নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত পদ্মা সেতু নি‌য়ে বাংলাদেশের সাহসের প্রশংসা করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত লি জি‌মিং। বৃহস্পতিবার (২৩ জুন) রা‌তে নি‌য়ে ‘রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে এক মিনিট’ অনুষ্ঠানে এ প্রশংসা ক‌রেন তিনি।

চীনা রাষ্ট্রদূত ব‌লেন, ‘সেতুটি আমার কাছে সাহসের একটি প্রতীক। স্বল্পোন্নত দেশ বাংলাদেশ এমন সেতু নির্মাণ করতে পারবে কি না তা নিয়ে সংশয় ছিল। তারপরও বাংলাদেশের মানুষ তাদের স্বপ্ন অনুসরণ করার সিদ্ধান্ত নেয়। আজ সেতুটি শুধু বাস্তবায়নই হয়নি, বাংলাদেশের নিজস্ব অর্থায়নে এর শতভাগ নির্মিত হয়েছে। এতে প্রতীয়মান হয় যে, যদি সাহসের কোনো সীমা না থাকে, তবে আকাশ তার সীমা।’

লি জি‌মিং ব‌লেন, ‘পদ্মা সেতু একটি সংকল্পের প্রতীক। সেতুটি নির্মাণে সময় লেগেছে আট বছর। শক্তিশালী পদ্মার স্রোতধারার ওপর এর অবয়ব একটি গল্প বলছে যে, কীভাবে মানব প্রকৌশল প্রকৃতির শক্তিকে জয় করেছে। নদী হয়তো হাজার বছর ধরে বহমান, কিন্তু এর চেয়ে বেশি টেকসই হলো সেই মানুষদের অধ্যবসায়, যারা একদম শূন্য থেকে সেতুটি তৈরি করেছে।’

আরও পড়ুন : পদ্মা সেতুতে দাঁড়িয়ে ছবি তোলা নিষেধ

রাষ্ট্রদূত ব‌লেন, ‘বহুল প্রতীক্ষিত পদ্মা বহুমুখী সেতু অবশেষে উদ্বোধন হতে যাচ্ছে, আর এক দশকের স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে। এ পর্যায়ে আমি এ অসামান্য অর্জনের জন্য বাংলাদেশের জনগণকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাতে চাই।’

থ্রিডি প্রিন্টিং প্রযুক্তিতে তৈরি পদ্মা সেতুর ক্ষুদ্রাকৃতির অবয়ব সামনে নিয়ে তিনি বলেন, ‘সেতুটির নির্মাণ কাজ বাস্তবায়নকারী কোম্পানি চায়না রেলওয়ে মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপ বা এমবিইসি এটিকে আমার কাছে একটি স্মারক হিসেবে পাঠিয়েছে।’

পদ্মা সেতুকে সমৃদ্ধির প্রতীক উল্লেখ ক‌রে লি জি‌মিং ব‌লেন, ‘বিশেষজ্ঞরা ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন যে, সেতুটি বাংলাদেশের জিডিপি ১ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি করতে পারে এবং বাংলাদেশের অর্ধেক জনসংখ্যাকে উপকৃত করতে পারে। এটি কেবল এ দেশ  ও অঞ্চলকে সংযুক্ত করবে না, বরং অভিন্ন সমৃদ্ধি এবং একটি সমন্বিত ভবিষ্যতের পথে পরিচালিত করার মাধ্যমে আমাদের দুদেশের মানুষকে হৃদয় দিয়ে সংযুক্ত করবে।’

এনআই/আরএইচ