থাইরয়েডের সমস্যা বেড়েই চলছে। ফলে এই রোগের সঙ্গে আমরা কমবেশি সকলেই পরিচিত। কিন্তু আপনার যে থাইরয়েডের সমস্যা হয়েছে, কীভাবে বুঝবেন? এসব নিয়েই আজকের আলোচনা-

সাধারণত দুই ধরনের থাইরয়েড দেখা যায়। হাইপোথাইরয়েড ও হাইপারথাইরয়েড। হাইপোথাইরয়েডের ক্ষেত্রে ওজন বেড়ে যাওয়া, ত্বক শুষ্ক দেখানো, ঠাণ্ডা সহ্য করতে না পারা ও ক্লান্তির মতো সমস্যা দেখা যায়।

অপরদিকে হাইপারথাইরয়েডে ওজন হঠাৎ করে কমে যায়। এক্ষেত্রে কোষ্ঠকাঠিন্য, গরম সহ্য করতে না পারা, অবসাদ ও ঋতুস্রাব কম হওয়ার মতো লক্ষণ দেখা যায়।

থাইরয়েড হল আমাদের শরীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থি যা মেটাবোলিজম, হৃদযন্ত্রের কাজ, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা, মস্তিষ্কের বৃদ্ধি-সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ন্ত্রণ করে। থাইরয়েডের সমস্যা থাকলে ওজন বেড়ে যাওয়া বা কমে যাওয়া, অস্টিওপোরোসিস, কিডনি-লিভারের সমস্যা, ভুলে যাওয়ার মতো নানা শারীরিক জটিলতা দেখা যেতে পারে। তাই শরীরে থাইরয়েডের সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শমতো খুব তাড়াতাড়ি চিকিৎসা শুরু করুন।

বেশ কিছু স্বীকৃত লক্ষণ রয়েছে, যা থাকলে আপনার থাইরয়েডের সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। চলুন তাহলে লক্ষণগুলো জেনে নিই-

১। থাইরয়েড থাকলে সকালে সারা শরীরে একটা আড়ষ্টতা থাকে। শরীর কিছুটা ভারীও লাগে। কোনও কাজ করতে ইচ্ছে হয় না। প্রায় সব সময়ই ক্লান্ত থাকে। যদি এমনটা নিয়মিত হয় তবে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

২। অল্পদিনের মধ্যে শরীরে হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া বা বেড়ে যাওয়াও থাইরয়েডের লক্ষণ। এরকম হলে সঙ্গে সঙ্গেই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

৩। থাইরয়েডের সমস্যা দেখা দিলে ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে যায়। সব সময় একটা খিটখিটে ভাবও থেকে যায়। এমনকি, নখও খুব বেশি পরিমাণে ভঙ্গুর হয়ে যায়।

৪। গলার সামনে দিকে মাঝখানে, যেখানে থাইরয়েড গ্রন্থি থাকে, সেখানে কোনও ধরনের ফোলা ভাব থাকলে অবিলম্বে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

৫। থাইরয়েডের ক্ষেত্রে মেয়েদের পিরিয়ডের সমস্যা দেখা যায়। খুব বেশিদিন ধরে বেশি বেশি ঋতুস্রাব হওয়া বা ১-২ দিনের মধ্যে হঠাৎ করে ঋতুস্রাব বন্ধ হয়ে যাওয়াও থাইরয়েডের লক্ষণ।

৬। থাইরয়েডের ফলে তাপমাত্রার প্রতি সহনশীলতা কমে যায়। তাপমাত্রা সামান্য কমলেই বেশি ঠাণ্ডা লাগে আবার সামান্য বেড়ে গেলেই অসহ্য গরম লাগে এবং অতিরিক্ত ঘাম হয়।

৭। প্রায়ই পেটখারাপ বা কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যাও কিন্তু থাইরয়েডের লক্ষণ।