শেষ দশকে আমল-ইবাদত বৃদ্ধি করবেন যে কৌশলে

রমজানের শেষ দশ দিনের গুরুত্ব অপরিসীম। মুমিন মুসলমানের কাছে প্রতিটি দিনই ইবাদতের, তবে এই দিনগুলো একটু বেশিই বিশেষ। কারণ, এই দশ দিনের মধ্যেই লুকিয়ে আছে হাজার মাসের চেয়েও উত্তম রজনী লাইলাতুল কদর।
পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, লাইলাতুল কদর হলো এক হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। (সুরা আল-কদর, আয়াত : ৩)। অর্থাৎ, এই এক রাতে ইবাদত করলে যে সওয়াব পাওয়া যায়, তা অন্য সাধারণ এক হাজার মাস ইবাদত করার চেয়েও বেশি।
রাসুল (সা.) রমজানের শেষ দশ দিন ইবাদতে এতটাই মগ্ন হতেন যা অন্য কোনো সময়ে দেখা যেত না। বুখারী ও মুসলিম শরীফের বর্ণনা অনুযায়ী, মহানবী (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি ঈমান ও সওয়াবের আশায় কদরের রাতে ইবাদত করবে, তার পূর্ববর্তী সকল গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।
এই বিশেষ দিনগুলোতে আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য যেভাবে আমল করতে পারেন—
ইবাদতের জন্য বিশেষ সময় বের করা
দুনিয়াবি ব্যস্ততা থেকে কিছুটা ছুটি নিয়ে এই সময়টুকু পুরোপুরি আল্লাহর ইবাদতে কাটানোর চেষ্টা করুন। সম্ভব হলে কর্মক্ষেত্র থেকে কয়েক দিনের ছুটি নিন, যাতে রাতে দীর্ঘ সময় জেগে ইবাদত করা সহজ হয় এবং পরদিনের কাজের চাপ দুশ্চিন্তার কারণ না হয়।
ইতিফাক করা
রাসুল (সা.)-এর সুন্নত অনুযায়ী শেষ দশ দিন মসজিদে ইতিকাফ করা অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। যদি পুরো দশ দিন সম্ভব না হয়, তবে অন্তত এক বা দুই দিনের জন্য হলেও ইতিকাফের নিয়ত করতে পারেন।
বিশেষ দোয়া পাঠ
হজরত আয়েশা (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে জানতে চেয়েছিলেন, কদরের রাত পেলে তিনি কী দোয়া করবেন। নবীজি (সা.) শিখিয়েছিলেন: আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন তুহিব্বুল আফওয়া ফাফু আন্নি (হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমাশীল, ক্ষমা করতে ভালোবাসেন; অতএব আমাকে ক্ষমা করুন)।
কোরআন তিলাওয়াত
তারাবিতে যে সুরাগুলো পড়া হচ্ছে, দিনের বেলা সেগুলো অর্থসহ পড়ার চেষ্টা করুন। এর মাধ্যমে কোরআন তিলাওয়াতে মনোযোগ বাড়বে এবং কোরআনের বার্তার সাথে সরাসরি সংযোগ ঘটবে।
আত্মোপলব্ধি ও তওবা
নির্জনে বসে নিজের জীবন নিয়ে ভাবুন। আপনার ভালো কাজগুলোর জন্য আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করুন এবং ভুলগুলোর জন্য অনুতপ্ত হয়ে চোখের পানি ফেলুন। এই অনুশোচনাই আপনাকে আল্লাহর আরও কাছে নিয়ে যাবে।
শেষ রাতে দীর্ঘ মোনাজাত
রাতের শেষ এক-তৃতীয়াংশ দোয়া কবুলের শ্রেষ্ঠ সময়। সেহরির অন্তত এক ঘণ্টা আগে উঠে তাহাজ্জুদ পড়ে আল্লাহর কাছে দু’হাত তুলে নিজের মনের সব আকুতি জানান।
পরিবারকে সময় দিন
ইবাদতের পাশাপাশি পরিবারের প্রতিও খেয়াল রাখা জরুরি। সারা মাস হয়তো কাজের চাপে পরিবারের সাথে ঠিকমতো ইফতার করা হয়নি, এখন সেই সুযোগটি কাজে লাগান। সন্তানদের ও জীবনসঙ্গীকে সাথে নিয়ে তারাবির নামাজ পড়ুন।
নবীজির জীবনী পড়ুন
এই কয়েক দিনে নবীজি (সা.)-এর জীবনী বা সিরাত গ্রন্থ পড়ার চেষ্টা করুন। দ্বীনের জন্য তার ত্যাগ ও সংগ্রামের কথা জানলে ইবাদতের প্রতি আগ্রহ ও ভালোবাসা আরও বেড়ে যাবে।
এনটি