মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ/ফাইল ছবি

প্রত্যাশা আর প্রাপ্তির মাঝে এতোটা ফারাক হবে-স্বপ্নেও হয়তো ভাবতে পারেননি মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। সমর্থকরাও আশা বুক বেধেছিলেন। দেশে মাঠে অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ জয়টাই হয়তো প্রত্যাশার পারদটা এতো উপরে তুলেছিল। আমরা যখন এমন পরাশক্তিকে হারাতে পারি, তবে বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালের স্বপ্ন দেখা কেন নয়? কিন্তু মিরপুরের উইকেটের সঙ্গে তো আমিরাতের দূরত্ব অনেক! কঠিন বাস্তবতার পুরোটা এবার বুঝতে পারল বাংলাদেশ। মূল বিশ্বকাপে ৫ ম্যাচ খেলে হার পাঁচটিতেই!

বৃহস্পতিবার শেষ ম্যাচে এসে দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে ব্যর্থতার ষোলকলাই যেন পূর্ণ হলো। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৮ উইকেটে হার। তারচেয়েও বড় কথা দল আটকে গেল ৭৩ রানে। যা কি না ৬.২ ওভারেই তুলে ফেলল অজিরা। আগের ম্যাচে ৮৪-তে অলআউট। শেষ দুটো ম্যাচে বেরিয়ে এসেছে টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশ ক্রিকেটের আসল চেহারা।

আগের দুই ম্যাচ শেষে সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়েছিলেন যথাক্রমে নাসুম আহমেদ আর তাসকিন আহমেদ। দুজনের কণ্ঠেই ছিল সরল স্বীকারোক্তি। ‘হচ্ছে না’ বাংলাদেশের। কেন এমন হলো? সেমির স্বপ্ন নিয়ে আসা বাংলাদেশ হারল টানা ৫ ম্যাচেই! এই ব্যর্থতার পর উত্তর খুঁজে বেড়াচ্ছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদও। 

বাংলাদেশ অধিনায়ক দুবাই ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামের সংবাদ সম্মেলন কক্ষে বিমর্ষ থাকলেন পুরোটা সময়। হতাশ অধিনায়ক বলছিলেন, ‘এটা আমি নিজেও এসব উত্তর খুঁজছি। অনেক প্রশ্নের উত্তর আমি নিজেও জানি না। আপনি যদি বিগত সিরিজগুলো দেখেন, প্রথম ম্যাচ জিতেছি ভাল ফ্লো পেয়েছি, পরেরটা জিতেছি আবার ফ্লো পেয়েছি, আমাদের টিমের আমি মনে করি ফ্লোটা ইম্পরট্যান্ট, স্পেশালি যখন কোন টুর্নামেন্ট শুরু করি, স্পেশালি লাইক টি-টোয়েন্টিতে ওয়ার্ল্ডকাপ, বা কোন সিরিজ। তো আমাদের কনফিডেন্ট বিল্ডআপের জন্য ফ্লোটা প্রয়োজন হয়ে পড়ে।’

বিশ্বকাপের মূল পর্ব প্রথম ম্যাচেই জয়ের মঞ্চ তৈরি ছিল বাংলাদেশের। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১৭১ রানের বড় পুঁজি নিয়েও জেতা হয়নি। লিটন দাস ফেলেছিলেন দুটি ক্যাচ। আর মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের নেতৃত্বের কিছু ভুল তো ছিলই। সেই ম্যাচটা জিততে পারলে দৃশ্যপট ভিন্নও হতে পারতো। হয়তো এভাবে মাথা নিচু করে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ মিশন শেষ হতো না বাংলাদেশের।

মাহমুদউল্লাহর সেই হারটাও এখন নিতে পারছেন না। অধিনায়ক বলছিলেন, ‘আমরা স্টাগল করেছি, যদি শ্রীলঙ্কার সাথে প্রথম ম্যাচটা আমরা জিততে পারতাম তখন হয়বো আমাদের সেই ফ্লোটা আসতো। সবার কনফিডেন্স আরো বাড়তো। কিন্তু এখন এ কথাগুলো তো বলেও লাভ নাই, আমরা বাজে পারফরম্যান্স করেছি, আমি খুব হতাশ যে আমরা যেভাবে ব্যাটিং করেছি এটা পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য।’

দেশের বাইরে এসে এখন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদও বুঝতে পারছেন ২০ ওভারের ক্রিকেটে বাংলাদেশের অবস্থানটা কোথায়? টাইগার ক্যাপ্টেন কঠিন সত্যটাই এবার স্বীকার করে নিলেন। দেশের মাঠে নিজেদের মতে উইকেট তৈরি করে পাওয়া সাফল্যগুলো বড় কিছু নয়। রিয়াদ বললেন, ‘দেখুন, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে আমরা হোম কন্ডিশনে ভাল কিন্তু বিদেশে আমরা নিজেরাই দেখেছি আমাদের অবস্থানটা কোথায়। বড় টিমের সাথে লড়াই করতে গেলে আমাদের কতখানি নিজেদের ইম্প্রুভ করতে হবে, অনেক অনেক উন্নতি প্রয়োজন।’

সেই উন্নতিটা করতে হলে সবার আগে নড়েচড়ে বসতে হবে ক্রিকেট কর্তাদের। নগদ লাভের আশা স্লো উইকেট তৈরি করে লাভ নেই। স্পোটিং উইকেট চাই। তাহলেই কেবল একটা সময় এই ব্যর্থতার চোরাবালি থেকে বেরিয়ে আসতে পারবেন মাহমুদউল্লাহরা। 

এটি/এনইউ