চসিক মেয়র
খালেদা জিয়া দেশের ১৮ কোটি মানুষের হৃদয়ের নেত্রী হয়ে থাকবেন
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, নানা দুর্যোগ, সংকট ও মানবিক বিপর্যয়ে আজীবন দেশের মানুষের পাশে থাকা প্রয়াত মানবিক নেত্রী শুধুমাত্র একজন রাজনৈতিক নেতা নন, তিনি ১৮ কোটি মানুষের হৃদয়ের নেত্রী হয়ে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
রোববার (৪ জানুয়ারি) খালেদা জিয়ার মাগফিরাত কামনায় কোরআন খতম, অসহায় এতিম ও দুঃস্থদের মাঝে খাদ্য বিতরণ ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিজ্ঞাপন
মেয়র বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ এক আপসহীন নেত্রী। ব্যক্তিজীবন ও রাজনৈতিক জীবনের প্রতিটি অধ্যায়ে তিনি মানুষের দুঃখ কষ্টকে নিজের কষ্ট হিসেবে দেখেছেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, সামাজিক সংকট কিংবা রাষ্ট্রীয় যে কোনো দুর্বিপাকে তিনি দলমত নির্বিশেষে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাঁর নেতৃত্বের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য ছিল মানবিকতা, সহমর্মিতা ও গণতন্ত্রের প্রতি অটল আস্থা।
তিনি আরও বলেন, দেশকে এগিয়ে নিতে হলে বেগম খালেদা জিয়ার দেখানো পথেই চলতে হবে। গণতন্ত্র, আইনের শাসন, ন্যায়বিচার ও মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় তার অবদান আগামী প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে। রাষ্ট্র পরিচালনায় নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধ যে অপরিহার্য তিনি তা কর্ম ও উদাহরণ দিয়ে দেখিয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
তিনি ছিলেন দেশের মানুষের হৃদয়ের নেত্রী। তিনি বাংলাদেশকে শুধু ভালোবাসেননি, বাংলাদেশকে নিজের জীবনের অংশ করে নিয়েছিলেন। চিকিৎসার প্রয়োজনে দেশ ত্যাগ না করে তিনি বলেছিলেন, 'বাঁচতে হলে বাংলাদেশে বাঁচবো, মরতেও হলে বাংলাদেশেই। এই কথাটাই প্রমাণ করে তাঁর দেশপ্রেম কতটা গভীর ও আন্তরিক ছিল।
ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ১৯৯৩ সালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে বর্বর হামলায় চিকিৎসকসহ তিনজন নিহত এবং বহু ছাত্র আহত হলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে চট্টগ্রামে ছুটে আসেন। আহতদের দেখতে হাসপাতালে যান, নিহতদের পরিবারকে সান্ত্বনা দেন। ১৯৯৭ সালের হামজারবাগ ভূমিকম্পের পরও তিনি চট্টগ্রাম সফর করেন। সে সময় মেডিকেলে প্রবেশের পথে তার গাড়িবহরে বোমা হামলা, এমনকি তাকে লিফটে আটকে রাখার ঘটনা ঘটলেও তিনি তিন থেকে চার ঘণ্টা হাসপাতালে অবস্থান করে রোগীদের খোঁজখবর নেন।
এমআর/এমএসএ