দেশের গণতন্ত্র ধ্বংস করতে বিএনপির ইন্ধনে সারাদেশে সাম্প্রদায়িক হামলা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

সোমবার (১৮ অক্টোবর) রাজধানীর বনানী কবরস্থানে শেখ রা‌সেল দিবস উপলক্ষে তার কব‌রে ফুল দি‌য়ে শ্রদ্ধা জানা‌নো শে‌ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ অভিযোগ করেন তিনি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, গতকাল (রোববার) রাতে রংপু‌রের পীরগ‌ঞ্জে জে‌লেপল্লীতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা তার এক‌টি উদাহরণ। সাম্প্রদায়িক সম্প্রতি নষ্ট কর‌তে বিএনপি এমন চক্রান্তে লিপ্ত হ‌য়ে‌ছে। এসব বিষ‌য়ে সবসময় খোঁজ-খবর রাখ‌ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হা‌সিনা।

তিনি বলেন, গত ১২ বছরে দুর্গাপূজার সময় মণ্ডপে কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি। অথচ এবার পরিকল্পিতভাবে এই সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী বিএনপির পৃষ্ঠপোষকতায় সারা দেশে তাণ্ডব চালিয়েছে। 

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, গতকাল (রোববার) রাতে পীরগঞ্জের একটি জেলেপাড়ায় আগুন দিয়েছে, মন্দিরে হামলা হয়েছে। গবাদি পশু পর্যন্ত সেখানে প্রাণে রক্ষা পায়নি। এ রকম নৃশংস হত্যাযজ্ঞ তারা চালিয়ে যাচ্ছে। আগুন দিয়ে যাচ্ছে। ফেসবুকে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। সেই অপপ্রচার থেকেই রংপুরের ঘটনা উদ্ভব। কাজেই আমাদের সকলকে সতর্ক থাকতে হবে। 

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কাল রাত থেকে খোঁজ-খবর নিচ্ছেন। সেখানকার প্রশাসন ও আমাদের সঙ্গেও তিনি যোগাযোগ করেছেন। পার্টি পর্যায়েও আমাদের সতর্ক পাহারায় থাকতে হবে।

আওয়ামী লীগের এই শীর্ষ নেতা বলেন, ১৯৭৫ সাল থেকে এই দেশে হত্যা, ষড়যন্ত্র এবং সাম্প্রদায়িক রাজনীতির যে ধারা, তার উত্তরাধিকার এখনও বয়ে চলেছে বিএনপি। এই হত্যা, ষড়যন্ত্র ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতির জন্য দেশের বহুকষ্টে অর্জিত গণতন্ত্র বার বার ব্যাহত হচ্ছে। 

তিনি বলেন, শেখ রাসেলের জন্মদিনে আমাদের শপথ হোক বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অর্জন এবং মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে যে সাম্প্রদায়িক অপশক্তি বিষবৃক্ষ ডালপালা গজিয়েছে তা উপড়ে ফেলতে হবে। 

সরকার নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে মন্দিরে হামলা করছে বিএনপির এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি তো তাদের নেতাকর্মীদের মন্দিরের নিরাপত্তা ও পাহারা দেওয়ার জন্য বলেছে। কোথায় পাহারা দিয়েছে? ওদেরকে পাহারা দিতে দেওয়া মানে হলো শিয়ালের কাছে মুরগি বর্গা দেওয়া। 

সম্প্রতি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য (সাঈদ খোকন) সংবিধানের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে দলগতভাবে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এসব বিষয়ে বিচ্ছিন্নভাবে কেউ যদি বলে থাকেন, এটা আমাদের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠক আছে। সেখানে আমরা সিদ্ধান্ত নেব। দলের অভ্যন্তরে থেকে, দলের আদর্শবিরোধী কেউ যদি বক্তব্য দেয়, আচরণ করে। তাহলে অবশ্যই সে শাস্তি পাবে। 

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, জাহাঙ্গীর কবির নানক, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য মাহবুবউল আলম হানিফ, দীপু মনি, হাছান মাহমুদ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, আহমদ হোসেন, বিএম মোজ্জামেল হক, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, আফজাল হোসেন,আবদুস সোবহান গোলাপ, অসীম কুমার উকিল, আব্দুস সবুর প্রমুখ। 

এইউএ/এসকেডি