আজ ২১ জুন পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক যোগ ব্যায়াম দিবস। এই উপলক্ষে ভারতের জনপ্রিয় অভিনেত্রী মালাইকা অরোরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিছু যোগাসনের বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, দিনের শুরুতে যোগাভ্যাসের মাধ্যমে মানুষ ইতিবাচক চিন্তা করতে শেখেন। এসব যোগ ব্যায়ামে ৩ থেকে ৫ বার শ্বাসপ্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে লাভ করা যায় আত্মিক প্রশান্তি।

বলিউড অভিনেত্রী মালাইকা বলেন, প্রথম দিকে সপ্তাহে অন্তত দু’দিন যোগ ব্যায়াম করা উচিত। এরপর ধীরে ধীরে এতে অভ্যস্ত হয়ে উঠতে হবে। যোগ ব্যায়াম করার জন্য নিজের চিন্তাভাবনাকে কেন্দ্রীভূত করতে হবে। তিনি বলেন, ‘বাইরে যতই ঝড় বয়ে যাক, আমার ভেতরটা থাকবে যোগাসনে। এভাবেই প্রতিদিন যোগাসন করার মধ্য দিয়ে আমি শান্তি পেয়েছি। এর জন্য আমার জীবনে অনেক ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে এবং আমি আমার জীবনযাপনের ধারা বদলে ফেলতে সফল হয়েছি।’

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বলিউড অভিনেত্রী মালাইকা অরোরা বলেন, যোগ ব্যায়াম শুরুর আগে কয়েকটি বিষয় মনে রাখা উচিত। এই বিষয়গুলো হলো-

১. শুরু থেকে শ্বাস নিতে হবে।

২. যে যোগাসন সহজে পারবেন, সেটি দিয়ে শুরু করুন। এর মধ্যে কোনো প্রতিযোগিতা নেই। নিজের শরীরের ক্ষমতা ও সামর্থ্য অনুযায়ী যোগাভ্যাস করা উচিত।

৩. প্রাথমিকভাবে নিজের মধ্যে ব্যায়াম করার শক্তি না থাকলে হতাশ হবেন না। ধৈর্য ধরুন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আপনার শরীর যোগ ব্যায়ামের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেবে।

৪. মনে রাখবেন, আমাদের একেকজনের শরীরের গঠনপ্রকৃতি আলাদা। তাই অন্যের সঙ্গে শক্তি ও অধ্যবসায়ের পার্থক্য থাকবে- এটাই স্বাভাবিক।

৫. সকালে খালি পেটে যোগ ব্যায়াম করা উচিত।

তাদসানা (মাউন্টেন পোজ)

* পর্বতের মতো দাঁড়ান। পেশী শক্ত করে রাখুন।

* দুই পা সামান্য ফাঁকা করে রাখুন।

* ধীরে ধীরে পা উঁচু করুন।

* শরীরের ভার রাখুন পায়ের পাতার ওপর।

* শ্বাস নেওয়ার সময় বাড়াতে থাকুন।

বৃক্ষাসন (ট্রি পোজ)

* ডান পা বাম পায়ের ওপর রাখুন। সমানভাবে রাখুন। ভারসাম্য বজায় রাখুন।

* শ্বাস নেওয়ার সময় দুই হাত একসঙ্গে মাথার ওপর এবং মেরুদণ্ড সোজা রাখুন।

* ধীরে ধীরে শ্বাসত্যাগ করুন এবং ডান পা মাটিতে রাখুন।

* একই পদ্ধতিতে বাম পায়ের ব্যায়াম করুন।

আধো মুখো সওনাসোনা (ডাউনওয়ার্ড ফেসিং ডগ পোজ)

* বুকের পেশী বড় করতে থাকুন। এতে মেরুদণ্ডের শক্তি বাড়বে এবং মস্তিষ্কে দ্রুত রক্ত চলাচল করবে।

* এবার হিলের ওপর বসে পড়ুন। ধীরে ধীরে হাত সামনে রাখুন। মাথা নিচু করতে থাকুন।

* হাতের ওপর জোর দিয়ে পা সোজা করুন। ধীরে ধীরে নিতম্ব উঁচু করুন। এভাবে আপনার কোমর শক্ত হবে।

ত্রিকোণাসন (ট্রাইঅ্যাঙ্গেল পোজ)

* প্রথমে দুই পা ফাঁকা করুন। দুই পায়ের অবস্থান হবে ৯০ ডিগ্রি।

* দুই পায়ের পাতার ওপর শরীরের ভার রাখুন। এবার ডান হাত নিচু করে পায়ের পাতার ওপর রাখুন। অন্যদিকে বাম হাত রাখুন মাথার উপর।

* কোমর সোজা রাখুন। শরীর যেন কোনো একদিকে ঝুঁকে থাকে। তবে পেছনের দিকে যেন না যায় সেদিকে খেয়াল রাখবেন। গভীরভাবে শ্বাস নিতে থাকুন।

কুর্সিয়াসন (চেয়ার পোজ)

* দুই পা সামান্য ফাঁকা করুন।

* দুই হাত স্ট্রেচ করুন। কিন্তু কনুই যেন না ঝুঁকে পড়ে সেদিকে খেয়াল রাখবেন। শ্বাস নিয়ে ধীরে ধীরে হাঁটু সামনের দিকে বাড়াতে থাকুন।

* শরীরের অবস্থান এমন হবে যেন মনে হয় আপনি চেয়ারে বসে আছেন।

* এবার দুই হাত সমান্তরালভাবে মেঝেতে রাখুন। শরীরের পেছনের অংশ সোজা রাখুন। গভীরভাবে শ্বাস নিতে থাকুন। হাঁটু যেন পায়ের আঙুলের চেয়ে এগিয়ে না থাকে।

এইচএকে/এএ/এইচএন