রান্নার কাজটিকে অনেকটাই সহজ করে দিয়েছে মাইক্রোওয়েভ ওভেন। শুধু রান্নাই নয়, বেকিং কিংবা খাবার গরমের কাজেও এটি সমান কার্যকরী। সময় বাঁচাতে এবং ঝামেলা থেকে বাঁচতে বেশিরভাগের বাড়িতেই মাইক্রোওয়েভ ওভেন কিনে নেন। যখন হাতে সময় কম থাকে, কোনো খাবার গরম করার দরকার হলে খুব কম সময়েই তা ওভেনের মাধ্যমে গরম করে নিতে পারেন। তবে কিছু খাবার আছে যেগুলো কখনোই মাইক্রোওয়েভ ওভেনে গরম করা উচিত নয়। চলুন জেনে নেওয়া যাক

সেদ্ধ ডিম

ডিম সেদ্ধ করার পর খোসাসহ ওভেনে গরম করতে দেবেন না। এতে ওভেনেরই সমস্যা হবে। কারণ গরম করতে দিলে ডিমটি ফেটে যাবে এবং ওভেন নোংরা হবে। আপনি যদি সময় বাঁচাতে ওভেনে সেদ্ধ ডিম গরম করতেই চান তবে প্রথমে খোসা ছাড়িয়ে এরপর গরম করতে দিন। সম্ভব হলে ডিমের গায়ে ছুরি দিয়ে দাগ দিয়ে দিন। এতে ফেটে যাওয়ার ভয় থাকবে না।

সবজি

ওভেনে কোনো ধরনের সবজি রান্না বা গরম করবেন না। এটি মেনে চলতেই হবে। কারণ বিকিরণের আকারে অতিরিক্ত তাপ নষ্ট করে দেয় সবজির পুষ্টিগুণ। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, সবজি ও ফল তাপ ও আর্দ্রতার সংস্পর্শে না আসা পর্যন্তই এতে সবচেয়ে বেশি পুষ্টি ধরে রাখে। ওভেনে গরম করলে কমতে থাকে এর পুষ্টিগুণ। যে কারণে সবজির উপকারিতা শরীরে পৌঁঁছায় না।

উচ্চ তাপমাত্রায় পানি গরম করবেন না

ওভেনে সিরামিক বা কাচের পাত্রে উচ্চ তাপমাত্রায় দীর্ঘ সময় ধরে পানি গরম করবেন না। এতে পানি অনেক বেশি গরম হয়ে যায় কিন্তু দেখে তা বোঝা যায় না। কারণ বুদবুদ তৈরি হয় না। পানি বেশি গরম হয়ে যাওয়ার কারণে পাত্রটি ফেটে যেতে পারে। এছাড়া গরমের বিষয়টি বুঝতে না পেরে ধরতে গেলে হাত পুড়ে যেতে পারে। তাই ওভেনে পানি গরম করতে চাইলে খুবই কম সময়ের জন্য গরম করতে হবে।

চিপস, ওয়েফার

অনেক সময় আরেকটু ক্রিসপি করার জন্য ওয়েফার বা চিপস মাইক্রোওয়েভ ওভেনে গরম করা হয়। এতে লাভ তো হবেই না বরং আরও পাতলা ও নরম হয়ে যাবে। এ ধরনের খাবার মচমচে করার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো একটি ট্রেতে সামান্য তেল ও মসলা ছিটিয়ে এরপর বেক করা।

হিমায়িত মাংস

ঠান্ডা মাংস ওভেনে গরম করে খেলে তা আপনার শরীরের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে। এতে বেড়ে যায় ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের ঝুঁকি। পেনসিলভানিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির খাদ্য বিজ্ঞান বিভাগের এক গবেষণা অনুসারে, হিমায়িত মাংস গরম করার সবচেয়ে নিরাপদ উপায় হলো প্রথমে ডিফ্রস্ট করা এবং তারপর গরম করা।

তেল ও তেলযুক্ত খাবার

তেলের থাকে একটি নির্দিষ্ট স্মোক পয়েন্ট। এর থেকে বেশি গরম করলে তেলের পুষ্টিগুণ নষ্ট হয়। এছাড়া ওভেনের ভেতরে তেল সহজে গরম হয় না। কারণ মাইক্রোওয়েভ ওভেন প্রথমে পাত্রকে গরম করে এরপর ভেতরের খাবারকে। তাই তেল ও তেল জাতীয় খাবার ওভেনে গরম করা থেকে বিরত থাকাই উত্তম।