ফুটবলে লাতিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিল কত-শত রথি-মহারথির জন্ম দিয়েছে তার ইয়ত্তা নেই। দেশটিতে এই খেলাকে অনেকটা ধর্মের সমপর্যায়ের বিবেচনা করা হয়। পাড়া-মহল্লা ও গলিতে-গলিতে তাই ফুটবল নিয়ে কারিকুরি করা মানুষের ভিডিও অনলাইনের কল্যাণে সহজেই দেখা মেলে। ফলে খেলোয়াড় কেনা-বেচায়ও রয়েছে তার ছাপ। খেলোয়াড় ‘আমদানি-রপ্তানি’তে সেলেসাওরা সবার শীর্ষে রয়েছে।

এই তথ্য জানিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। তাদের দেওয়া হিসাব অনুসারে— এবার খেলোয়াড় ‘আমদানি-রপ্তানি’তে সবার ওপরে ছিল সর্বোচ্চ পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। খেলোয়াড় কেনায় ব্রাজিল এগিয়ে থাকলেও, সবচেয়ে বেশি খরচ করেছে ২০১৯ বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স। অন্যদিকে, খেলোয়াড় বিক্রি করে যথারীতি আগের বছরের চেয়ে অনেক বেশি আয় হয়েছে ব্রাজিলের।

ফিফা বলছে, সর্বশেষ শীতকালীন দলবদলে বাইরে থেকে ব্রাজিলে খেলতে গেছেন ৪০৯ জন ফুটবলার। যা ফিফার সদস্যদেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। এসব খেলোয়াড় কিনতে ব্রাজিলকে খরচ করতে হয়েছে ১২ কোটি ২৬ লাখ ডলার। জানুয়ারিতে সবমিলিয়ে ২৪৯ জন খেলোয়াড় বিক্রি করেছে ব্রাজিলিয়ান ক্লাবগুলো। ফুটবলার বিক্রি করে আয়েও সবার ওপরে আছে ক্লাবটি। এই খাত থেকে ব্রাজিলে এসেছে ২৫ কোটি ১২ লাখ ডলার। যা কিনা আগের বছরের দ্বিগুণের বেশি (৯ কোটি ৭৩ লাখ)।

তবে খেলোয়াড়সংখ্যার দিক থেকে সবার ওপরে থাকলেও অর্থের অঙ্কে ব্রাজিলের অবস্থান পঞ্চম। খরচে সবার ওপরে আছে ফ্রান্স। ১১৪ খেলোয়াড় কিনতে দেশটির ক্লাবগুলো খরচ করেছে ২৯ কোটি ১৯ লাখ ডলার। যা কিনা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১২১ শতাংশ বেশি। দুইয়ে থাকা পর্তুগাল খেলোয়াড় কিনেছে ২৫২ জন। এতে দেশটির ক্লাবগুলো ৪ কোটি ১৫ লাখ ডলার খরচ করেছে।

খেলোয়াড় কেনায় তিনে আছে ব্রাজিলের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনা। ২২৬ জন খেলোয়াড় কিনতে দেশটির খরচ ৪ কোটি ১০ লাখ ডলার। তবে আলবিসেলেস্তেরা খেলোয়াড় বিক্রিতে অল্পের জন্য ব্রাজিল টপকাতে পারেনি। লিওনেল মেসিদের দেশ দলবদলে খেলোয়াড় বিক্রি করেছে ২৪৮ জন। আয়ের দিক থেকে অবশ্য তাদের অবস্থান চারে। তারা ১০ কোটি ৯৩ লাখ ডলার আয় করেছে।

সংখ্যার দিক থেকে খেলোয়াড় কেনায় ইংল্যান্ডের অবস্থান চারে। জানুয়ারির দলবদলে তারা কিনেছে ১৭৪ জন ফুটবলার। যদিও খরচে ফ্রান্সের পরই অবস্থান ইংলিশদের। এ খাতে ১৮ কোটি ৪০ লাখ ডলার খরচ করেছে তারা। ইংল্যান্ডের পরের অবস্থান স্পেনের। ১৭১ জন খেলোয়াড় কিনতে ১৪ কোটি ৮৭ লাখ ডলার খরচ করেছে তারা।

উল্লেখ্য, দক্ষিণ আমেরিকার ক্লাব ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের আসর কোপা লিবার্তাদোরেসের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের ফ্লুমিনেন্স। এমনকি জানুয়ারির দলবদলের দিকে তাকালেও ব্রাজিলিয়ান ক্লাব ফুটবলের রমরমা অবস্থাটা ধরা পড়বে। যার কারণে তাদের খেলোয়াড় কেনার হারটাও অনেক বেশি। তবে আন্তর্জাতিক ফুটবলে সেলেসাওদের বর্তমান অবস্থা তেমন ভালো নয়। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বেও তারা তুলনামূলক হারে জিতছে না। শুধু জাতীয় দলই নয়, দেশটির বয়সভিত্তিক দলও বেশ সংগ্রাম করছে। সর্বশেষ দুই অলিম্পিকের চ্যাম্পিয়নরা এবার বাছাইয়ের গণ্ডিই পেরোতে পারেনি। 

এএইচএস