বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল খেলতে পয়েন্ট টেবিল ভারতের অনুকূলেই ছিল। তবুও কিছু সমীকরণ মেলাতে হয়েছে তাদের। শ্রীলঙ্কার সঙ্গে সমতালে চলছিল ভারতের ফাইনালে ওঠার লড়াই। ভারত পয়েন্ট ব্যবধানে এগিয়েই ছিল। এরপরও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শেষ টেস্টে তাদের অন্তত ড্র করতে হতো। সেটিও সম্পন্ন করেছে তারা। অন্যদিকে, লঙ্কানরা কিউইদের বিপক্ষে সিরিজ জিতলে ভারতের ফাইনাল খেলা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিত। তাই তাদের নজর ছিল নিউজিল্যান্ড-শ্রীলঙ্কা ম্যাচের দিকেও।

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ক্রাইস্টচার্চ টেস্টের প্রথম দু’দিনে ম্যাচের রাশ ছিল শ্রীলঙ্কার হাতে। তবে তৃতীয় দিন থেকে শ্রীলঙ্কার রাশ আলগা হতে থাকে। চতুর্থ দিনের শেষে ম্যাচের পরিস্থিতি এমন জায়গায় দাঁড়িয়ে ছিল যেখান থেকে দু’দলের যে কেউই ম্যাচ জিততে পারত। যদিও ঘরের মাঠে খেলা বলেই কিছুটা এগিয়ে ছিল নিউজিল্যান্ড। শেষমেশ প্রকৃতির বাধা সত্ত্বেও শেষ দিনে বাজিমাত করেন উইলিয়ামসনরা।

শেষ দিনে বৃষ্টি বাধ সাধায় মনে করা হচ্ছিল বুঝি নিউজিল্যান্ড-শ্রীলঙ্কা ক্রাইস্টচার্চ টেস্ট অমিমাংসিতই থেকে যাবে। তবে হিসেবটা বদলে দেয় নিউজিল্যান্ড। তারা কার্যত ওয়ানডে ক্রিকেটের ঢংয়ে রান তুলে ম্যাচ নিজেদের করে নেয়।

কিউইদের জয়ে তাদের চেয়েও বেশি খুশি ভারত। তাদের মাটিতে অজিদের সঙ্গে ম্যাচে নিষ্প্রাণ ড্রয়ের দিকে ম্যাচ ছুটে চলছিল। তবে নিজেদের টেস্ট মাঝখানে রেখে ড্রেসিংরুমের সবার চোখ মগ্ন হয় জায়ান্ট স্ক্রিনে। ক্রাইস্টচার্চে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে নিউজিল্যান্ডের রোমাঞ্চকর রান তাড়া দেখছিলেন তারা। শেষ বলের উত্তেজনায় কিউইরা জিতে গেলে উল্লাস ছড়িয়ে পড়ে ভারতীয়দের মধ্যেও!

যা অকপটে স্বীকার করে নিয়েছেন ভারতীয় কোচ রাহুল দ্রাবিড়ও। একইসঙ্গে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ওঠার পেছনে কিউইদের ভূমিকার জন্য দ্রাবিড় তাদের কৃতজ্ঞতা জানান। সাবেক এই ভারতীয় ক্লাসিক ব্যাটার জানান, ‘আমরা খুব প্রতীক্ষা নিয়ে দেখছিলাম, আশা করছিলাম শ্রীলঙ্কা যেন না জেতে। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ দুই বছর লম্বা সময় ধরে হয়। ৬টা টেস্ট সিরিজ খেলতে হয়। স্বাভাবিকভাবে অন্যদের উপর নির্ভর করা লাগে। একইসঙ্গে নিজেদের সেরা খেলাটা দিয়ে লড়াইটা জারি রাখতে হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা একটু চিন্তায় ছিলাম কারণ নিউজিল্যান্ড ড্রয়ের চেয়ে জেতার ঝুঁকিটা নিচ্ছিল। নিজেদের মধ্যে আলাপ করছিলাম। পরে ভাবলাম নিউজিল্যান্ড অবশ্যই জেতার দিকে যাবে, ড্রয়ের জন্য না। এমনকি লাঞ্চের সময় আমরা শেষ ৫-৬ ওভার জায়ান্ট স্ক্রিনে দেখেছি, এবং সত্যিই রোমাঞ্চ অনুভব করেছি।’

এএইচএস