কানের ব্যথা কি বারবার ফিরে আসছে? হতে পারে বিরল ক্যানসারের লক্ষণ!
ক্যানসার শরীরের যে কোনো অংশেই হানা দিতে পারে। তবে কানের ক্যানসার অত্যন্ত বিরল হওয়ায় অনেকেই একে সাধারণ ব্যথা ভেবে ভুল করেন। চিকিৎসকদের মতে, সঠিক সময়ে রোগ শনাক্ত না হওয়া এবং অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এই রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। তাই সাধারণ কানের ব্যথাকে অবহেলা করা প্রাণঘাতী হতে পারে।
কখন সতর্ক হবেন?
বিজ্ঞাপন
কানের ব্যথা আমাদের অনেকেরই অতি পরিচিত সমস্যা। সাধারণত ব্যথার ওষুধ খেলে বা ড্রপ ব্যবহার করলে তা কমে যায়। কিন্তু ওষুধ খাওয়ার কয়েক দিন পরেই যদি ব্যথা আবার ফিরে আসে, তবে তাকে কানের ক্যানসারের প্রাথমিক উপসর্গ হিসেবে ধরা যেতে পারে। বিশেষ করে এই ব্যথা যদি তীব্র ও অসহ্য হয়, তবে তা উপেক্ষা করা বিপজ্জনক। অনেক ক্ষেত্রে কানের বাইরের অংশ বা ‘এক্সটারনাল ইয়ার’-এ ত্বকের ক্যানসার হিসেবে এই মারণ রোগের সূচনা হয়। যা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে ভেতরে। আবার অনেক সময় কানের গহ্বর বা কর্ণনালীতে টিউমার তৈরি হয়, যাকে বলা হয় ‘ইয়ার ক্যানাল ক্যানসার’। মধ্যকর্ণ বা ‘মিডল ইয়ার’ আক্রান্ত হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
কানের ক্যানসারের প্রধান লক্ষণগুলো
বিজ্ঞাপন
অস্বাভাবিক তরল নিঃসরণ : কান থেকে ঘন ঘন রক্তপাত হওয়া বা লালচে পুঁজ জাতীয় পদার্থ বের হওয়া।
শ্রবণশক্তি হ্রাস : হঠাৎ কানে কম শোনা বা সারাক্ষণ ভোঁ ভোঁ শব্দ হওয়া (টিনিটাস)।
তীব্র যন্ত্রণা : কানের ভেতরে বা আশেপাশে একটানা অসহ্য ব্যথা থাকা।
অন্যান্য লক্ষণ : রোগটি গুরুতর পর্যায়ে পৌঁছালে কানের পাশের অংশে ফোলা ভাব বা এমনকি চুল পড়ার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
প্রতিকার ও সচেতনতা : প্রাথমিক পর্যায়ে লক্ষণগুলো চিনতে না পারার কারণেই ক্যানসার ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ পায়। তাই কানের ময়লার (সেরুমেন) রঙে পরিবর্তন কিংবা দীর্ঘস্থায়ী কোনো অস্বস্তি হলে ঘরোয়া টোটকার ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।
প্রাথমিক অবস্থায় ধরা পড়লে সঠিক অস্ত্রোপচার বা রেডিওথেরাপির মাধ্যমে এই মরণব্যাধি থেকে পুরোপুরি মুক্তি পাওয়া সম্ভব। সুস্থ থাকার জন্য সচেতনতাই বড় অস্ত্র।
এমএন