উপকূলের মানুষের সংকট ইশতেহারে তুলতে রাজনৈতিক নেতাদের প্রতিশ্রুতি
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে উপকূলের মানুষের সংকট নিরসনের সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি নির্বাচনী ইশতেহারে সংযুক্তি করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা।
রোববার (১১ জানুয়ারি) সকালে বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে উপকূলের মানুষের সংকট নিরসনের সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি নির্বাচনী ইশতেহারে সংযুক্তির নাগরিক সংলাপে নেতারা এ প্রতিশ্রুতি দেন।
বিজ্ঞাপন
সংলাপে বিএনপির নেতা নাহিদুল খান বলেন, জলবায়ুসংক্রান্ত এবং আমাদের উপকূলের যে জনগোষ্ঠী আছে সেই জনগোষ্ঠীকে কীভাবে আমরা প্রটেক্ট করতে পারি, সেটা হচ্ছে আলোচনা। জলবায়ু চেঞ্জ সংক্রান্ত সমস্যাটি শুধু বাংলাদেশের প্রবলেম না, এটা একটা ইন্টারন্যাশনাল প্রবলেম।
তিনি বলেন, আমাদের দেশে বা বিশ্বে মূলত তিনটি সম্পদ। জনগণ, জল এবং জমিন। বাংলাদেশের আমাদের জনসংখ্যা সবচেয়ে বেশি। সুতরাং এটা আমাদের নাম্বার ওয়ান রিসোর্সেস। নাম্বার সেকেন্ড হলো জল এবং আমাদের জমি সবচেয়ে কম সেজন্য আমি এটা তৃতীয় নাম্বারে রাখলাম। আমাদের যে আজকের আলোচনা এই আলোচনার মূল বিষয় ওয়াটার রিলেটেড উপকূলীয় এলাকায় জলোচ্ছ্বাস, ঘূর্ণিঝড়। আমাদের উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে যেসব সমস্যা রয়েছে সেগুলোকে আমরা কীভাবে সমাধান করতে পারি সেটার উপর আলোচনা করব।
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, আগামীতে যারা ক্ষমতায় আসবেন, রাজনৈতিক দলগুলো উপকূলের বিষয়ে দেখবেন। গত ১৫-১৭ বছর বা ৫০ বছরের সরকার উপকূলে মনোযোগ দেয়নি।
জাতীয় নাগরিক পার্টির ঢাকা মহানগরের নেতা মোহম্মদ ওয়াহিদ আলম বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপকূল সংকট, যারা উপকূলের মানুষ আছেন তাদের চাওয়াটা কি? ৫০ জন সংসদ সদস্য আছেন, তারাও সেই এলাকার মানুষের পক্ষে কাজ করবে। তাদের মনোনীত প্রার্থীরা সংসদে কথা বলবে।
তিনি আরও বলেন, আজকে যে কথাগুলো এখানে উঠে এলো, আমি দৃঢ় বিশ্বাস করি এগুলো কোথাও না কোথাও কোনো একটা ইমপ্যাক্ট করতে বাধ্য। রাজনৈতিক দলগুলো আপনারা সরকারে যারা থাকবেন, বিরোধী দলে যারা থাকবেন, সবাই মিলেই জলবায়ু যে আমাদের চ্যালেঞ্জটা আছে, সেগুলো মোকাবিলা করতে হবে।
তিনি বলেন, আমরা যারা রাজনৈতিক দল আছি, রাজনৈতিক কর্মী আছি, আমাদের দায়িত্ব তাদের জন্য কিছু একটা করা। যাতে তাদের দৈনন্দিন যে জীবন আছে, জীবিকা আছে, তারা যেই নোনাজলে তাদের যে জীবন ভাসে এই ভাষাটা যেন আমরা একটু বেটার কিছু করতে পারি। সে অঙ্গীকার থাকবে জাতীয় নাগরিক কমিটির পার্টির পক্ষ থেকে।
বাসদ মার্কসবাদীর পক্ষে সীমা দত্ত বলেন, আমরা ঢাকা শহরে যারা থাকি, তারা হয়তো বা যখন একটা বড়ো দুর্যোগ হয় সেই দুর্যোগের সময় আমরা উপকূল অঞ্চলের মানুষের যে দুঃখ দুর্দশার কথা সেটা আমরা শুনতে পাই। পরবর্তী সময়গুলোতে আসলে এগুলো আমাদের চোখের সামনে থাকে না। এখানে যারা দেশ পরিচালনা করেন, রাজনৈতিক দলগুলো যখন যে দল ক্ষমতায় আসেন আমরা দেখি দলগুলো আসলে তারা তাদের পকেট ভারী করার যে কাজ সেটাই আসলে তার মূলত তারা করেছে।
তিনি আরো বলেন, সাধারণ নাগরিক যারা তাদেরকে কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলোকে জবাবদিহিতার মধ্যে ফেলতে হবে। আমরা কিন্তু সবসময় সাধারণ মানুষের যে দাবিগুলো সেগুলো নিয়ে আমরা কথা বলেছি। আমরা আমাদের নির্বাচনী যে ইশতেহার সেই ইশতেহারে শুধু নয়, এটা আমরা কিন্তু মোটা দাগে বলছি।
সীমা দত্ত বলেন, আমরা রামপালের কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র, গত আওয়ামী সরকারের আমলে সেটা সেখানে চালু হয়েছে। তার মধ্য দিয়ে যে এখানে আমাদের সুন্দরবনের মতো এত বিশাল একটা যে বনভূমি, সেই বনভূমিসহ সেখানকার জনগোষ্ঠীর উপরে এবং পুরো বাংলাদেশের অর্থনীতিতে তার যে বিরূপ প্রভাব কীভাবে পড়ছে সেটা কিন্তু আমরা বলার চেষ্টা করেছি।
গণসংহতি আন্দোলনের পক্ষ থেকে মনির উদ্দিন পাপ্পু বলেন, আমরা জলবায়ু ও স্বাস্থ্য বিষয়ে কাজ করছি। কিছু সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব করেছি। আমরা ২০ তারিখের পরে আমরা এগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করব। এটা একটা আমরা লক্ষ্য ঠিক করেছি।
তিনি বলেন, আমাদের পার্টির যে রূপরেখা আছে, ঘোষণাপত্র আছে এগুলো আমরা অনেকদিন ধরে কাজ করছি। বহু বছর ধরে গত ১০-১৫ বছর ধরে এগুলো নিয়ে আমরা সিরিয়াসলি কাজ করেছি। আমরা এগুলো আরো সুনির্দিষ্ট করে প্রস্তাব করব। আমাদের ইশতেহারে উপকূলের বিষয়ে নিদিষ্ট প্রস্তাব করব।
তিনি আরো বলেন, আমাদের পুরো উপকূলের পরিস্থিতি আসলে চ্যালেঞ্জিং। ওটা কাটানো ওটা আমরা কাটাতে মানে ওটা নিয়ে আমাদের একটা স্ট্রাগল করতে হবে। সেদিকে রাজনৈতিক দলগুলোর ফোকাস দিতে হবে।
বাসদের পক্ষ থেকে বজলুর রশিদ ফিরোজ বলেন, প্রাকৃতিক বলি আর মনুষ্য সৃষ্ট দুর্যোগ বলি, সেই দুর্যোগে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এখানকার নারীরা, শিশুরা দরিদ্র জনগোষ্ঠী, শ্রমজীবী মানুষ এবং উপকূলের যে শ্রমজীবী মানুষ তারাই আসলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
তিনি বলেন, আমরা তো নিজেরাই নিজেদেরকে সেখানে ধ্বংস করে ফেলছি। সুন্দরবন ধ্বংস করে ফেলছি। বন উজাড় করে ফেলছি। তারপর নানা নানাবিধ কাজে নদী দখল করছি। দূষণ করছি।
তিনি আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য ক্ষতিপূরণের টাকা বিগত সরকারের সময় ৫০০ কোটি টাকা এসেছিল। সেই টাকার কি হয়েছে? সেটার হিসাব নিকাশ নেই। কিন্তু আমরা আশা করছিলাম যে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তারা সেটা খবর নিয়ে বের করবে। সেই টাকাটা কোথায় গেল। জলবায়ু নিয়ে যারা আমরা কাজ করছি এবং রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে সেটা একটু সোচ্চার হওয়া দরকার। সেই তহবিলটা গেল কোথায় সেই টাকা, কার কাছে গেছে, সেটা আমার মনে হয় বের করা দরকার।
সংলাপে স্বাগত বক্তব্যে রাখেন ঢাকা স্ট্রিমের সম্পাদক গোলাম ইফতেখার মাহমুদ।
এমএসআই/জেডএস