বিধিনিষেধের চতুর্থ দিনে ভিড় বেড়েছে রাজধানীর রাস্তায়/ ছবি- ঢাকা পোস্ট

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সরকার ঘোষিত বিধিনিষেধের চতুর্থ দিন চলছে। বিগত কয়েকদিন রাস্তায় মানুষ খুব একটা চলাচল না করলেও আজ (১৭ এপ্রিল) রাস্তায় মানুষের উপস্থিতি বেড়েছে। সরকার ঘোষিত বিধিনিষেধে সব গণপরিবহন বন্ধ থাকায় জরুরি প্রয়োজনে যারা বাইরে বের হয়েছেন তারা পড়েছেন ভোগান্তিতে।

‘সরকার ঘোষিত বিধিনিষেধে কেন বের হয়েছেন’ এ বিষয় নিয়ে রাজধানীর রামপুরা ব্রিজে কথা হয় বেসরকারি চাকরিজীবী জুবায়ের আল হাসানের সঙ্গে। তিনি বলেন, নামমাত্র লকডাউন চলছে, অনেক কিছুই খোলা আছে। আমি একটি বেসরকারি কোম্পানির মার্কেটিংয়ে কাজ করি। আমার অফিস তো আমাকে ছুটি দেয়নি। এভাবে অনেক অফিস আছে যেগুলো চলছে। সব কিছু খোলা রাখলে কীভাবে লকডাউন হবে?

গণপরিবহন না থাকায় ভরসা এখন রিকশা ও মোটরসাইকেলে/ ছবি- ঢাকা পোস্ট

তিনি আরও বলেন, আমার মতো এমন হাজার হাজার মানুষ আছে যারা ছুটি পায়নি। তারা চাকরি বাঁচাতে প্রতিদিনই বের হচ্ছে। আবার যেসব অফিস খোলা থাকবে সেগুলো নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থায় কর্মীদের অফিসে আনা-নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কয়টা অফিস এটা মানছে? আমরা এই লকডাউনের কয়দিন কখনও হেঁটে, কখনও অতিরিক্ত রিকশা ভাড়া দিয়ে চলাচল করছি। তাহলে কি আমরা বের হচ্ছি ইচ্ছে করে, নাকি আমাদের জোর করে বের করানো হচ্ছে?

গুলশান বাড্ডা লিংক রোডে কথা হয় আরেক পথচারী সুলতান আহমেদের সঙ্গে। তিনিও বলেন একই ধরনের কথা। সুলতান আহমেদ বলেন, দিন যত যাচ্ছে রাস্তায় তত মানুষ বাড়ছে। প্রথম দিন একেবারেই মানুষ ছিল না রাস্তায়, দ্বিতীয় দিনে অনেক মানুষ রাস্তায় বের হয়েছে। তৃতীয় দিন শুক্রবার হওয়ায় মানুষের কম উপস্থিতি ছিল রাস্তায়। আজ (শনিবার) আবার এই সংখ্যা বেড়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান তাদের কর্মীদের নিয়ে কাজ করিয়ে নিচ্ছে। যে কারণে আমরা বাধ্য হয়ে কাজে বের হচ্ছি। কিন্তু গণপরিবহন না থাকায় রিকশা বা মোটরসাইকেলে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। অনেকেই হেঁটে চলছে।

খ্যাপে চলছে মোটরসাইকেল, অতিরিক্ত ভাড়ায় রিকশা
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সরকার ঘোষিত বিধিনিষেধের চতুর্থ দিন চলছে। গণপরিবহন বন্ধ রয়েছে। ফলে যারা জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হচ্ছেন তাদের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা এখন রিকশা ও খ্যাপের মোটরসাইকেল।

অন্যান্য গণপরিবহন বন্ধ থাকায় ও রাস্তায় মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় চাহিদা বেড়েছে রিকশার। এতে করে স্বাভাবিক ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত ভাড়ায় যাত্রীদের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যেতে হচ্ছে বলে অভিযোগ জানাচ্ছেন।

অন্যদিকে রিকশাচালকরা বলছেন, করোনা পরিস্থিতিতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাত্রী আনা-নেওয়ার করায় কিছুটা বেশি ভাড়া চেয়ে নিচ্ছেন তারা।

বিধিনিষেধের চতুর্থ দিনে রাজধানীর রাস্তা/ ছবি- ঢাকা পোস্ট

রিকশার পাশাপাশি আজ সড়কে দেখা গেছে খ্যাপের মাধ্যমে যাত্রী পরিবহন করছেন মোটরসাইকেল চালকরা। সরকার ঘোষিত কঠোর বিধিনিষেধ চলাকালে রাইট শেয়ারিং সার্ভিস বন্ধ থাকলেও খ্যাপের মাধ্যমে মোটরসাইকেলে যাত্রী পরিবহণ করা হচ্ছে। কিন্তু তুলনামূলক বেশি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে যাত্রীদের কাছ থেকে।

খ্যাপে যাত্রী নিতে রাজধানীর উত্তর বাড্ডায় অপেক্ষায় করছিলেন আসিফ আহমেদ নামের একজন। তিনি বলেন, আমি রাইড শেয়ারিং করেই সংসার চালাই। লকডাউনে কীভাবে বাসায় থাকি? প্রথম তিনদিন বের হইনি, আজ বের হলাম। যাত্রী বহন করছি। চেকিং দেখলে দূরেই যাত্রী নামিয়ে দেই। যাত্রীকে বলি আপনি এইটুকু হেঁটে যান, চেকিং পাড় হয়ে উঠেন। এভাবেই চুপেচাপে চলছি। আমার পরিচিত অনেকেই এভাবে যাত্রী পরিবহন করছে আজ। যদিও যাত্রীর তুলনায় মোটরসাইকেল কম থাকায় অনেকেই ভাড়া কিছুটা বেশি নিচ্ছেন।

এএসএস/এইচকে