ঢাকা পোস্টকে সাক্ষাৎকার
ভারতকে হারিয়ে ট্রফি জয় ক্যারিয়ারের সেরা স্মৃতি : মোহাম্মদ আমির
মোহাম্মদ আমির একটা নাম সেই সঙ্গে একটা অধ্যায়ও। যে নামের সঙ্গে জুড়ে রয়েছে একরাশ হতাশাও। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার লম্বা না হওয়ার কারণে সমর্থকরা এখনো পোড়েন অতৃপ্তিতে। চলমান বিপিএলে পাকিস্তানের এই তারকা পেসার খেলছেন সিলেট টাইটান্সের হয়ে। আজ শুক্রবার মুখোমুখি হয়েছিলেন ঢাকা পোস্টের ক্রীড়া প্রতিবেদক সাকিব শাওনের।
নিজের ক্যারিয়ার, দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত-পাকিস্তানের দ্বৈরথ এবং বিপিএল নিয়ে কথার ঝাঁপি খুলে বসলেন যেন। ঢাকা পোস্টের পাঠকদের জন্য কথোপকথনের চুম্বক অংশ তুলে ধরা হলো।
বিজ্ঞাপন
ঢাকা পোস্ট : বিপিএলের পরিচিত মুখ আপনি, এই টুর্নামেন্টে খেলছেন অনেক বছর ধরে। একটি জিনিস পরিবর্তন করতে চাইলে সেটা কী হবে?
আমির: একটি জিনিস পরিবর্তন করা—সত্যি বলতে অনেক কিছুই আছে। তবে আমি মনে করি উইকেট আরও ভালো হতে পারে। কিন্তু আগের অভিজ্ঞতার সঙ্গে তুলনা করলে এখনকারটা ভালো। যদি দেখেন, ম্যাচগুলো খুব ক্লোজ হচ্ছে। ক্রিকেটের মান উন্নত হচ্ছে। তাই আমি আসলে কিছু পরিবর্তনের কথা বলতে পারি না।
বিজ্ঞাপন
তবে হ্যাঁ, তারা যদি আরও বেশি তরুণ খেলোয়াড়কে সুযোগ দেয়, সেটা ভালো হবে। আমি দুই-তিনজন তরুণ খেলোয়াড় দেখেছি, তারা খুব ভালো এবং উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ আছে। কিন্তু তাদের যত্ন নিতে হবে এবং গড়ে তুলতে হবে।
ঢাকা পোস্ট : গতকাল শামীম হোসেন পাটোয়ারী দারুণ একটি ইনিংস খেলেছেন, আপনি বোলিংয়ে ছিলেন ইনিংসের শেষ ওভারে?
আমির: সত্যি বলতে, বিপিএলে দেখা সেরা ইনিংসগুলোর একটি। সে দারুণ কিছু শট খেলেছে। একজন বোলার হিসেবে বললে, তার কাছে এমন সব শট আছে যেগুলো দিয়ে সে বোলারদের সামলাতে পারে। বাংলাদেশে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ আছে তার।
ঢাকা পোস্ট : একটা সময় আপনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বাইরে ছিলেন, বিপিএলের মাধ্যমে আবারও ফিরে এসেছিলেন।
আমির: হ্যাঁ, বিপিএলই ছিল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার পথ। তার আগে আমি পাকিস্তানে মাত্র পাঁচটি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলেছিলাম। এখানে চিটাগং ভাইকিংসের হয়ে খেলি, ভালো পারফর্ম করি। তামিম ভাই অধিনায়ক ছিলেন। সেটাই ছিল আমার ফিরে আসার রাস্তা। বিপিএল আমার হৃদয়ের খুব কাছের, কারণ এই টুর্নামেন্টই আমাকে আবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরিয়ে এনেছে।
ঢাকা পোস্ট : শোনা যায়, বিপিএলের পারফরম্যান্স বিবেচনায় রাখে পিসিবির নির্বাচকরা। বিপিএল কি পাকিস্তানের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ভূমিকা রাখে বলে মনে করেন?
আমির: দেখেন সামনে বিশ্বকাপ রয়েছে শ্রীলঙ্কা ও ভারতে। এখানকার কন্ডিশনও প্রায় একই। এখানে ব্যাটসম্যানদের জন্য চ্যালেঞ্জিং, বিশেষ করে ঢাকায়। বিপিএল পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের ক্যারিয়ারে বড় ভূমিকা রাখে নিঃসন্দেহে।
ঢাকা পোস্ট : বর্তমান সময়ে মুস্তাফিজুর রহমানকে কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?
আমির: আমার মনে হয় সে বাংলাদেশতো বটেই বিশ্ব সেরাদের একজন। সে দিন দিন আরও ভালো হচ্ছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো তার ফিটনেস। সে ফিট আছে, শিখতে চায়; প্রতিদিন শিখছে এবং প্রতিদিন আরও ভালো করছে।
ঢাকা পোস্ট : সেক্ষেত্রে আপনার প্রিয় বাংলাদেশি ক্রিকেটার কে?
আমির: আমার প্রিয়—আমার ভালো বন্ধু শান্ত (নাজমুল হোসেন)। শান্ত আমার ভালো বন্ধু এবং আমি তাকে একজন খেলোয়াড় হিসেবে খুব পছন্দ করি। সে দারুণ খেলোয়াড়।
ঢাকা পোস্ট : সাকিব আল হাসান সম্পর্কে কি বলবেন?
আমির: আমি সাকিব ভাইকে ২০১৫-১৬ সাল থেকে চিনি। সে আমার মতোই একটু আগ্রাসী, কিন্তু সে খুব ভালো মানুষ। সম্প্রতি টি-টেনে তার সঙ্গে দেখা হয়েছে, সে ভালো করছে। সে বাংলাদেশের একজন বড় অ্যাম্বাসেডর। সে অনেক কিছু দিয়েছে, অনেক পারফর্ম করেছে এবং বাংলাদেশ ক্রিকেটে তার বিশাল ভূমিকা আছে।
ঢাকা পোস্ট : আপনি মাশরাফি বিন মুর্তজার সঙ্গে অনেক ক্রিকেট খেলেছেন। ক্রিকেটার হিসেবে তাকে আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?
আমির: আমি তার সঙ্গে অনেক খেলেছি, তিনি তখন সিলেট স্ট্রাইকার্সের অধিনায়ক ছিল। আমি তাকে খুবই বিনয়ী মানুষ হিসেবে পেয়েছি এবং সে আমার ভালো বন্ধু। আমি দুই দিন আগেই তার সঙ্গে কথা বলেছি। অনেক মানুষ তাকে অনেক সম্মান করে। তিনি দীর্ঘদিন বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য অবদান রেখেছেন। আমি শুধু তাকে শুভকামনা জানাতে চাই।
ঢাকা পোস্ট : ২০২০ সালে খুলনা টাইটান্সে খেলতে এসে পাঁচ উইকেট নিয়ে নাফিস ইকবালকে পাঁচ আঙুল দেখিয়েছিলেন কারণ কী ছিল?
আমির: নাফিস ভাই খুব ভালো মানুষ। সম্প্রতি তার সঙ্গে আবার দেখা হয়েছে। আমাদের সম্পর্ক খুব ভালো, প্রায়ই ফোনে কথা হয়। যখন আমি খুলনার হয়ে খেলছিলাম, তখন সে ম্যানেজার ছিল। বিপিএলে এটা ছিল আমার প্রথম ফাইফার। তাই আমি তাকে পাঁচ আঙুল দেখিয়েছিলাম—‘এটা তোমার জন্য’।
ঢাকা পোস্ট : ২০১৭ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আপনার বলে বিরাট কোহলির ক্যাচ মিস হয়েছিল তখন আপনার মাথায় কী চলছিল বলা যাবে?
আমির: সে সময়টাতে খুব বেশি ছিল না ভাবার। আমি তখনও ভাবছিলাম ফখরের নো বলের কথা, যেটার পর সে সেঞ্চুরি করেছিল। বিরাট একজন বড় খেলোয়াড়। আমি ভাবছিলাম, এটা আবার হতে দেওয়া যাবে না। সে যদি সেঞ্চুরি করে, ভারত ট্রফি জিতে যাবে।
ঢাকা পোস্ট : সেদিন পাওয়ারপ্লেতে ধাওয়ান, কোহলি ও রোহিত—তিনজনকে আউট করার অনুভূতি কেমন ছিল?
আমির: সত্যি বলতে, ভারতের বিপক্ষে ফাইনাল খেলে জেতাটাই আমার ক্যারিয়ারের সেরা স্মৃতি। ওই স্পেলটা আমার হৃদয়ের খুব কাছের।
ঢাকা পোস্ট : মানুষ প্রজন্মের পর প্রজন্ম এটা নিয়ে কথা বলবে....
আমির: যেমন আমরা ওয়াসিম ভাইয়ের ১৯৯২ সালের স্পেল নিয়ে কথা বলি, তেমনি এই প্রজন্ম আমার চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালের সেই স্পেল নিয়ে কথা বলছে। এটা আমার জীবনের সেরা স্পেল।
ঢাকা পোস্ট : ২০০৯ সালে শচীন টেন্ডুলকারকে একবার স্লোয়ারের মাধ্যমে আউট করেছিলেন
আমির: ওই উইকেটটার অনুভূতি আলাদা। শচীনের বিরুদ্ধে বোলিং করা আমার স্বপ্ন ছিল। ওই উইকেটের পর ভারতে আমার অনেক ভক্ত তৈরি হয়।
ঢাকা পোস্ট : বিসিবি যদি কখনো আপনাকে পেস বোলিং কোচ বা মেন্টর হতে বলে?
আমির: আমি খুব খুশি হবো এবং অবশ্যই করতে চাই।
এসএইচ/এফআই