব্যবহার করুন। এই দুই রং উত্‍‌সাহ এবং ভালোবাসা বাড়াতে কাজ করে।

নরম আলো

তীব্র আলোতে ঘুম আসবে না, এটাই স্বাভাবিক। তাই শোবার ঘরে খুব কড়া কোনো আলো না জ্বালিয়ে নরম আলো ব্যবহার করুন। ঘর অন্ধকার করে ঘুমানোর অভ্যাস সবচেয়ে ভালো। তা সম্ভব না হলে সবুজ বা নীল রঙের হালকা আলো জ্বেলে রাখুন।

শোবার ঘরে টিভি-কম্পিউটার রাখবেন না

বেশিরভাগই এই ভুল করে থাকেন, শোবার ঘরে টিভি-কম্পিউটার রাখেন। ভালো ঘুম পেতে চাইলে এই দুই যন্ত্র শোবার ঘরে রাখবেন না। টিভি কিংবা কম্পিউটার থেকে নির্গত হওয়া নীলচে আলো আপনার ঘুম তাড়ানোর জন্য দায়ী হতে পারে।

হালকা গরম পানিতে গোসল

ঘুমের আগে যদি আপনি হালকা গরম পানিতে গোসল করে নিতে পারেন তবে তা ভালো ঘুমের জন্য বেশ সহায়ক হবে। এতে আপনার সারাদিনের ক্লান্তি দূর হবে। সমস্ত শরীর আরাম পাবে। ঘুমাতে যাওয়ার অন্তত দুই ঘণ্টা আগে হালকা গরম পানিতে গোসল করে নিন। এতে শরীর ঠান্ডা হওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময় পাবে।