কিশোয়ার চৌধুরী নূপুর

প্রতিযোগিতামূলক রান্নার অনুষ্ঠান ‘মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়া’র ফাইনালে পান্তাভাত ও আলুভর্তা রান্না করে মন জিতে নিয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রতিযোগী কিশোয়ার চৌধুরী নূপুর। রান্না শেষে বিচারকদের উদ্দেশে তিনি এই খাবার পরিবেশনও করেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়ার ভেরিফায়েড পেইজে এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও আপলোড করা হয় সোমবার (১২ জুলাই)। এরপরই তা ভাইরাল হয়।

ভিডিওতে দেখা যায়, প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বে নিজের রান্নার কথা জানাতে গিয়ে কিশোয়ার চৌধুরী বলছেন, এটা এমনই এক খাবার যেটা আপনারা কোনো রেস্টুরেন্টে পাবেন না। এটি বেশ দুর্লভ। প্রতিযোগিতার ফাইনালে আমি এই খাবার তৈরি করতে পেরেছি এবং এটা আমার জন্য আনন্দের।

এ খাবার মুখে নিয়ে ‘পাওয়ারফুল ফুড’ উপাধি দিলেন বিচারক মেলিসা লিওং। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চূড়ান্ত বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হবে। দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন কিশোয়ার ও তার মা লায়লা চৌধুরী।

ছোটবেলা থেকেই কিশোয়ার সৃজনশীলতার প্রতি একটু বেশি আগ্রহী। তবে রান্না বিষয়ক এমন কিছু করবেন তা ভাবেননি কখনোই। 

মা লায়লা চৌধুরী জানান, ও আমার কাছে রান্না শিখেছে। আবার আমার মা কাছেও অর্থাৎ ওর নানুর থেকেও বাঙালি খাবারের তালিম নিয়েছিলেন কিশোয়ার। 

আজ (মঙ্গলবার) অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ৯টায় শুরু হবে চূড়ান্ত বিজয়ী বাছাইয়ের পর্ব। নতুন করে আর রান্না করতে হবে না কিশোয়ারকে। বিজয়ী হওয়ার দৌড়ে তিনি এখন পর্যন্ত  ৫১ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে আছেন। তার থেকে মাত্র ২ পয়েন্ট বেশি নিয়ে এগিয়ে আছেন প্রথমজন।

বাংলাদেশি কমিউনিটির অনেকেই আজ চোখ রাখবেন টিভি পর্দায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তাকে নিয়ে আলোচনা চলছে। অনেকেই বলছেন, আন্তর্জাতিক  খেতাব পাবে বাংলাদেশি কন্যা। তাও আবার খাঁটি বাংলা খাবারের প্রতিনিধিত্ব করে। এটা সত্যিই গর্ব করার মতো।

কিশোয়ারের যেন বিজয়ী বেশে ফিরতে পারেন তাই সবার কাছে দোয়া চেয়ে মা বলেন, ‘আমার মেয়ে গোটা বাঙালি জাতিকে প্রতিনিধিত্ব করছে। যা অস্ট্রেলিয়ায় মূলধারায় বাংলা ঘরানার খাবারের প্রচলন ঘটাতে সাহায্য করবে। আমরা নিশ্চয় আশাবাদী। আমরা চাই মুকুট ওর কাছেই আসুক। বাংলাদেশের হয়ে ও জিতুক। না হলেও আমরা নিরাশ হব না। শুরু থেকে এখন পর্যন্ত বাংলাকে ধরে রাখাটাও অনেক বড় অর্জন।’ 

অনুষ্ঠানের শুরু থেকে আত্মপ্রত্যয়ী ছিলেন কিশোয়ার। শীর্ষ বিশে সুযোগ পেয়ে আনন্দে কেঁদেছিলেন। সেদিন উপস্থাপন করেছিলেন বাংলাদেশি স্ট্রিটফুড ফুচকা। 

কিশোয়ার বলেন, ‘একেবারে বাংলার আদলে মজাদার খাবারগুলোর সঙ্গে অস্ট্রেলিয়াকে পরিচিত করেতে চেয়েছি। আমি কোনো দিনও প্রফেশনাল রাঁধুনি হওয়ার কোর্স করিনি। একেবারে ঘরোয়াভাবে রান্না শিখেছি।’ 

পান্তা ভাত, আলু ভর্তার সঙ্গে দেওয়া বিবরণীতে কিশোয়ার বিচারকদের জানিয়ে দেন এ খাবার কোনো রেস্তোরাঁয় পাওয়া যায় না। ঐতিহ্যবাহী এ খাবারের রয়েছে গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস। বিচারকরাও বেশ প্রশংসা করেন বাংলার পান্তা ভাতে। একটু পরেই জানা যাবে মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়ার সিজন থার্টিনের বিজয়ীর নাম।

ওএফ