ধর্ষণের প্রতীকী ছবি

• ধর্ষণের ঘটনা লুকাতে চেয়েছিল ফারদিন, অভিযোগ আনুশকার বাবার 
• মামলা হয়েছে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে 
• কোচিংয়ের পেপার আনতে যাওয়ার কথা বলে বেরিয়েছিল আনুশকা 
• আসলে সে গিয়েছিল কলাবাগানের ডলফিন রোডে বন্ধু দিহানের বাসায় 
• ওই বাসা থেকেই অজ্ঞান অবস্থায় আনুশকাকে নেওয়া হয় হাসপাতালে 
• হাসপাতালে নেওয়ার পর আনুশকাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক  

রাজধানীর কলাবাগানে মাস্টারমাইন্ড স্কুলের ‘ও’ লেভেলের শিক্ষার্থী আনুশকা নূর আমিনকে ধর্ষণের ঘটনা লুকাতে চেয়েছিল অভিযুক্ত ইফতেখার ফারদিন দিহান। এজন্য আনুশকাকে অচেতন অবস্থায় দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যায় সে। মামলার এজাহারে আনুশকার বাবা মো. আল আমিন এ অভিযোগ করেছেন।  

বৃহস্পতিবার (০৮ জানুয়ারি) রাতে কালবাগান থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে তিনি মামলাটি দায়ের করেন।  

মামলার এজহারে মো.আল আমিন অভিযোগ করেন, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে নয়টার মধ্যে তিনি ও তার স্ত্রী কর্মস্থলের উদ্দ্যেশ্যে বাসা থেকে বের হন। বেলা সাড়ে ১১টায় আনুশকা কোচিংয়ের পেপার আনতে বাইরে যাচ্ছে বলে ফোনে তার মাকে জানায় । বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে আনুশকা বাসা থেকে বের হয়ে যায়।

তিনি এজাহারে বলেন, দুপুর ১টা ১৮ মিনিটে দিহান আনুশকার মাকে ফোন দেয়। সে জানায়, আনুশকা তার বাসায় গিয়েছিল। সেখানে হঠাৎ অচেতন হয়ে পড়লে তাকে রাজধানীর আনোয়ার খান মর্ডান মেডিকেল কলেজ হাসপাতলের জরুরী বিভাগে ভর্তি করায়। এ কথা শুনে আনুশকার মা ১টা ৫২ মিনিটে হাসপাতালে পৌছায়। সেখানে গিয়ে তিনি কর্তব্যরত চিকিৎসকের কাছে জানতে পারেন আনুশকাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে।

আনুশকার বাবা এজাহারে বলেন, তারা বিভিন্নভাবে জানতে পেরেছেন, দিহান তার মেয়েকে প্রেমে প্রলুব্ধ করে ধর্ষণের উদ্দেশ্যে বেলা ১২টার দিকে বাসায় ডেকে নিয়ে যায়। পরে দিহান ফাঁকা বাসায় তার মেয়েকে ধর্ষণ করে। ধর্ষণে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়ে আনুশকা অচেতন হয়ে পড়ে। পরে ধর্ষণের ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে দিহান তার মেয়েকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার মেয়েকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ বিষয়ে ডিএমপির রমনা বিভাগের নিউমার্কেট জোনের সহকারী কমিশনার আবুল হাসান ঢাকা পোস্টকে বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯ এর ২ ধারায় খুনসহ ধর্ষণ মামলা হয়েছে। শুধু ইফতেখার ফারদিন দিহানকে এ মামলায় আসামি করা হয়েছে। গতকাল রাতেই তাকে আটক করা হয়। পরে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

তিনি জানান, বাকি তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়েছে। তাদের ডিজিটাল ডিভাইসগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে।

ধানমন্ডির মাস্টারমাইন্ড স্কুল/ফাইল ছবি

কলাবাগান থানার উপ-পরিদর্শক এসআই জাকির হোসেন বলেন, আনুশকার মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজে হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাতে এ ঘটনায় আনুশকার প্রেমিক ইফতেখার ফারদিন দিহানসহ চার জনকে আটক করেছে কলাবাগান থানা পুলিশ।

ডিএমপির রমনা বিভাগের নিউমার্কেট জোনের সহকারী কমিশনার আবুল হাসান বলেন, দিহান আনুশকাকে ধর্ষণের পর হত্যা করেছে বলে প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছে। আমরা বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে দেখছি। যাচাই-বাছাই শেষে বিস্তারিত জানানো যাবে। প্রাথমিকভাবে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে।

তিনি আরও বলেন, নিহত শিক্ষার্থীর শরীরে জখমের চিহ্ন রয়েছে এবং রক্তক্ষরণ হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে বিস্তারিত জানা যাবে।

কলাবাগান থানা সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (৭ জানুয়ারি) দুপুরে আনুশকা তার বান্ধবীর বাসায় জন্মদিন পালন করতে যায়। সেখানেই শারীরিক নির্যাতন করে তাকে হত্যা করা হয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়। এছাড়া দিহান ও আনুশকাকের মধ্যে গত দুই মাস ধরে প্রেমের সম্পর্ক চলছিল বলেও পুলিশ জানায়।

বৃহস্পতিবার রাতে আনুশকার চাচা শরীফ মাহমুদ অভিযোগ করে বলেন, সকালে এক বান্ধবীর জন্মদিনের কথা বলে তার অন্য এক বান্ধবী কলাবাগানে এক বাসায় ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে উপস্থিত থাকা তার বন্ধুরা মিলে তাকে শারীরিক নির্যাতন করে এক পর্যায়ে হত্যা করে। পরবর্তীতে বিষয়টি জানাজানি হলে তারা নিজেরাই মেয়েটিকে অচেতন অবস্থায় ধানমন্ডির একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যায়।

এমএসি/এসআরএস