রোজায় খাবারের প্রতি মনোযোগী হওয়া জরুরি। সাহরি ও ইফতারে কী খাচ্ছেন, তার ওপর নির্ভর করছে আপনার সারাদিনের সুস্থতা। তাই এমন সব খাবার খেতে হবে যা স্বাস্থ্যকর ও উপকারী। মুখের স্বাদ পরিবর্তন করার জন্য রান্নার প্রক্রিয়া বদলানো যেতে পারে। তবে যেভাবেই তৈরি করুন না কেন, পুরো প্রক্রিয়া যেন সুস্বাস্থ্যের সহায়ক হয় সেদিকে খেয়াল রাখবেন। সাহরির খাবারের ক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে কিছু বিষয়ের প্রতি-

সহজপাচ্য খাবার

রোজায় অনেকেরই কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা দেখা দেয়। সেজন্য সাহরি ও ইফতারে খাবার গ্রহণে সচেতন হতে হবে। এমন খাবার খান যা সহজে হজম হয়। হজম প্রক্রিয়া সহজ না হলে তার বিরূপ প্রভাব পড়ে শরীরে। সাহরিতে সহজপাচ্য খাবার না খেলে সারাদিন আপনি অস্বস্তিবোধ করবেন। কোষ্ঠকাঠিন্য বা পেটে সমস্যা দেখা দিলে রোজা রাখা কষ্টকর হবে। তাই যেসব খাবার হজমে সহায়ক, বেছে বেছে সেসব খাবারই খান।

স্বাস্থ্যকর খাবার

সাহরির খাবার স্বাস্থ্যকর হওয়া আবশ্যক। ইফতারে যদি দুই-এক টুকরো ভাজা-পোড়া খেয়েও ফেলেন, সাহরিতে এ ধরনের খাবার খাওয়ার সুযোগ নেই। ডুবো তেলে ভাজা, অতিরিক্ত তেল-ঝাল-মশলাদার খাবার সাহরিতে একদমই খাওয়া চলবে না। হালকা মশলায় রান্না করা খাবার খেতে হবে। সবজি, মাছ, মুরগি, ডাল, ভাত- এসব হলো সাহরিতে খাওয়ার উপযুক্ত খাবার। খিচুড়ি, তেহারি, বিরিয়ানি, পোলাও ইত্যাদি ভারী খাবার সাহরিতে এড়িয়ে চলুন।

পানি পান

রোজায় যেহেতু সারাদিন পানি পান করার সুযোগ নেই তাই স্বাভাবিকভাবেই পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে। তাই ইফতার, সাহরি ও এই দুইয়ের মধ্যবর্তী সময় অর্থাৎ রাতের সময়টাতে যতটা সম্ভব পানি পান করতে হবে। তবে বেশি পান করার জন্য খাওয়ার পরপরই পানি পান করবেন না। তাতে হজমে সমস্যা দেখা দিতে পারে। খাওয়ার পর কিছুক্ষণ বিরতি নিয়ে পানি পান করুন।

কতটুকু খাবেন?

সাহরিতে তাড়াহুড়ো করে একগাদা খেয়ে ফেলবেন না। তাতে সারাদিন অস্বস্তিবোধ করবেন। কারণ বেশি খেয়ে ফেললে হজম প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী খান। প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত খাবার খাবেন না। তাড়াহুড়ো না করে ধীরে সুস্থে খান। তৃপ্তি নিয়ে খেলে অল্প খাবারেও সারাদিন সতেজ বোধ করবেন। খাওয়ার পরপরই শুয়ে কিংবা বসে থাকবেন না। কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করুন। এতে গ্যাস্ট্রিকের ভয় থাকবে না।

এইচএন/এএ