নবীগঞ্জ সরকারি কলেজে দুদকের অভিযান

কলেজ ফান্ডের টাকা ‘অবৈধভাবে’ উত্তোলন করেছেন হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মো. সফর আলী।শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া বেতন ও পরীক্ষার ফিসহ বিভিন্ন খাত থেকে জমাকৃত প্রায় আড়াই কোটি টাকার গরমিলের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অভিযানে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। দুদকের হবিগঞ্জ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. এরশাদ মিয়ার নেতৃত্বে অভিযান পরিচালিত হয়।

অভিযানকালে কলেজ কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারও বক্তব্য নেয় দুদক টিম। যদিও অভিযোগ ওঠার পরপরই উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) উত্তম কুমার দাশকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

বৃহস্পতিবার (১৪ অক্টোবর) দুদকের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) মো. শফি উল্লাহ অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে ঢাকা পোস্টকে বলেন, নবীগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে কলেজ ফান্ডের টাকা অবৈধভাবে উত্তোলনপূর্বক আত্মসাতের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অভিযান পরিচালনা করেছে দুদক এনফোর্সমেন্ট টিম। সরেজমিনে টিম কলেজ পরিদর্শন করে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য রেকর্ড করেছে। অভিযানকালে টিম অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে। রেকর্ডপত্র সংগ্রহের কাজ চলছে।

দুদক সূত্রে আরও জানা যায়, অভিযানকালে কলেজের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বক্তব্য নিয়েছে দুদক টিম। এসি ল্যান্ডকে (সহকারী কমিশনার-ভূমি) প্রধান করে গঠিত তদন্ত কমিটি এখনও প্রতিবেদন তৈরির কাজ শেষ করেনি। তবে কলেজ কমিটির সভাপতি দুদক টিমকে জানিয়েছেন, তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ সরকারি কলেজের আড়াই কোটি টাকার হিসাব পাওয়া যাচ্ছে না। প্রায় দুই বছরের বেশি সময় ধরে নবীগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মো. সফর আলী। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হয়ে আসার পর থেকে নানা অনিয়ম-দুর্নীতিতে জর্জরিত হয়েছে কলেজ। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত বেতন ও পরীক্ষার ফি আদায়সহ গুরুতর অভিযোগ রয়েছে মো. সফর আলীর বিরুদ্ধে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি এইচএসসি পরিক্ষার্থীদের শিওর ক্যাশের মাধ্যমে পরিশোধকৃত টাকা হিসাব করে তদন্তে নেমে আড়াই কোটি টাকার হিসাবে গরমিল পায় উপজেলা প্রশাসন। এ কারণে এসি-ল্যান্ড (সহকারী কমিশনার-ভূমি) উত্তম কুমার দাশকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

একদিকে জমাকৃত টাকা আত্মসাৎ হয়েছে, অন্যদিকে কলেজ ফান্ডে টাকা না থাকার কারণে গত আট মাস ধরে বেতন পাননি বলেও অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী অভিযোগ করেছেন।

আরএম/আরএইচ