১৬ আসনে প্রার্থী কেবল একজন, চট্টগ্রামকে গোনায় ধরল না এনসিপি?

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের মধ্যে কেবল একটিতে প্রার্থী দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। তাদের একমাত্র প্রার্থী জোবাইরুল হাসান আরিফ, তিনি চট্টগ্রাম-৮ (চান্দগাঁও-বোয়ালখালী) আসন থেকে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। চট্টগ্রামের অন্য কোনো আসনে এনসিপির কোনো প্রার্থী নেই।
যে আসনে এনসিপির প্রার্থী আছেন সেখানেও জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন মো. আবু নাছের নামে এক নেতা। তিনিও চষে বেড়াচ্ছেন নির্বাচনী মাঠ। এ অবস্থায় শেষ পর্যন্ত চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের মধ্যে একটিতেও শাপলা কলি প্রতীকের প্রার্থী থাকবে কি না তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।
জামায়াতের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী চট্টগ্রাম-৮ আসনসহ নগরীর ৪টি আসনে জামায়াতের প্রার্থীরা কাজ করে যাচ্ছেন। জোট থেকে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়নি। এনসিপির প্রার্থীর দাবি, জোট থেকে তাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে।
নির্বাচনি কার্যক্রম শুরুর পর চট্টগ্রাম-৮ আসন থেকে জোবাইরুল হাসান আরিফ, চট্টগ্রাম-১০ আসন থেকে সাগুফতা বুশরা মিশমা ও চট্টগ্রাম-১৩ আসন থেকে জোবাইরুল আলম মানিকসহ আরও কয়েকটি আসনে মনোনয়ন সংগ্রহ করেন এনসিপির নেতারা। তবে জামায়াতের সঙ্গে নির্বাচনী জোটে অংশ নেওয়ার পর মনোনয়ন জমা দেন শুধু জোবাইরুল হাসান আরিফ। অন্যরা দলের সীদ্ধান্ত মেনে নিয়ে মনোনয়ন জমা দেননি।
চট্টগ্রামের এনসিপির নেতাকর্মীরা বলছেন, নতুন দল হিসেবে নিজেদের রাজনীতি গতিশীল করতে অন্তত চট্টগ্রাম শহরের আসনগুলোতে প্রার্থী রাখা দরকার ছিল। দলের ভূমিকায় তারা সন্তুষ্ট নন। এখন জোটের প্রার্থী হিসেবে জোবাইরুল হাসান আরিফকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ও চট্টগ্রাম-৮ আসনের প্রার্থী জোবাইরুল হাসান আরিফ বলেন, ‘জোট থেকে আমাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। শিগগিরই জোট থেকে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে। জামায়াতের প্রার্থীও জোটের জন্য কাজ করবেন।’
একই আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মো. আবু নাছের অবশ্য বলেন, ‘দলের নির্দেশনা অনুযায়ী আমি মনোনয়ন দাখিল করেছি। আমাদের জোটের একাধিক প্রার্থী চট্টগ্রাম-৮ আসনে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। তবে শেষ পর্যন্ত জোটের প্রার্থী কে হবেন সেটা সময়ই বলে দেবে। আমি দলের সীদ্ধান্ত মেনে কাজ করে যাব।’
জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগর শাখার ভারপ্রাপ্ত আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘নির্বাচনে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নগরীর ৪টি আসনের প্রার্থীরা মাঠে কাজ করে যাচ্ছেন। জোটের বিষয়ে কেন্দ্র থেকে কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। আসন সমঝোতায় যে প্রার্থীর গ্রহণযোগ্যতা আছে তাকেই জোট থেকে দেওয়ার কথা। এখনো সময় আছে, আমরা কেন্দ্রের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করব।’
পূরণ হয়নি নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা
এনসিপির কেন্দ্রীয় সদস্য চট্টগ্রামের বাসিন্দা জোবাইরুল আলম মানিক ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া নেতাদের দল এনসিপি। এই আন্দোলনে চট্টগ্রামের ভূমিকা ছিল অনেক গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচনে আমাদের প্রত্যাশা ছিল অনেক বেশি। এনসিপিতে অনেক যোগ্য প্রার্থী ছিল, যারা ৫ আগস্টের পর থেকে মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলা নিয়ে আমাদের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। তবুও দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।’
এনসিপির যুব সংগঠন জাতীয় যুবশক্তির যুগ্ম সদস্য সচিব নীলা আফরোজ ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘গণভোট নিয়ে প্রচারণায় কাজ করে যাচ্ছি আমরা। জামায়াত ও এনসিপির প্রার্থীরা একই কাজ করে যাচ্ছে। সেখানে জনমত গঠন হচ্ছে। জোটের প্রার্থী হিসেবে চট্টগ্রাম-৮ আসনে আমাদের এনসিপির প্রার্থী হলে ভালো হবে। তবে শুধু প্রার্থী বা নির্বাচনের জন্য এনসিপির রাজনীতি থেমে থাকবে না। বাংলাদেশপন্থা যতদিন থাকবে, ততদিন বাংলাদেশে এনসিপির রাজনীতি থাকবে।’
জাতীয় যুবশক্তি চট্টগ্রাম মহানগরের সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব হুজ্জাতুল ইসলাম সাঈদ বলেন, জুলাই পদযাত্রার পর নতুন বাংলাদেশের ইশতেহার পাঠের দিন এনসিপি নেত্রী সামান্তা শারমিন ঘোষণা দিয়েছিলেন— ‘সব জেলার বাতাস গায়ে মেখে জনগণের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের রাজনীতি করবে এনসিপি।’ কিন্তু সেই ঘোষণার বাস্তব প্রতিফলন আজও চট্টগ্রামে দৃশ্যমান নয়। জনগণের সেই আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে হলে চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনে এনসিপির অংশগ্রহণ আরও বিস্তৃত ও দৃঢ় হওয়া জরুরি ছিল।
তিনি বলেন, এনসিপিকে যদি সত্যিকার অর্থে জনতার রাজনৈতিক দল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হয়, তবে কেন্দ্রীয় নীতিনির্ধারকদের ঢাকা কেন্দ্রিক সীমাবদ্ধ রাজনীতি থেকে বের হয়ে সারা দেশে সংগঠনের কার্যকর বিস্তার ঘটাতে হবে। এখন চট্টগ্রামে মনোনয়নপ্রাপ্ত একমাত্র প্রার্থী জুবাইরুল হাসান আরিফকে জোটের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দিতে হবে। তা না হলে চট্টগ্রামের রাজনৈতিক বাস্তবতায় এনসিপি অস্তিত্ব সংকটে পড়েবে।
আরএমএন/এসএসএইচ
