নটরডেম কলেজের শিক্ষার্থীর মৃত্যুর প্রতিবাদ ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে রাজধানীর ধানমন্ডি-২৭ এলাকার প্রধান সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন শিক্ষার্থীরা। আরেক দল শিক্ষার্থী বাসের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং চালকের লাইসেন্স দেখে ছেড়ে দিচ্ছেন।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যেই সাভার পরিবহন ও ঠিকানা পরিবহনে চালক পায়নি শিক্ষার্থীরা। চালকের অনুপস্থিতিতে হেলপার চালাচ্ছিলেন বাস। পরে ট্রাফিক সার্জন এসে সাভার পরিবহনের (ঢাকা মেট্রো ব-১১-৯৭৯২) বাসটিকে ডাম্পিং করার নির্দেশ দেন আর ঠিকানা পরিবহনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

আন্দোলনরত এক শিক্ষার্থী ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমরা নিরাপদ সড়কের দাবিতে যখন আন্দোলন করছি, রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ করছি, তখনো চালক নয়, হেলপারের হাতে স্টিয়ারিং দেখছি। আবার চালক থাকলেও নেই ড্রাইভিং লাইসেন্স। কোনো কোনো পরিবহনের বৈধ কাগজপত্র পাওয়া যাচ্ছে না। আমাদের আন্দোলন চলছে, চলবে। বাসসহ কোনো পরিবহন যাতে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া এবং চালকের বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া চলাচল না করে সেটি দেখার জন্য আমরা ট্রাফিক পুলিশকে অনুরোধ জানিয়েছি।

ঘটনাস্থলে দেখা যায়, সড়কের প্রতিটি লেনে মুখে শিক্ষার্থীরা অবস্থান নিয়ে সন্দেহভাজন যানবাহন বিশেষ করে বাস, মালবাহী কাভার্ড ভ্যান আটকে কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স দেখছেন। যেসব পরিবহনে বৈধ কাগজ পাওয়া যাচ্ছে না বা চালকের অনুপস্থিতি কিংবা চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই এমন পরিবহনগুলোকে রাস্তার পাশে আটকে যাত্রীদের নামিয়ে দেওয়া হচ্ছে। চালক ও হেলপারকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করছেন শিক্ষার্থীরা।

ধানমন্ডি ২৭ নম্বর এলাকার কর্তব্যরত ট্রাফিক সার্জেন্ট রিয়াদুল ইসলাম রিয়াদ জানান, শিক্ষার্থীরা পরিবহনের কাগজপত্র দেখছে, বাসের ফিটনেস সার্টিফিকেট দেখছে। ড্রাইভিং লাইসেন্স শো করতে বলছে চালকদের। দুটি পরিবহনে আমরা ব্যত্যয় লক্ষ্য করেছি। একটি ঠিকানা পরিবহন, অপরটি সাভার পরিবহন। সাভার পরিবহনে চালকের অনুপস্থিতিতে হেলপার চালাচ্ছিল বাসটি। সেজন্য সেটি ডাম্পিং এ পাঠানো হচ্ছে। আর ঠিকানা পরিবহনের বাসেও আসল চালক নেই। তিনি বাস চালালেও তার লাইসেন্স নেই। সেজন্য বাসটির বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে।

রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর ও লালমাটিয়া এলাকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ধানমন্ডি-২৭ এর রাপা প্লাজার সামনের সড়কে নেমে অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে।  সেখানে মোহাম্মদপুর মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মোহাম্মদপুর গভর্মেন্ট কলেজ, লালমাটিয়া মহিলা কলেজ, আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা জড়ো হয়েছেন। এ সময় স্থানীয় থানা পুলিশ ও ট্রাফিক সদস্যদের আশপাশে অবস্থান করতে দেখা গেছে। 

‌‌‌‘দাবি মোদের একটাই, নিরাপদ সড়ক চাই’, ‘আমার ভাই রাস্তায় মরে, প্রশাসন কী করে’, ‘জাস্টিস জাস্টিস, উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, ‘আমার ভাই মরল কেন, প্রশাসন জবাব চাই’ শীর্ষক বিভিন্ন শ্লোগান দিতে দেখা যায় শিক্ষার্থীদের।

মোহাম্মদপুর মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের আকাশ নামে এক শিক্ষার্থী জানান, ঢাকার সড়ক নিরাপদ নয়, শিক্ষার্থীরা হরহামেশাই মরছে। বিচার নেই, সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নেই। তাই আমরা আন্দোলন করছি নিরাপদ সড়কের দাবিতে।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত ধানমন্ডি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রাজিব জানান, শিক্ষার্থীরা নিরাপদ সড়কের দাবিতে সড়কে অবস্থান করছে। চারদিকে যানচলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সড়কে অবস্থান, আন্দোলন ঘিরে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর কিছু না ঘটে সেজন্য পুলিশ আশপাশে অবস্থান করছে। নিরাপত্তার বিষয়টি খুবই গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। আমাদের ঊর্ধ্বতন স্যাররাও আসছেন।

শিক্ষার্থীদের রাস্তায় অবস্থানের কারণে মিরপুর-নিউমার্কেটগামী সড়কে যান চলাচল সীমিত করা হয়েছে। মানিক মিয়া এভিনিউ মোড়ে ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের গাড়ি ডাইভারশন করতে দেখা যায়।

জেইউ/ওএফ/জেএস