সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত আশা চৌধুরী

  •  এখনও ট্রাকচালককে খুঁজে পায়নি পুলিশ
  •  বাইকচালকের সংশ্লিষ্টতাও খুঁজে দেখা হচ্ছে
  •  আশার বাবার অভিযোগও কথিত ভাইয়ের (শামীম) বিরুদ্ধে

রাজধানী মিরপুরের দারুস সালাম এলাকায় সোমবার (৪ জানুয়ারি) রাতে দ্রুতগামী ট্রাকের চাপায় নিহত হয়েছেন টেলিভিশন অভিনেত্রী আশা চৌধুরী। তবে ঘটনার ৩৬ ঘণ্টার বেশি সময় পার হলেও এখনও ট্রাকটি শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। ফলে এখনও গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি ঘাতক ট্রাকটির চালককে।

এদিকে, আশা যে মোটরসাইকেলে ছিলেন এর চালককে দুর্ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থল থেকে আটক করেছে দারুস সালাম থানা পুলিশ।

পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আশা যেই মোটরসাইকেলে ছিলেন সেটি চালাচ্ছিলেন তার দূর সম্পর্কের ‘ভাই’। এ ঘটনায় তার (মোটরসাইকেল চালক) সংশ্লিষ্টতা খুঁজছে পুলিশ। আশার মৃত্যুর ঘটনায় সড়ক পরিবহন আইনে একটি মামলা হয়েছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দারুস সালাম থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সোহান আহমেদ ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘ট্রাকটি এখনও শনাক্ত করতে পারিনি। চালকের নাম-পরিচয়ও পাওয়া যায়নি। আমরা এসব শনাক্তে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। আশা করি, দ্রুত শনাক্ত হয়ে যাবে এবং চালককে গ্রেফতার  করতে পারব।’

এ ঘটনায় আশা যে মোটরসাইকেলে ছিলেন তার চালক শামীম আহমেদকে আমরা সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে আটক করেছি। আমরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছি।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা

সহশিল্পীদের সঙ্গে অভিনেত্রী আশা চৌধুরী

সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে আটক শামীম আহমেদ (৩৫) পুলিশের কাছে নিজেকে আশার দূর সম্পর্কের ভাই বলে দাবি করেছেন। দুর্ঘটনার পরপরই তাকে ঘটনাস্থল থেকে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।

এদিকে, দুর্ঘটনার সময় পেছনে থাকা একটি গাড়ির ক্যামেরায় ধারণকরা ভিডিওতে দেখা যায়, একটি পিকআপের পেছনে মোড় ঘুরতে দাঁড়িয়েছিল আশাকে বহন করা মোটরসাইকেলটি। হঠাৎ করে দ্রুতগতির একটি ট্রাক মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দেয়। সঙ্গে সঙ্গে চালক ডান দিকে এবং আশা বাম পাশে ট্রাকের সামনে গিয়ে পড়েন। ট্রাকে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান এ টেলিভিশন অভিনেত্রী। থেঁতলে যায় মুখ। মিনিটের মধ্যেই মোটরসাইকেল চালক দৌড়ে গিয়ে দেখেন সড়কে পড়ে আছে আশার নিষ্প্রাণ দেহ।

ভিডিও অনুযায়ী শামীম আহমেদকে ‘নির্দোষ’ মনে হলেও তাকে কেন আটক করা হয়েছে- এমন প্রশ্নের জবাবে এসআই সোহান আহমেদ বলেন, ‘তার (শামীম আহমেদ) বাড়ি ঝিনাইদহে। সে নিহত আশার দূর সম্পর্কের ভাই হয়। আমরা সন্দেহ করছি, সে পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটাতে পারে। যদিও শামীম আহমেদ নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। তবে সবকিছুই এখন পর্যন্ত ধারণা। আমাদের তদন্ত চলছে, শেষ হলে বিস্তারিত বলা যাবে।’

ট্রাক ও চালককে শনাক্তের কাজ চলছে। শামীম আটক আছেন। আশার পরিবার সন্দেহ করছে, শামীম ইচ্ছাকৃতভাবে এই দুর্ঘটনার পরিকল্পনা করতে পারে। তাই আমরা তাকে হেফাজতে রেখেছি।

দারুস সালাম জোনের পুলিশের সহকারী কমিশনার (এসি) মিজানুর রহমান

ঘটনাস্থলে আশার মরদেহ

এ বিষয়ে আশার বাবা আবুল কালাম ঢাকা পোস্টকে জানান, শামীমের সঙ্গে তাদের পারিবারিক সম্পর্ক নেই। তবে আশা তাকে ‘ভাই’ বলে সম্বোধন করত। শামীম মাঝেমধ্যেই আশাকে মোটরসাইকেলে বাড়িতে পৌঁছে দিত। দুর্ঘটনার ২-৩ দিন আগে আশা বলেছিল, ‘আম্মু শামীম ভাইয়ের মোটরসাইকেলে আমার উঠতে ভয় লাগে, উনি যেন কেমন করে চালায়’।

ঘটনার দিন শামীম আমাকে ফোন দিয়ে বলে, আশাকে রাত ১০টার মধ্যে বনানী থেকে মিরপুরে বাসায় পৌঁছে দেবে। এরপরও রাত দেড়টা পর্যন্ত কেন তারা বাসায় ফেরেনি? আড়াই ঘণ্টা কোথায় ছিল? তাই আমাদের সন্দেহ হচ্ছে, সে ইচ্ছাকৃতভাবে আশাকে দুর্ঘটনার কবলে ফেলেছে।

আশার বাবা

মঙ্গলবার (৫ জানুয়ারি) শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আশার মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়।

নিহত আশা বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজিতে (বিইউবিটি) আইন বিভাগের ছাত্রী ছিলেন। তিনি মিরপুরের রূপনগরের ২০ নম্বর রোডের ৩৭ নম্বর বাসায় থাকতেন। তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশনের তালিকাভুক্ত শিশুশিল্পী ছিলেন। বর্তমানে নিয়মিত প্যাকেজ নাটক, টেলিফিল্ম ও ধারাবাহিকে অভিনয় করতেন।

এমএসি/এআর/এফআর