একে একে সাজঘরের পথ ধরলেন সতীর্থরা। কিন্তু শামীম হোসেন পাটোয়ারী খেলে গেলেন শেষ পর্যন্ত। কিন্তু ব্যাট হাতে ঝড়ো ফিফটি তুলে নিলেও দলকে জয় এনে দিতে পারলেন না এই ডানহাতি ব্যাটার। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) দিনের প্রথম ম্যাচে ঢাকা ক্যাপিটালসকে ৬ রানে হারিয়েছে সিলেট টাইটান্স।

ম্যাচের শুরুতে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটের বিনিময়ে ১৭৩ রান করে সিলেট। জবাবে ঢাকার ইনিংস থেমেছে মাত্র ১৬৭ রানে।

দ্রুত টপঅর্ডারদের হারিয়ে আগেই ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় ঢাকা। এরপরও আপনতালে খেলে যাচ্ছিলেন শামীম। জয়ের জন্য শেষ ওভারে দরকার ছিল ২৭ রান। আমিরের করা শেষ ওভারে এটা প্রায় অসম্ভবই ছিল। এরপরও হার মানেননি শামীম। তিন চার ও এক ছক্কায় ২০ রান তোলেন তিনি।

রান তাড়া করতে নেমে মোহাম্মদ আমিরের আগুনঝরা বোলিংয়ে শুরুটাই ভালো করতে পারেনি ঢাকা। প্রথম দুই ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে মাত্র ১ রান করে তারা। শুরুর চাপ সামলেই নেন সাইফ হাসান ও উসমান খান। কিন্তু পাওয়ার প্লের শেষ বলে আউট হয়ে সাজঘরের পথ ধরেন উসমান। ১৫ বলে ২১ রান করেন তিনি।

পরের বলেই আউট হন সাইফ। তার ব্যাট থেকে আসে ৯ রান। রানের দেখা পাননি দলনেতা মোহাম্মদ মিঠুন। আর নাসির হোসেন করেন মাত্র ৫ রান।

মাত্র ৪৩ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে একপ্রকার ছিটকে যায় ঢাকা। ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে আসে ৪৬ রান। ১৯ বলে ২৩ রানে সাব্বির আউট হন। আর পরের উইকেটে নেমে ১০ বলে ৮ রান করেন ইমাদ ওয়াসিম। আর রানের দেখা পাননি মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন।

এদিকে তাসকিন আহমেদকে নিয়ে শেষ ওভার পর্যন্ত খেলে যান শামীম হোসেন। মাত্র ৩২ বলে ফিফটি পূরণের পর ৪৩ বলে করেন ৮১ রানে। অপরাজিত থাকেন তিনি। আর ৫ বলে ৩ রান করে মাঠ ছাড়েন তাসকিন।

এর আগে টস জিতে সিলেটকে আগে ব্যাটিংয়ে পাঠায় ঢাকা। ব্যাট করতে নেমে সিলেট দলীয় ১৫ রানেই সালমান মির্জাকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে ক্যাচ দিয়েছেন ওপেনার রনি তালুকদার (৭ বলে ১১)।

লাগাতার বাঁ-হাতি ব্যাটার এড়াতে ওয়ানডাউনে ব্যাটিংয়ে নামেন সিলেটের অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ। কিন্তু তিনি হাল ধরতে পারেননি, তাসকিনের বলে ক্যাচ আউট মিরাজ (৬)। চাপে পড়া দলকে টেনে তোলার চেষ্টায় ৬৪ রানের জুটি গড়েন সাইম আইয়ুব ও পারভেজ হোসেন ইমন। যদিও সাইম ধীরগতির ইনিংস (৩৪ বলে ২৯) খেলে ফেরার অল্প সময়ের ব্যবধানে ফেরেন ইমনও। আগের দুই ম্যাচে ফিফটি করা বাংলাদেশি এই ওপেনার এবার ফিরলেন ৬ রানের (৩২ বলে ৪৪) আক্ষেপ নিয়ে।

আফিফ ফিরেছেন ব্যক্তিগত ১৩ রানে। ৫১ রানের জুটি গড়ে বাকি ইনিংস শেষ করেছেন ওমরজাই-ব্রুকস। বিশেষ করে এর আগপর্যন্ত দারুণ ইকোনমি ধরে রাখা সালমান মির্জার এক ওভারেই ২২ রান তুলেছেন ওমরজাই। শেষ পর্যন্ত তিনি অপরাজিত ছিলেন ২৪ বলে ৫০ রানে। এ ছাড়া ৬ বলে ১৩ রান ইথান ব্রুকস। শেষদিকে ঢাকার শামীম পাটোয়ারী, সাইফউদ্দিনরা সহজ ক্যাচ ছাড়ায় সেই ফায়দা তুলেছে সিলেট।

ঢাকার পক্ষে ২ উইকেট নিয়েছেন সালমান মির্জা। এ ছাড়া তাসকিন আহমেদ, সাইফ হাসান ও সাইফউদ্দিন ১টি করে শিকার ধরেন। ওমরজাইদের শেষের ঝড়ের শিকার তাসকিন-সালমান, উভয় পেসারই ৪ ওভারে ৪৬ রান করে দেন।