শরীর ভালো কি না তার খবর প্রায় সবাই নেন। কিন্তু মনের খবর ক’জন রাখেন। এমনকী যার মন খারাপ সে নিজেও অনেক সময় বুঝতে পারে না! কারণ হাজারটা কাজ আর ব্যস্ততার কারণে মন নিয়ে ভাবার সময় হয় না আমাদের। এদিকে বিশ্বজুড়ে মহামারী আমাদের নানাভাবে ক্লান্ত, বিপর্যস্ত করে দিয়েছে। মন ভালো না থাকার আছে অসংখ্য কারণ। তবু মন ভালো রাখতে হবে। কারণ শরীরের মতোই মনেরও প্রয়োজন যত্নের। নয়তো মন খারাপ থেকে আরও অনেক অসুস্থতা দেখা দিতে পারে। পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে চলতে হবে। মন ভালো রাখার জন্য করতে হবে এমন সব কাজ, যেগুলো মন ভালো রাখতে সাহায্য করে।

শীতল বাতাসে

খোলা হাওয়া আপনার মন ভালো করে দিতে পারে। দিনের মধ্যে কিছুটা সময় খোলা হাওয়ায় হাঁটাহাঁটি করুন। ঠান্ডা বাতাস আপনার মনও জুড়িয়ে দেবে। উঠোনে, ছাদে কিংবা বেলকনিতে হাঁটুন। কফির কাপ হাতে বারান্দায় কিছুটা সময় কাটান। মন খারাপের ভাবটা কেটে যাবে। প্রতিদিন সকালে হাঁটার অভ্যাস করতে পারলেও শরীর ও মন থাকবে ফুরফুরে।

মন ভালো রাখার খাবার

আমাদের মন ভালো কিংবা খারাপের সঙ্গে কিন্তু খাবারেরও খানিকটা সম্পর্ক রয়েছে। এমন অনেক খাবার আছে যেগুলো খেলে বিষণ্নতা ভর করে। আবার অনেক খাবার আমাদের মন ভালো করে দিতে পারে। তাই এমন সব খাবার খান যেগুলো খেলে মন ভালো থাকে। ডার্ক চকোলেট, কফি, রঙিন সবজি. নানা ধরনের বাাম মন ভালো রাখতে সাহায্য করে। খাবারের তালিকায় এগুলো যুক্ত করুন। তবে খুব বেশি খেয়ে ফেলবেন না।

প্রিয়জনের সঙ্গে

মন ভালো করার আরেকটি উপায় হলো প্রিয়জনের সঙ্গে কথা বলা। তাদের সঙ্গে সময় কাটানো। যদি দেখা করা সম্ভব না হয় তবে ফোনে বা ভিডিও কলে কথা বলুন। এতেও মন অনেকটা হালকা হবে। যে কথাগুলো অন্য কারও সঙ্গে বলা যায় না, ঘনিষ্ঠজনের সঙ্গে তা ভাগাভাগি করে নিন। এতে মনের মধ্যে চেপে থাকা কষ্ট কমবে অনেকটাই।

অন্যের জন্য

শুধু নিজেকে নিয়ে চিন্তা করলে তা আপনার বিষন্নতা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। আমাদের জীবন শুধু নিজেকে নিয়ে নয়। তাই চিন্তা করতে হবে আশেপাশের সবাইকে নিয়েও। অন্যের জন্য করা যেকোনো ভালো কাজ আপনার মন ভালো করে দিতে পারে। নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী সাহায্য করুন, উপহার দিন, পশু-পাখিদের খেতে দিন। মন ভালো হবে অনায়াসে।

নিয়ম মানুন

সবকিছুতেই শৃঙ্ক্ষলা থাকা জরুরি। নিয়ম মেনে চলার চেষ্টা করুন। খাবার, ঘুম, কাজ সবকিছু হোক নিয়ম মেনে। এতে মনের ওপর থাকা বাড়তি চাপ কমে যাবে অনেকটাই। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে আক্রান্ত হওয়ার ভয় কমবে অনেকটাই। বাড়তি দুশিন্তা কমলে মনও থাকবে ভালো।

এইচএন