আমরা সবাই নারীদের ব্রেস্ট ক্যান্সারের ঝুঁকি সম্পর্কে জানি এবং কম-বেশি সচেতন, কিন্তু আমরা পুরুষের ব্রেস্ট ক্যান্সারের ঝুঁকি সম্পর্কে তেমন জানি না বা অবহেলা করি। যদিও বিরল, তবে পুরুষেরও ব্রেস্ট ক্যান্সার হতে পারে। ক্লিনিক্যালভাবে প্রমাণিত যে সমস্ত ব্রেস্ট ক্যান্সারের ১% এরও কম পুরুষদের মধ্যে ঘটে। প্রায় ২,৬৫০ পুরুষের ব্রেস্ট ক্যান্সার নির্ণয় করা হয়েছে এবং তাদের মধ্যে আনুমানিক ৫৩০ জন পুরুষ এর মৃত্যুঝুঁকি রয়েছে। সুতরাং, ঝুঁকি ক্ষীণ হলেও এটি অবহেলা করার কোনো সুযোগ নেই। পুরুষের ব্রেস্ট ক্যান্সারের লক্ষণ ও উপসর্গ সম্পর্কে নিজেকে সচেতন করা উচিত।

বয়স্ক পুরুষের বেশি ঝুঁকিতে

সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের মতে, ‌‘বয়সের সঙ্গে সঙ্গে ব্রেস্ট ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে।’ বেশিরভাগ ব্রেস্ট ক্যান্সার ৫০ বছর বয়সের পরে হতে পারে, এমনটাই উল্লেখ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত স্তন স্ক্রীনিং পুরুষদের মধ্যে ব্রেস্ট ক্যান্সারের ঝুঁকির কোনো লক্ষণ সনাক্ত করার একটি কার্যকর উপায় হতে পারে।

দৃশ্যমান কোনো উপসর্গ আছে কি?

পুরুষের ব্রেস্ট ক্যান্সারের অনেকগুলো লক্ষণ রয়েছে। আমেরিকান ক্যান্সার সোসাইটি (ACS) অনুসারে, পুরুষের ব্রেস্ট ক্যান্সারের কিছু সাধারণ লক্ষণ হলো-

* স্তনে ব্যথাহীন পিণ্ড।

* নিপল রিট্রাকশন, আলসারেশন এবং স্রাব।

* স্তনের ডিম্পলিং।

* স্তন বা স্তনের ত্বকের বিবর্ণতা।

যদিও উপরে উল্লিখিত লক্ষণগুলো স্তন ক্যান্সারের প্রাথমিক সতর্কীকরণ লক্ষণ, তবে কিছু লক্ষণ রয়েছে যা দেখলে বুঝতে হবে ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়েছে। লিম্ফ নোড ফুলে যাওয়া, স্তন এবং হাড়ের ব্যথা আরও গুরুতর কিছু বোঝাতে পারে।

পুরুষের কী ধরনের ব্রেস্ট ক্যান্সার নির্ণয় করা যায় এবং কিভাবে?

সিডিসি তিন ধরণের ব্রেস্ট ক্যান্সার সম্পর্কে জানিয়েছে যা পুরুষদের মধ্যে সনাক্ত এবং নির্ণয় করা যেতে পারে।

১. ইনভেসিভ ডাক্টাল কার্সিনোমা: এই ধরনের স্তন ক্যান্সার নালীতে শুরু হয় এবং এরপর নালীর বাইরে স্তনের টিস্যুর অন্যান্য অংশে বৃদ্ধি পায়।

২. ইনভেসিভ লোবুলার কার্সিনোমা: ক্যান্সার কোষগুলো লোবুলে শুরু হয় এবং তারপরে ঘনিষ্ঠভাবে স্তনের টিস্যুতে ছড়িয়ে পড়ে।

৩. ডাক্টাল কার্সিনোমা ইন সিটু (DCIS): এগুলো ইনভেসিভ ব্রেস্ট ক্যান্সারের দিকে নিয়ে যেতে পারে, কারণ এগুলো কেবল নালীগুলোর আস্তরণে থাকে এবং অন্যান্য স্তন টিস্যুতে ছড়িয়ে পড়ে না।

ম্যামোগ্রাম, আল্ট্রাসাউন্ড, স্তনের স্রাব পরীক্ষা বা বায়োপসির সাহায্যে পুরুষ ও নারীর ব্রেস্ট ক্যান্সার নির্ণয় করা যেতে পারে। স্তনের নিয়মিত স্ব-পরীক্ষাও রোগ নির্ণয়ে সাহায্য করতে পারে।

জিন কি ভূমিকা পালন করে?

ব্রেস্ট ক্যান্সারও জেনেটিক মিউটেশনের ফলাফল হতে পারে। পারিবারিক ইতিহাস থাকলে পুরুষও ব্রেস্ট ক্যান্সারের ঝুঁকিতে থাকতে পারে। যেসব পুরুষের উত্তরাধিকারসূত্রে অস্বাভাবিক BRCA1 বা BRCA2 জিন রয়েছে তাদের ব্রেস্ট ক্যান্সারের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। যাই হোক, পুরুষের ব্রেস্ট ক্যান্সারের জন্য জেনেটিক মিউটেশনই একমাত্র কারণ নয়।

চিকিৎসা

টিউমারের আকারের ওপর নির্ভর করে, ডাক্তার সম্ভাব্য চিকিত্সার পরামর্শ দেবেন। ব্রেস্ট ক্যান্সারের কিছু চিকিত্সা হলো সার্জারি, কেমোথেরাপি, রেডিয়েশন থেরাপি, হরমোন থেরাপি, এবং টার্গেটেড থেরাপি।

টাইমস অব ইন্ডিয়া অবলম্বনে