প্রতীকী ছবি

মানব জাতির হেদায়েতের জন্য আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআন অবর্তীণ করেছেন। এগ্রন্থে অবতীর্ণ বিধিমালা অনুসরণে রয়েছে পুরো মানব জাতির সুখ-সমৃদ্ধি ও কল্যাণ। কোরআন বেশি বেশি তেলাওয়াতকারীদের আল্লাহর পরিজন বলে উল্লেখ করা হয়েছে হাদিসে। আনাস বিন মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (স.) ইরশাদ করেছেন, কিছু মানুষ আল্লাহর পরিজন। সাহাবিরা জিজ্ঞেস করেন, হে আল্লাহর রাসুল, তারা কারা? তিনি বলেন, কোরআন তেলাওয়াতকারীরা আল্লাহর পরিজন এবং তাঁর বিশেষ বান্দা।’ -(ইবনে মাজাহ: ২১৫)

কোরআন সব সময় তেলাওয়াত করা ও ধারণ করা যতটা সৌভাগ্য ও সুসংবাদের ভুলে যাওয়া ঠিক ততটাই দুভার্গ্যজনক। হজরত সাদ ইবনে ওবায়দা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি কোরআন পড়ে ভুলে যায়, সে কেয়ামতের দিন আল্লাহর দরবারে এমন অবস্থায় আসবে যে, কুষ্ঠ রোগের কারণে তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ যেন খসে খসে পড়ছে।’ (আবু দাউদ : ১৪৭৪) 

আরেক হাদিসে আল্লাহর রাসুল বলেছেন,

আমার উম্মাতের গুনাহসমূহ আমাকে দেখানো হয়েছে। আমি তাতে কোরআনের কোন সূরাহ বা আয়াত শেখার পর তা ভুলে যাওয়ার চাইতে বড় গুনাহ আর দেখি নি। (আবু দাউদ ৪৬১ তিরমিযী ১৯৭৬ ইবনু খুযাইমাহ ১৯১৬)

নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেছেন, ‘যদি কেউ এভাবে বলে যে, আমি অমুক অমুক আয়াত ভুলে গিয়েছি তাহলে তা তার জন্য খুবই খারাপ। বরং তাকে তো ভুলিয়ে দেয়া হয়েছে। তোমরা কোরআনকে স্মরণ রাখ। কারণ কোরআন মানুষের হৃদয় থেকে পা বাঁধা পলায়নপর চতুস্পদ জন্তুর চেয়েও অধিক পলায়নপর। ছাড়া পেলেই পালিয়ে যায় অর্থাৎ স্মরণ রাখার চেষ্টা না করলেই ভুলে যায়।’ -(মুসলিম ১৭২৬)

এ বিষয়ে আল্লামা ইবনে হাজার আসকালানি (রহ.) উদ্ধৃত করেছেন, ‘কোনো বান্দা যখন কোরআন মুখস্থ করে তা ভুলে যায় সে পাপের জন্ম করে। কেননা আল্লাহ বলেছেন, তোমাদেরকে যে বিপদ স্পর্শ করে তা তোমাদের হাতের উপার্জন। আর কোরআন ভুলে যাওয়া সবচেয়ে বড় বিপদ।’ -(ফাতহুল বারি : ৯/৮৬)

কোরআন ভুলে যাওয়ার হুকুম নিয়ে আলেমদের মাঝে কয়েকটি মতামত রয়েছে। কেউ বলেন, কোরআন ভুলে যাওয়া কবিরা গুনাহ। কোন কোন আলেমের মতে, কোরআন ভুলে যাওয়া গুনাহর কাজ; তবে কবিরা গুনাহর পর্যায়ে পৌঁছবে না। কারো কারো মতে, এটি এমন একটি মুসিবত যা বান্দার অন্তর ও দ্বীনদারিকে আক্রান্ত করে। এর ফলে বান্দার কোন কোন আমলের উপর আল্লাহর শাস্তি নামতে পারে। -(মাজমু’উল ফাতাওয়া ১৩/৪২৩)

কেউ যদি অবহেলার কারণে কোরআন ভুলে যায়, তবে তার পাপ হবে। কেননা পবিত্র কোরআনে ঘোষণা এসেছে, ‘যে আমার স্মরণে বিমুখ থাকবে, অবশ্যই তার জীবন-যাপন হবে সংকুচিত এবং আমি তাকে কিয়ামতের দিন উঠাব অন্ধ অবস্থায়।’ -(সুরা : ত্বহা, আয়াত : ১২৪)

অতএব, কোরআনকে শিখে ভুলে যাওয়া একটি নিন্দনীয় কাজ। আলেমদের মতে, কোরআন ভুলে যাওয়ার  কয়েকটি অর্থ হতে পারে। ১. কোরআন তেলাওয়াত শেখার পর তেলাওয়াত না করতে করতে পড়তে ভুলে যাওয়া; ২. হিফজ করার পর মুখস্ত পড়তে ভুলে যাওয়া; ৩. কোরআন তেলাওয়াত ও হিফজ করার পর পড়া ছেড়ে দেওয়ার মাধ্যমে কোরআনের কথা ভুলে যাওয়া এবং ৪. কোরআনের হুকুমসমূহ জানার পর তা ভুলে যাওয়া। যেভাবেই ভুলে যাওয়া হোক তার পরিণাম অত্যন্ত ভয়াবহ।

এনটি