৩৫০ ভরি স্বর্ণ ছিনতাই মামলার মূল আসামিসহ গ্রেপ্তার ৬, উদ্ধার ২৯০ ভরি
চট্টগ্রাম নগরে আলোচিত ৩৫০ ভরি স্বর্ণ ছিনতাই মামলায় মূল আসামিসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় লুণ্ঠিত ২৯০ ভরি স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেলও জব্দ করা হয়েছে। উদ্ধার করা স্বর্ণের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৫ কোটি ৮০ লাখ টাকা।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) ও পরদিন (শুক্রবার) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (উত্তর) ও পাঁচলাইশ মডেল থানা পুলিশের যৌথ এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
বিজ্ঞাপন
পুলিশ জানায়, গত ৪ জানুয়ারি ভোর আনুমানিক ৫টার দিকে সবুজ দেবনাথ তার সঙ্গে আরও দুজনকে নিয়ে একটি সিএনজি অটোরিকশায় কোতোয়ালি থানার সাবেরিয়া এলাকা থেকে বায়েজিদ বোস্তামী থানার অক্সিজেন এলাকার দিকে রওনা হন। পথে আতুরের ডিপো এলাকায় পৌঁছালে দুটি মোটরসাইকেলে আসা চারজন ছিনতাইকারী তাদের পথরোধ করে। ভয়ভীতি প্রদর্শন ও মারধর করে তাদের কাছ থেকে ৩৫টি স্বর্ণের বার, তিনটি মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায় তারা।
এ ঘটনায় ৫ জানুয়ারি পাঁচলাইশ মডেল থানায় দণ্ডবিধির ৩৯৪ ধারায় একটি মামলা করা হয়। এরপর পাঁচলাইশ থানা ও ডিবি (উত্তর) বিভাগের সমন্বয়ে গঠিত একটি দল গোপন তথ্য ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত শুরু করে।
বিজ্ঞাপন
তদন্তের অংশ হিসেবে গত ৮ জানুয়ারি বিকেলে গাজীপুরের কাশিমপুর থানার মাধবপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার মূল অভিযুক্ত সুমন চন্দ্র দাস (৪২), মো. মাসুদ রানা ওরফে বাইক বাবু (৩০) এবং রফিকুল ইসলাম ওরফে ইমনকে (২২) গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত একটি সুজুকি জিক্সার মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন চন্দ্র দাস স্বীকার করেন, তার নেতৃত্বেই পরিকল্পিতভাবে ছিনতাইয়ের ঘটনা সংঘটিত হয়। তিনি জানান, লুণ্ঠিত স্বর্ণের বারগুলো তার স্ত্রী পান্না রানী দাস ওরফে দিপালী রানী দাশ অথবা তার চাচাতো ভাই রবি কুমার দাসের কাছে রাখা হয়েছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন ঢাকার মোহাম্মদপুর থানার রায়ের বাজার এলাকা থেকে রবি কুমার দাস (৪০) এবং পরে চট্টগ্রামের হালিশহর থানার বড়পুল এলাকা থেকে পান্না রানী দাসকে (৩৮) গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া সুমন চন্দ্র দাসের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের তথ্য বিশ্লেষণ ও স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে মামলার গোপন তথ্যদাতা হিসেবে বিবেক বণিককে (৪২) কোতোয়ালি থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সিএমপির সহকারী কমিশনার আমিনুর রশিদ জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ছিনতাইকৃত ২৯টি স্বর্ণের বার প্রথমে পান্না রানী দাসের হেফাজতে রাখা হয়। পরে সেগুলো রবি কুমার দাসের কাছে হস্তান্তর করা হয়। রবি কুমার দাস পুলিশের কাছে স্বীকার করেন, তিনি স্বর্ণগুলো তার বোন সাক্ষী প্রতিমা দাশের কাছে রেখে যান। এই তথ্যের ভিত্তিতে ৯ জানুয়ারি ঢাকার মোহাম্মদপুর থানার বৈশাখী খেলার মাঠসংলগ্ন একটি ভবনের পঞ্চম তলার একটি বাসা থেকে ২৯টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়।
এমআর/এমএন