সাবেক গণফোরাম নেতা ড. রেজা কিবরিয়া বলেছেন, হিন্দু-মুসলিম কেউ এই সরকারের কাছে নিরাপদ না। যারা এই সহিংসতা, হামলা ও অগ্নিসংযোগের সঙ্গে জড়িত, তারা কেউ হিন্দু বা মুসলিম নয়, তাদের পরিচয় তারা অপরাধী।

মঙ্গলবার (১৯ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে যুব অধিকার পরিষদ আয়োজিত মানববন্ধন ও মৌন মিছিলে তিনি এসব কথা বলেন।

রেজা কিবরিয়া বলেন, এই সরকার যে জনগণের নিরাপত্তা দিতে পারে না, বিভিন্ন জায়গায় সংখ্যালঘুদের হামলা সেটাই প্রমাণ করে। আমরা যদি ক্ষমতায় যাই, তাহলে সবার নিরাপত্তা আগে নিশ্চিত করব। কুমিল্লায় হামলার সময় পুলিশ ও প্রশাসনের নীরব ভূমিকা পালন করেছে। আমরা এইসব হামলা সহিংসতার বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।

সমাবেশে দেশের নানা জায়গায় হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাকে মুসলমানদের ওপর চাপিয়ে দিয়ে বিশ্বের কাছে মুসলিমদের উগ্রবাদী হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে উল্লেখ করে ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর বলেন, একটি সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসবে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকে। সেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেদ করে কীভাবে এমন হামলা হয়? এমন সুপরিকল্পিত হামলায় প্রশাসন নীরব থাকে কেন? কুমিল্লার ঘটনায় যদি পুলিশ ও প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিত, তাহলে সারা দেশে এই সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ত না। যেহেতু এই ধরনের ঘটনায় প্রশাসনের ওপর সাধারণ জনগণ আর আস্থা রাখতে পারেন না, সেহেতু এই ঘটনার সত্যতা উৎঘাটনে বিচার বিভাগীয় তদন্ত চাই।

সমাবেশে অন্যান্যরা বলেন, এই সাম্প্রদায়িক হামলা ভারত থেকে আমদানি করা হয়েছে। এ ধরনের অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করে রাজনৈতিক ফায়দা নিচ্ছে একটা মহল। এসবের পেছনে চাপা পড়ে যাচ্ছে সরকারের নানা অপকর্ম ও ব্যর্থতা। সংখ্যালঘুদের প্রতি এ ধরনের সহিংসতার পেছনে মূল কারণ থাকে জমি দখল। সাতচল্লিশের পরে থেকে এখন পর্যন্ত এ ধরনের সহিংসতার পর সংখ্যালঘুরা জমি ছেড়ে যাওয়ার পরে সেগুলো সব দখলে নিয়েছে প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতারা।

এমএইচএন/ওএফ