ক্যারিয়ারের শুরুটা করেছিলেন ক্রীড়া সাংবাদিকতা দিয়ে। বিবিসিসহ কাজ করেছেন আন্তর্জাতিক বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমে। এরপর  ফুটবলের ধারাভাষ্যে থিতু হন কিংবদন্তী জন মটসন। ‘ফুটবলের কণ্ঠস্বর’ উপাধি পাওয়া মটসন একে একে ১০টি বিশ্বকাপে ধারাভাষ্য দিয়েছেন। ফুটবলভক্তদের কাছে তিনি পরিচিতি পান ‘মোটি’ নামে। ৭৭ বছর বয়সে সেই কিংবদন্তী ধারাভাষ্যকারের কণ্ঠ চিরদিনের জন্য থেমে গেল।

বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে তার মৃত্যুর বিষয়টি জানিয়েছেন মটসনের পরিবার। এতে বলা হয়, ‘অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি, আজ (বৃহস্পতিবার) ঘুমের মধ্যে শান্তিতে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছেন জন মটসন (ওবিই)।’

জীবনের বড় একটা অংশ সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন মটসন। ৫০ বছর কাটিয়েছেন ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির সঙ্গে। পাশাপাশি তিনি ১৯৬৮ সালে ধারাভাষ্যকার হিসেবে কাজ শুরু করেন। বার্ধ্যক্যে পৌঁছা মোটি হাফ সেঞ্চুরির কাছাকাছি গিয়ে সেই ক্যারিয়ারের ইতি টানেন ২০১৮ সালে। এর আগে বিবিসির হয়ে তিনি ১০টি বিশ্বকাপ, ১০টি ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ ও ২৯টি এফএ কাপ ফাইনাল কাভার করেছেন।

বিবিসি জানিয়েছে, টেলিভিশনে প্রায় ২ হাজার ৫০০টি ম্যাচে ধারাভাষ্যকারের কাজ করেছেন মটসন। ফুটবলের প্রতি আবেগ ও জ্ঞানের জন্য মটসন পরিচিত ছিলেন। ধারাভাষ্য কক্ষে ভেড়ার চামড়ার কোট পরিহিত অবস্থায় দেখা যেত তাকে। দীর্ঘ ক্যারিয়ার শেষে ২০০১ সালে ক্রীড়া ব্রডকাস্টিংয়ে অবদানের জন্য ওবিই (অর্ডার অফ দা ব্রিটিশ এম্পায়ার) খেতাব পান মটসন।

কিংবদন্তী এই ধারাভাষ্যকারের মৃত্যুতে ফুটবল অঙ্গনের অসংখ্য মানুষ শোক জানিয়েছেন। সমবেদনা জানিয়েছে ইংলিশ ক্লাব ম্যাসচেস্টার ইউনাইটেড ও আর্সেনালসহ বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিষ্ঠান। সাবেক ইংলিশ স্ট্রাইকার গ্যারি লিনেকার এক  টুইট বার্তায় লেখেন, ‘জন মটসন একজন স্মরণীয় চরিত্র। পিচে দুর্দান্ত সময় পেরিয়ে তিনি নিজের লক্ষ্যে পৌঁছেছেন। তার বিদায় ফুটবল বিশ্বের জন্য অনেক শোকের।’

ধারাভাষ্যকার হিসেবে ক্যারিয়ার শুরুর আগে মটসন বের্নেট প্রেসের রিপোর্টার এবং শেফিল্ড মর্নিং টেলিগ্রাফে কাজ করেন। বিবিসির সঙ্গে চাকরি পাকাপাকি করার আগে ১৯৬৮ সালে তিনি বিবিসি রেডিও শেফিল্ডেও পূর্ণকালীন হিসেবে যুক্ত ছিলেন। 

এএইচএস