অপরাধ দমনে নতুন ডিজিটাল কন্ট্রোল রুম স্থাপন করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। এ কন্ট্রোল রুমের নাম দেওয়া হয়েছে ‘আইজ অব সিএমপি’। এর ফলে একটি নিদিষ্ট রুম থেকে পুরো নগরীকে পর্যবেক্ষণ করা যাবে।

বৃহস্পতিবার (২৫ নভেম্বর) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের নতুন মিডিয়া রুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ সালেহ মোহাম্মদ তানভীর এ কথা বলেন। 

তিনি বলেন, এসব উদ্যোগের ফলে নাগরিক সেবার মান বৃদ্ধি করার পাশাপাশি অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং অপরাধী চিহ্নিতকরণ সহজ হবে। মহানগরীর ৭০টি স্থানে সিএমপির ক্যামেরা রয়েছে। আইজ অব সিএমপির ক্যামেরায় ১৫ দিন পর্যন্ত ভিডিও স্টোরেজ রাখা হয়।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার মো. মুজাহিদুল ইসলাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানের প্রায় ৭০০ সিসিটিভি ক্যামেরা প্রাথমিকভাবে নির্বাচন করা হয় আইজ অব সিএমপির জন্য। এর মধ্যে থেকে ৪১১টি ক্যামেরার সংযোগ দেওয়া হয়েছে সিএমপির কন্ট্রোল রুমে এবং ৩২৪টি ক্যামেরা ২৪ ঘণ্টা অনস্ক্রিন সচল থাকে।  

তিনি আরও বলেন, কন্ট্রোল রুমে সবসময় দুজন অপারেটরের মাধ্যমে ক্যামেরাগুলো পর্যবেক্ষণ করা হবে। এছাড়াও একটি টেকনিক্যাল টিম সব সময় মাঠ পর্যায়ে ক্যামেরাগুলো সচল রাখার জন্য কাজ করবেন। 

সিএমপি কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর বলেন, নগরীর গুরুত্বপূর্ণ জিইসি, ওয়াসা, ২ নম্বর গেট, মুরাদপুর, বহদ্দারহাট, অক্সিজেন, টাইগারপাস, নিউমিার্কেট, বন্দর, পতেঙ্গা, সিটি গেটসহ ৭০টি স্থানে আইজ অব সিএমপির ক্যামেরা রয়েছে। 

তিনি আরও বলেন, এখন কিছু ক্যামেরার সংযোগ সাধারণ মানুষের লাগানো ক্যামেরা থেকে তাদের অনুমতি নিয়ে কন্ট্রোল রুমে সংযোগ দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে পুরো নগরীকে সিএমপির নিজস্ব ক্যামেরার আওতায় আনা হবে। এছাড়া ফেইস ডিটেকশন এবং নম্বর রিডেবেল ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি ভিডিও ভিত্তিক ক্রাইম ম্যাপ তৈরি ও পুলিশ পেট্রোল গাড়িগুলোতে নিদিষ্ট এলাকার সিসিটিভি আইপির লিংক আপ করার ইচ্ছে আছে। 

পুলিশ কমিশনার বলেন, ক্যামেরা স্থাপন করার ফলে মানুষের মধ্যে সাহস আসবে। অপরাধ করে অপরাধী ক্যামেরায় ধরা পড়বে এই ধারনা হলে সাধারণ মানুষের সাহস বাড়বে। পাশাপাশি অপরাধীদের মনে ভীতি তৈরি হবে।  

আইজ অব সিএমপির কন্ট্রোল রুমে গিয়ে দেখা গেছে, দামপাড়া সিএমপি কার্যালয়ের একটি রুমে ক্যামেরাগুলো মনিটরিং করার জন্য বড় মনিটর (স্ক্রিন) বসানো হয়েছে। সেখানে সিএমপির একটি দল সবসময় কাজ করছেন। সেখানে থেকে তারা সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজের মাধ্যমে সবকিছু মনিটরিং করছেন। সঙ্গে সঙ্গে কাউকে কোন কিছু তথ্য জানানোর থাকলে জানাতে পারছেন। 

কেএম/আইএসএইচ