এক ইনিংসে দুই রিটায়ার্ড আউট, টি-টোয়েন্টিতে ইতিহাস
নিউজিল্যান্ডের ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট সুপার স্ম্যাশে অভূতপূর্ব এক ঘটনা ঘটল। পুরুষদের টি-টোয়েন্টিতে প্রথমবার একই ইনিংসে দুই ব্যাটার রিটায়ার্ড আউট হলেন। ট্যাকটিক্যাল সিদ্ধান্ত হিসেবে বর্তমানে ২০ ওভারের ক্রিকেটে ব্যাটারের রিটায়ার্ড আউট হওয়ার চিত্র গত কয়েক বছরে বেশ কয়েকবার দেখা গেছে। কিন্তু পুরুষদের ক্রিকেটে একই ইনিংসে দুজন ব্যাটার আউট না হয়ে উঠে গেল প্রথমবার।
মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে ভোল্টসের বিপক্ষে মন্থর ব্যাটিং করার কারণে নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টস টানা দুই ওভারে তাদের ব্যাটারকে তুলে নেয়। তারপরই ম্যাচে গতি ফিরে পায় তারা এবং শেষ ওভারে ১৮ রান তুলে ম্যাচও টাই করে।
বিজ্ঞাপন
ইংল্যান্ডে ২০২২ ভিটালিটি ব্লাস্টে দুই ব্যাটার রিটায়ার্ড আউট হয়েছিলেন, কিন্তু একই ইনিংসে নয়। ৮ ওভারের ম্যাচে ভিন্ন ইনিংসে কার্লোস ব্র্যাথওয়েট ও স্যামিট প্যাটেল রিটায়ার্ড আউট হন। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এক দলের দুই বা তার বেশি ব্যাটারের রিটায়ার্ড আউটের রেকর্ড সংযুক্ত আরব আমিরাতের নারী দলের। ২০২৪ সালের মে মাসে ক্রিকেট ইতিহাসে ওই বিরল ঘটনা ঘটেছিল যখন সংযুক্ত আরব আমিরাত নারী ক্রিকেট দল কাতারের বিপক্ষে ম্যাচে তাদের ১০ জন ব্যাটারকেই রিটায়ার্ড আউট করে, যা ছিল বৃষ্টির কারণে সময় বাঁচানো এবং নেট রান রেট বাড়ানোর একটি কৌশল। ওই অদ্ভুতূড়ে ট্যাকটিকস কাজে লাগিয়ে ম্যাচ জেতে আমিরাত।
পুরুষ ক্রিকেটে দুজন ব্যাটারকে রিটায়ার্ড আউট করিয়ে সুফল পেয়েছে নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টসও। নিউজিল্যান্ডের সাবেক আন্তর্জাতিক তারকা জিত র্যাভেল ও জাভিয়ের বেল ভোল্টসের বোলারদের সামনে ভুগছিলেন। ১৭তম ওভারে ২৮ বলে ২৩ রানে উঠিয়ে নেওয়া হয় র্যাভালকে। পরের ওভারে বেল ফিরে যান ১৩ বলে ৯ রান করে। এই দুজনের জায়গায় নামেন বেন পোমারে ও স্কট কুগেলেইন। প্রথম বলেই তারা দুজন ছক্কা মারেন। ১০ বলে ২০ রান করেন র্যাভাল। কুগেলেইন একই ছন্দে ছিলেন ডেথ ওভার পর্যন্ত। তাতে শেষ ওভারে লক্ষ্য নেমে দাঁড়ায় ১৯-এ।
বিজ্ঞাপন
ফার্নসের প্রথম বল ছিল বিমার, নো বলে টিম প্রিঙ্গল লেগ সাইড দিয়ে সিঙ্গেল নেন। কুগেলেইন তার শক্তি দেখান, পরের পাঁচ বলে তিনটি চার মারেন। শেষ বলে দরকার ছিল ৩ রান। রাউন্ড দ্য উইকেটে ফার্নস ইয়র্কার করেন। কুগেলেইন ডাবল নিয়ে স্কোর সমান রাখেন। ২৮৩.৩৩ স্ট্রাইক রেটে ১২ বলে ৩৪ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি।
সম্প্রতি আইএল টি-টোয়েন্টিতে মন্থর গতিতে ব্যাট করা ম্যাক্স হোল্ডেনকে রেখে দিতে প্রতিপক্ষ দলের কিপার নিকোলাস পুরান সুযোগ পেয়েও স্টাম্পিং করেননি। এক বল পর ভাইপার্স ৩৭ বলে ৪২ রান করা হোল্ডেনকে তুলে নেয়। মাঠে নেমে শিমরন হেটমায়ার ৯ বলে ১৫ রান করেন।
ভাইপার্সের মতো ট্যাকটিক্যাল সিদ্ধান্ত হিসেবে নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টস এই কাজ করেছে দুইবার। ম্যাচ টাই হওয়ার কারণে ভোল্টস ও নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টস পয়েন্ট ভাগাভাগি করেছে। সুপার স্ম্যাশে শুধুমাত্র নকআউটস-এলিমিনেশন ফাইনাল কিংবা ফাইনালে ম্যাচ জয়ী নির্ধারণে সুপার ওভারের নিয়শ আছে।
এফএইচএম/