তীব্র ব্যথার ওষুধ মরফিন-প্যাথেডিন। তবে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ওষুধ দুটিকে ‘ক’ শ্রেণীর মাদক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।  সেজন্য চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া কারো কাছে এসব ওষুধ বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, বিক্রি করলে সেক্ষেত্রে মাদক হিসেবে গণ্য হবে।

শুধু তাই নয়, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের অনুমতি ছাড়া মরফিন-প্যাথেডিন ফার্মেসিতে বিক্রির সুযোগ নেই। ওষুধ দুটি বিক্রির ক্ষেত্রে ফার্মেসিগুলোর লাগে পূর্বানুমতি। তবে নিয়মের তোয়াক্কা করছে না কিছু ফার্মেসি। ৪০ টাকার মরফিন বিক্রি করছে তিনশ থেকে চারশ টাকায়। এক ফার্মেসি আরেক ফার্মেসিতে যেমন বিক্রি করছে, তেমনি আবার মাদকসেবীদের কাছেও বিক্রি করছে। 

রোববার বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাবর রোডের লতিফ মঞ্জিল ভিলায় অভিযান চালিয়ে মরফিন ইনজেকশনের ১ হাজার ৫০ অ্যাম্পুল ও প্যাথেডিনের ৩৫০ অ্যাম্পুল জব্দের পাশাপাশি দুজনকে আটক করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) ঢাকা মেট্রোর (উত্তর) একটি দল। আটকরা হলেন, মেডিসিন কর্নারের ওষুধ বিক্রেতা লিয়াকত আলী ও জান্নাত ফার্মেসির মালিক জসিম উদ্দিন।

ডিএনসির ঢাকা মেট্রো (উত্তর) কর্মকর্তারা বলছেন, এটি ওষুধ হলেও মাদক হিসেবে খুবই ভয়াবহ। বেশি লাভের আশায় মরফিন-প্যাথেডিন ইনজেকশন মাদকসেবীদের হাতে তুলে দিচ্ছে অসাধু ব্যবসায়ীরা। দীর্ঘদিনের অনুসন্ধানে এ চক্রের সন্ধান মিলেছে। আটকদের মূলহোতা লিয়াকত। তিনি দীর্ঘ দিন ধরে অনুমোদন ছাড়া বাইরে মরফিন ও প্যাথেডিন বেশি দামে বিক্রি করে আসছিলেন।

ঢাকা মেট্রো (উত্তর) কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মেহেদী হাসান ঢাকা পোস্টকে বলেন, গোয়েন্দা তথ্য ছিল, একটি চক্র রাজধানীতে অবৈধভাবে মরফিন ও প্যাথেডিন বিক্রি করছে। এতে আমরা গোয়েন্দা নজরদারি বাড়িয়ে দিই। ক্রেতা সেজে আমরা চক্রের মূলহোতাকে শ্যামলী সেন্ট্রাল হাসপাতালের সামনে থেকে আটক করি। এরপর মোহাম্মদপুরের বাবর রোডের ২১/১৬ লতিফ মঞ্জিল নামক বাসায় নিচ তলায় অভিযান চালিয়ে জান্নাত ফার্মেসির জসিম উদ্দিনকে আটক করি। দুজনের কাছ থেকে মোট ১৪শ মরফিন ও প্যাথেডিন ইনজেকশনের অ্যাম্পুল জব্দ করা হয়েছে। তাদের পেছনে আরও কয়েকজন জড়িত। তাদের বেশ কয়েকজনের নাম জেনেছি। কোন কোন  ফার্মেসি এর পেছনে জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

অভিযানে অংশ নেওয়া ঢাকা মেট্রো (উত্তর) কার্যালয়ের তেজগাঁও জোনের ইন্সপেক্টর হাওলাদার মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমরা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি, বাবর রোডের জনসেবা ক্লিনিক থেকে মরফিন ও প্যাডেথিন নিয়মিত কেনেন  লিয়াকত। তিনি নিজে কলেজ গেটের মেডিসিন কর্নারের কর্মচারী। জনসেবা ক্লিনিকের ম্যানেজার শাহিনের কাছ থেকে এসব কেনেন ১৩৮ টাকা দরে। তিনি প্রতি পিস বিক্রয় করেন ১৫০ থেকে ১৬৮ টাকায়। মাদকসেবীদের কাছে যা বিক্রি হয় তিন থেকে চারশ টাকায়।

তিনি বলেন, জান্নাত ফার্মেসি আবার অন্যান্য ফার্মেসিতে যেমন বিক্রি করে, তেমনি মাদকসেবীদের কাছেও বেশি দামে বিক্রি করে, যা সম্পূর্ণ অবৈধ ও স্বাস্থ্যগতভাবে ব্যাপক ঝুঁকিপূর্ণ। গোডাউনটি জান্নাত ফার্মেসির। জসিম উদ্দিন এর মালিক। এখানেই মরফিন ও প্যাথেডিন মজুদ করে রাখা হয়েছিল। আইন অনুযায়ী এসব ওষুধ শুধুমাত্র চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্রের চাহিদায় বিক্রি করা যাবে। ফার্মেসিতে বিক্রি করতে হলে নারকোটিক ও ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের অনুমতি লাগবে।

মাদক হিসেবে মরফিন-প্যাথেডিনের ব্যবহার অনেক ভয়াবহ উল্লেখ করে এ ইন্সপেক্টর বলেন, মরফিন ও প্যাথেডিন ক-শ্রেণীর মাদক। এটি বার বার ব্যবহারে শিরা ফুলে যায়। মাদকসেবীরা একাধিকজন প্যাথেডিন ইনজেকশন একই সিরিঞ্জে ব্যবহার করে থাকেন। মাদকের যে খারাপ দিকগুলো রয়েছে, তার মধ্যে এটি ব্যবহারগত দিক থেকে অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। এসব ইনজেকটিং মাদক একাধিকজনে ব্যবহারের ফলে এইডস, হেপাটাইসিস বি হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি।

জেইউ/আরএইচ