গত এক সপ্তাহ ধরে গ্যাস সিলিন্ডারের সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ। গ্রাহকেরা খালি সিলিন্ডার নিয়ে দোকানে আসছেন, কিন্তু দিতে না পারায় তাদের খালি হাতেই ফিরে যেতে হচ্ছে। গত কয়েকদিন বাড়তি টাকা দিয়ে অল্প কিছু সিলিন্ডার পাওয়া গেলেও এখন তাও একেবারেই মিলছে না। আজ চারদিন ধরে আমার দোকানে বিক্রি পুরোপুরি বন্ধ।

নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বেচাবিক্রি বন্ধ থাকায় এভাবেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন চট্টগ্রাম নগরীর রাহাত্তারপুল এলাকার ব্যবসায়ী সাঈদ উদ্দিন।

বৃহস্পতিবার (৮ ডিসেম্বর) বিকেলে তার দোকানে গ্যাসের জন্য আসেন মামুনুল ইসলাম। দোকানে সিলিন্ডার না থাকায় খালি হাতেই ফিরতে হয়েছে মামুনুলকে।

তিনি বলেন, ‘দুপুরের রান্নার আগে গ্যাস শেষ হয়ে যায়। তাই হোটেল থেকে কিনে খেতে হয়েছে। রাতে কীভাবে কী করব, বুঝতে পারছি না। শীতের কারণে পানি গরম করতে হয়।’

শুধু রাহাত্তারপুল নয়, গ্যাস মিলছে না চট্টগ্রামের বহদ্দারহাট, চকবাজার, নিউমার্কেট, অক্সিজেন, চান্দগাঁও, হালিশহরসহ নগরীর বেশিরভাগ এলাকায়। বিশেষ করে বাসাবাড়িতে ব্যবহার হয় ১২ কেজির গ্যাস সিলিন্ডার। এই সিলিন্ডারগুলোর সংকট পুরো শহরে।

চকবাজার এলাকার এলপিজি বিক্রির প্রতিষ্ঠান মাহবুব এন্টারপ্রাইজের কর্ণধার সানাউল্লাহ মাহবুব জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে পরিবেশকেরা সিলিন্ডার সরবরাহ করতে পারছেন না। প্রতিদিন ক্রেতারা খালি সিলিন্ডার নিয়ে দোকানে ভিড় করছেন। কিন্তু আমাদের হাতে দেওয়ার মতো কিছুই নেই।

চকবাজার এলাকার কুলিং কর্নার ব্যবসায়ী শাহ আলম বলেন, রান্না-চা বানানোর জন্য আমার দোকানে প্রতি সপ্তাহে একটি করে সিলিন্ডার দরকার। সিলিন্ডার শেষ হয়ে গেছে গতকাল। এখন লাকড়ি চুলা জ্বেলে রান্নার কাজ করতে হচ্ছে। কয়েকটি দোকানে খোঁজ নিয়েছি, কোথাও গ্যাস পাইনি।

মূলত আজ সকাল থেকে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নতুন মূল্য সমন্বয়, প্রশাসনের মাধ্যমে পরিবেশকদের হয়রানি ও জরিমানা বন্ধসহ কয়েকটি দাবিতে এ কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে। সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দাবি মানা না হলে অনির্দিষ্টকালের জন্য সারা দেশে এলপিজি সরবরাহ ও বিক্রি বন্ধ থাকবে। পরে বিকেলে ব্যবসায়ীরা ধর্মঘট প্রত্যাহার করে।

আরএমএন/এমজে