কাতার বিশ্বকাপে প্রায় প্রতিদিনই উচ্চারণ হচ্ছে বাংলাদেশের নাম। বিশেষ করে সাংবাদিকদের আড্ডাগুলোতে বাংলাদেশের নাম আসছে ঘুরে ফিরে। ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা নিয়ে বাংলাদেশের উন্মাদনার বিষয়টি এখন অনেকটা বিশ্বব্যাপীই আলোচিত। 

গতকাল কাতার বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুশীলন করেছিলেন মেসিরা। সেই অনুশীলনের এক ফাকে আর্জেন্টিনা ফুটবল ফেডারেশনের এক সদস্য বলছিলেন, ‘বাংলাদেশে আর্জেন্টিনার অসংখ্য সমর্থক। আর্জেন্টিনার চেয়ে কোনো অংশে কম নয়।’ পাশে থাকা এক আর্জেন্টাইন সাংবাদিক উপস্থিত বাংলাদেশি সাংবাদিকদের কাছে বিস্মিত হয়ে জানতে চান,‘বাংলাদেশে আর্জেন্টিনার এত সমর্থন কেন?’ বাংলাদেশি সাংবাদিকদের প্রত্যুত্তর ৮৬ সালে ম্যারাডোনা চ্যাম্পিয়ন করানোর পরেই মূলত বাংলাদেশে আর্জেন্টিনার সমর্থন শুরু এবং পরবর্তীতে বাতিস্তুতা, ক্রেসপোর পর মেসির সময়ে সেটি ক্রমেই বেড়েছে। 

বাংলাদেশে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার এত সমর্থন কেন এ নিয়ে বিশ্বকাপ কাভার করতে আসা অনেক সাংবাদিককেই ইন্টারভিউ দিতে হয়েছে। এই প্রতিবেদকই দু’টি আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় এই নিয়ে মন্তব্য করেছেন।

আর্জেন্টিনার রেডিও ক্যাডেনাতে কাজ করেন ক্যালিগরিস মার্কোস। কাতার বিশ্বকাপে আসা সাংবাদিক বাংলাদেশের মিডিয়ায় নজর রাখেন প্রতিনিয়তই, ‘আর্জেন্টিনার ম্যাচের আগে ও পরে আমরা বাংলাদেশের মিডিয়ায় চোখ রাখি। মেসিরা জিতলে বুয়েন্স আয়ার্স, রোজারিওতে যেমন উৎসব হয়, তেমনি বাংলাদেশেও। আমরা এটি খুব উপভোগ করি। বাংলাদেশের মিডিয়া আর্জেন্টাইন সমর্থন নিয়ে অনেক প্রতিবেদন প্রকাশ করে।’

বিশ্বকাপ ফুটবল নিয়ে বাংলাদেশের এত আগ্রহ। এরপরও বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা ক্রিকেট। এটা নিয়েও খানিকটা বিস্ময় রয়েছে আর্জেন্টাইন সাংবাদিকদের, ‘বাংলাদেশে ফুটবলের প্রতি এত ভালোবাসা। সেই দেশে এখন ক্রিকেট প্রধান খেলা।’

এটা শুধু আর্জেন্টিনাই নয়, একটা গবেষণারই বিস্ময়। বাংলাদেশ ছাড়া বিশ্বের অন্য কোনো দেশে জনপ্রিয় খেলা বদল হয়নি খুব একটা। নব্বইয়ের দশক পর্যন্ত ফুটবলই ছিল দেশের প্রধান ও জনপ্রিয় খেলা। এক বিংশ শতাব্দীর শুরু থেকে ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা শুরু এবং এখন ক্রিকেটেই বাংলাদেশের ধ্যানজ্ঞান। চার বছর পর পর বিশ্বকাপ আসলে বাংলাদেশের মানুষের ফুটবলের প্রতি পুরনো প্রেম জাগে। বাংলাদেশ ফুটবল দল সাফল্যখরায় ভুগায় ফুটবলপ্রেমীরা ফুটবল থেকে খানিকটা বিচ্ছিন্ন। তবে নারী ফুটবলে সাফল্যের পর আবার ফুটবল নিয়ে মানুষের আগ্রহ বাড়ছে।

কাতারে বাংলাদেশি প্রবাসীর সংখ্যা কয়েক লক্ষ। বিশ্বকাপের সঙ্গেও অনেক বাংলাদেশি সম্পৃক্ত। বাংলাদেশ বিশ্বকাপে না খেলেও সমর্থন এবং আয়োজকের সহযোগিতার মাধ্যমে বিশ্ব আসরে পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত রয়েছে।

এজেড/এটি/এনইআর