বিটিএমসির ৪৫ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি ১২ লাখে বিক্রি, অনুসন্ধানে দুদক

বিনা টেন্ডারে এবং সরকারের অনুমোদন ছাড়াই বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশনের (বিটিএমসি) আওতাধীন বন্ধ থাকা ৭টি মিলের প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ কোটি টাকার মেশিনারিজ মাত্র ১২ লাখ টাকায় বিক্রিসহ বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
সম্প্রতি কমিশন থেকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর দুদকে ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয় থেকে একজন সহকারী পরিচালককে অনুসন্ধান কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
অনুসন্ধান কর্মকর্তা এরই মধ্যে অভিযোগ নথিপত্র তলব চিঠি দিয়েছে। ইতোমধ্যে বেশকিছু নথিপত্র দুদকে এসেছে, যা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। সোমবার (১২ জানুয়ারি) দুদকের জনসংযোগ দপ্তর সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিনা টেন্ডারে এবং সরকারের অনুমোদন ছাড়াই বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশনের (বিটিএমসি) আওতাধীন বন্ধ থাকা ৭টি মিলের প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ কোটি টাকার মেশিনারিজ মাত্র ১২ লাখ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। বিটিএমসির কর্মকর্তাদের ঘনিষ্ট হিসেবে পরিচিতি মেসার্স আয়েশা এন্টারপ্রাইজ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। বিক্রির টাকা বিটিএমসির হিসেবে জমা আছে দুদকের গোয়েন্দা অনুসন্ধানে প্রমাণ পেয়েছে বলে জানা গেছে।
আরও অভিযোগ রয়েছে বোর্ডের অনুমতি ব্যতিরেকেই বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশন ৩৫ জনে কর্মকর্তার বিধি ও নিয়ম বহির্ভূত পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। ব্যবস্থাপক, বাণিজ্যিক কর্মকর্তা এবং হিসাব সহকারীর নিয়োগ ও পদন্নোতিও অবৈধভাবে হয়েছে বলে অভিযোগ। যেখানে বিটিএমসির নিয়োগ, পদায়ন, পদোন্নতিসহ সব কাজই বোর্ডের অনুমতি সাপেক্ষে হয়ে থাকে।
সূত্র আরও জানায়, বিটিএমসি ভবনের ছাদে রেইনি রুফটপ রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড ক্যাফে নামক একটি রেস্টুরেন্ট রয়েছে। বোর্ডের অনুমতি ছাড়াই রেস্টুরেন্টটি চলছে। বিটিএমসির ১৩ তলায় অবস্থিত এই রেস্টুরেন্টটি রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন, পরিবেশ অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস এবং সিভিল এভিয়েশনের অনুমতি ও ছাড়পত্র ব্যতিরেকেই নির্মিত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। যে কোনো মুহূর্তে মারাত্মক বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছে সংশ্লিষ্টরা। এমনকি রেস্টুরেন্টের গ্যাস, পানি ও বিদ্যুতের বিলবাবদ ২৪ লাখ টাকা বকেয়াও রয়েছে। নামে-বেনামে বিটিএমসির শীর্ষ দুই কর্মকর্তার মালিকানা ও প্রভাবে চলছে রেস্টুরেন্টটি।
বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন মিলের যন্ত্রাংশ বিক্রয়ের টেন্ডারে অনিয়মে এবং করোনাকালে গাড়ি ক্রয়ের সরকারি সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা করে ২টি গাড়ি ক্রয় করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। বিটিএমসির সাবেক ও বর্তমান বেশকিছু ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ওই অভিযোগ উঠেছে বলে জানা গেছে।
আরএম/এসএম