প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেকে জনগণের সেবক মনে করেন। তিনি জনগণকে প্রাপ্য সম্মান দিয়ে আসছেন। সেখানে তার অধীনে কাজ করা কিছু জনপ্রতিনিধি ও কর্মচারী সেবকের পরিবর্তে লর্ডশিপ ফলাতে চান বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের সরকার দলীয় হুইপ ও আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন।

শনিবার (২৮ আগস্ট) কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। 

আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন বলেন, ‘সব জনপ্রতিনিধি জনগণের দয়ায় নির্বাচিত এবং সরকারি কর্মচারীরা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োজিত হন। জনপ্রতিনিধি ও কর্মচারী উভয়েই সংবিধানে বর্ণিত আইন ও আইনের আলোকে প্রণীত বিধি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। তারা অর্পিত দায়িত্ব পালন করেন। এজন্য উভয়েই কাজের বিনিময়ে জনগণের ট্যাক্সের টাকায় বেতন, ভাতা ও বিধিসম্মত সুবিধা প্রাপ্ত হন। কোনো জনপ্রতিনিধি বা কর্মচারী কেউই জমিদার, শাসক, এলাকা পিতা, স্যার, লর্ড বা প্রভুতুল্য নন।’

হুইপ বলেন, ‘দেশের ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স সবার অবস্থান নিশ্চিত করেছে। আইন ও বিধি সবার কার্যপরিধি নির্দিষ্ট করে দিয়েছে। উন্নয়ন ও মানব কল্যাণের পাশাপাশি সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে। অযথা বাহারি আচরণ ও জনমনে অসন্তোষ সৃষ্টিকারী মোটর শোভাযাত্রা বন্ধ করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মচারীদের ট্রেড ইউনিয়ন করার মানসিকতা পরিত্যাগ করে জাতির জনক নির্দেশিত পথে জনগণের সেবার মানসিকতা নিয়ে কাজ করতে হবে। এক সাগর রক্তের বিনিময়ে বঙ্গবন্ধু প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশে প্রভুতন্ত্র প্রতিষ্ঠার অহমিকা দুঃস্বপ্ন থেকে যাবে। প্রভুতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দুঃস্বপ্ন জাতির জনকের আদর্শের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।’

জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট ফরিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে বর্ধিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা। 

জেলা সাধারণ সম্পাদক ও কক্সবাজার পৌর মেয়র মুজিবুর রহমানের সঞ্চালনায় আরও উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক ও সাইমুম সারোয়ার কমল; ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার চৌধুরি রোটন, সংসদ সদস্য কানিজ ফাতেমা, অধ্যাপিকা এথিন রাখাইন, মোস্তাক আহমেদ, রেজাউল করিম প্রমুখ। 

সেপ্টেম্বরের মধ্যে সব উপজেলা ও ইউনিয়নের কার্যনির্বাহী কমিটির বর্ধিত সভা, উপজেলাভিত্তিক সাংগঠনিক টিম গঠন, ৯ অক্টোবর তৃণমূল প্রতিনিধি সভা, অক্টোবরের তৃতীয় সপ্তাহে কক্সবাজার পৌর আওয়ামী লীগের কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। 

এইউএ/ওএফ