এনবিআর প্রধান কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে সভা/ ছবি- ঢাকা পোস্ট

বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো কর্মীদের ১৮৩ দিনের বিশেষ করমুক্ত সুবিধার সুযোগ নিয়ে আয়কর ফাঁকি দেয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

রোববার (২১ মার্চ) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রধান কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে ২০২১-২০২২ অর্থবছরের প্রাক-বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে ইনিস্টিটিউট অব চার্টার্ড একাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশের (আইসিএবি) প্রেসিডেন্ট মাহমুদ উল হাসান খসরু সংগঠনের পক্ষে এ দাবি করেন।

আলোচনায় ২০২১-২০২২ অর্থবছরে ব্যবসাবান্ধব আয়কর ব্যবস্থার ‌বাজেট প্রত্যাশা করে দি ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড একাউন্টেন্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএবি)। এ সংগঠনের পক্ষ থেকে আয়কর সংক্রান্ত ৪৪টি, ভ্যাট সংক্রান্ত ২১টি ও কাস্টমস আইন সংক্রান্ত ৫টি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

পার্মানেন্ট স্ট্যাবলিশমেন্টের (পিই) সংজ্ঞায় নতুন বিধান সংশোধনের প্রস্তাব দিয়ে মাহমুদ উল হাসান খসরু বলেন, দ্বৈত কর চুক্তি অনুযায়ী কোনো প্রকল্প বাস্তবায়ন কাল ১৮৩ দিনের বেশি চললে উক্ত প্রকল্পকে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের বাংলাদেশে অবস্থিত পিই (PE) বলা হয়। দেখা গেছে পিই হওয়া বিষয়টি এড়ানোর জন্য বিদেশি প্রতিষ্ঠান তাদের বিভিন্ন কর্মীদের স্বল্প সময়ের জন্য বাংলাদেশে পাঠায়, যাতে তাদের কারোরই বাংলাদেশে এককভাবে অবস্থানকাল ১৮৩ দিনের বেশি না হয়। এভাবে তারা কর ফাঁকি দেয়। কাজেই, আইনের ধারা ২ (৪৪) (এ) এর পরিবর্তন করা প্রয়োজন। এছাড়াও দ্বৈত কর চুক্তির সংশোধনকাজও শুরু করা দরকার। পিই-এর সংজ্ঞায় নতুন এ বিধান সংযোজন প্রয়োজন, যা বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের ব্যক্তিগত বা সম্মিলিতভাবে বাংলাদেশের অবস্থানকালের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।

প্রস্তাবনায় দালান ও ফ্যাক্টরি দালান অবচয়ের হার ১০ ও ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৪ ও ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাবে বলা হয়েছে, সাধারণ দালান ২৫ থেকে ৫০ বছর ব্যবহার করা যায় এবং ফ্যাক্টরি দালান ২০ থেকে ৩০ বছর ব্যবহার করা যায়। বর্তমানে উচ্চ হারে অবচয় প্রদানের কারণে করদাতা শুরুর বছরগুলোতে কম কর প্রদান করে। তাই অবচয় হার কমানোর প্রস্তাব করা হয়।

এছাড়া সংগঠনটির পক্ষ থেকে করপোরেট কর আড়াই শতাংশ কমানোর প্রস্তাবও করেছে আইসিএবি। আইসিএবি প্রেসিডেন্ট বলেন, আমরা প্রত্যাশা করছি ২০২১-২০২২ অর্থবছরে জাতীয় বাজেট হবে সহজ ব্যবসাবান্ধব দক্ষ আয়কর ব্যবস্থা; বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে করোনা পরবর্তী ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ পুনরুদ্ধারকরণ; আয়কর ও মূল্য সংযোজন করের আওতা বৃদ্ধি এবং কর প্রদানে উৎসাহিতকরণে সচেতনতা বৃদ্ধি; আয়কর সংগ্রহে স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ; কর ব্যবস্থা অটোমেশন; রফতানি বহুমুখীকরণ এবং স্থানীয় শিল্পায়ন উৎসাহিতকরণ; বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও আধিকতর রাজস্ব আহরণবান্ধব হবে।

এছাড়া সংগঠনটির পক্ষ থেকে করপোরেট কর আড়াই শতাংশ কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। সংগঠনটি মনে করে, করপোরেট কর হার হ্রাস করলে বাংলাদেশি কোম্পানিগুলো অধিকতর প্রতিযোগিতামূলক হবে। এতে করে দেশের অর্থনীতি সুদৃঢ় হবে এবং করপোরেট কর হার হ্রাস বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণে সহায়তা করবে। 

বর্তমানে ননলিস্টেড কোম্পানির ক্ষেত্রে করপোরেট কর হার সাড়ে ৩২ শতাংশ, লিস্টেড কোম্পানির ক্ষেত্রে ২৫ শতাংশ।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন (ভার্চুয়ালি) এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম। অনুষ্ঠানে এনবিআরের আয়কর নীতির সদস্য মো. আলমগীর হোসেন, সদস্য সৈয়দ গোলাম কিবরিয়া, ভ্যাট নীতির সদস্য মো. মাসুদ সাদিকসহ বাজেট সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আরএম/এইচকে