বিভাজনের সুযোগ নিয়ে ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত করছে ফ্যাসিস্টরা : সাদিক কায়েম
বাংলাদেশ আর কখনো পথ হারাবে না বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম।
তিনি বলেছেন, বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে আমাদের মাঝে তৈরি হওয়া বিভাজনের সুযোগ নিয়ে পতিত ফ্যাসিস্ট ও দিল্লির তাঁবেদাররা নানা ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত করছে। এই চক্রান্ত রুখতে এবং জুলাই বিপ্লবের স্বপ্ন বাস্তবায়নে দেশের সব রাজনৈতিক দল ও ছাত্র সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সদ্যপ্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার শোকবইয়ে স্বাক্ষর করেন ডাকসু ভিপি। এরপর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।
সাদিক কায়েম বলেন, ‘আমরা প্রথমেই আপসহীন সংগ্রামের প্রতীক দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া করছি। তারেক রহমানের সঙ্গে আমাদের বৈঠক হয়েছে। তিনি ডাকসুসহ দেশের ছাত্রসমাজের প্রতি কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন এবং সব রাজনৈতিক দল ও ছাত্র সংগঠনকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।’
বিজ্ঞাপন
আগামীর রাজনীতি হবে ‘বাংলাদেশপন্থী’ উল্লেখ করে সাদিক কায়েম বলেন, দেশ, মাটি, মানুষ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জারি রাখাই হবে আগামীর রাজনীতির মূল ভিত্তি। তিনি বলেন, ‘শহীদ জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়া আমাদের যে পথ দেখিয়েছেন, সেই লক্ষ্যেই আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই চালিয়ে যাব।’
তরুণ প্রজন্মের ভোটাধিকারের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, গত ১৬ বছর তরুণরা ভোট দিতে পারেনি। একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য ছাত্রসমাজকে ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা পালন করতে হবে। এছাড়া জুলাইয়ের শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন ও রাষ্ট্রকাঠামো পুনর্গঠনে প্রস্তাবিত গণভোটের জন্য জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে কথা বলতে গিয়ে প্রাণ হারানো শহীদ শরীফ ওসমান হাদির বিচার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন সাদিক কায়েম। তিনি বলেন, ‘ওসমান হাদিকে যারা গুলি করেছে এবং যারা হত্যার পরিকল্পনাকারী, তারা এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার হয়নি। স্বাধীন বাংলাদেশে তার বিচার নিশ্চিত করতে সব রাজনৈতিক দল ও ছাত্র সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’ তিনি আশা প্রকাশ করেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী সব সংগঠন এক থাকলে বাংলাদেশ আর কখনো পথ হারাবে না।
এমআরআর/বিআরইউ