গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী তামাক ও ধূমপানের বিরুদ্ধে সবসময় সোচ্চার ছিলেন, এমনকি তার গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে কোনো ধূমপায়ীকে চাকরি দিতে চাইতেন না তিনি বলে জানিয়েছেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের রোগতত্ত্ব ও গবেষণা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী।

রোববার (৩০ এপ্রিল) বিকেলে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর প্রতি শ্রদ্ধা ও স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানে অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

সোহেল রেজা চৌধুরী বলেন, ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী ছিলেন খুবই দূরদর্শী একজন মানুষ। তার চিন্তাচেতনা ছিল খুবই তীক্ষ্ণ। আমরা এখন ধূমপান প্রতিরোধে কাজ করছি, তামাক বন্ধে আন্দোলন করছি। কিন্তু আশির দশকেই ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী তামাক ও ধূমপানের ব্যাপারে সচেতন ছিলেন এবং নিজ অবস্থান থেকে কঠোর পদক্ষেপ নিতেন। সেই সময়ে দেখতাম গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে কোনো নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হলে সেখানে লিখে দেওয়া হতো, ‘ধূমপায়ীদের আবেদন করার প্রয়োজন নেই’।

তিনি আরও বলেন, ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর সঙ্গে আমার কোনো আদর্শিক মিল নেই, কিন্তু তার সততা আর ন্যায়ের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান আমার কাছে খুবই অনুপ্রেরণার। তিনি দেশের জন্য এবং দেশের মানুষের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করে গেছেন।

ঢাকা কমিউনিটি হাসপাতালের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. কাজী কামরুজ্জামান বলেন, জাফরুল্লাহ নেই, তার প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। কোনোভাবেই যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। তার কাজগুলো যেন আরও ভালো করে চলতে থাকে, সে লক্ষ্যে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ডা. জাফরুল্লাহ কোনো শিল্পপতি ছিলেন না, কিন্তু অনেক শিল্পের আইডিয়া জাফরুল্লাহর কাজ থেকে এসেছে। তার প্রতিষ্ঠিত ফার্মাসিউটিক্যালস দেশের অন্যান্য ফার্মাসিউটিক্যালসগুলোর জন্য আদর্শ মডেল হিসেবে কাজ করেছে। তিনি এমন আরও অনেক কিছু আমাদের জন্য করে গেছেন, যা সারাজীবন মানুষ মনে রাখতে বাধ্য।

ঢাকা কমিউনিটি হাসপাতালের চেয়ারম্যান ড. কাজী কামরুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিকার আন্দোলন জাতীয় কমিটির সভাপতি ড রশিদ-ই-মাহবুব, মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ড. লেনিন চৌধুরী, ডাকসুর সাবেক সাধারণ সম্পাদক ডা. এম মুশতাক হোসেন, নারী স্বাস্থ্য প্রকল্পের পরিচালক সামিয়া আফরীন প্রমুখ।

টিআই/এফকে