ইংল্যান্ডের প্রবাসী ফুটবলার কিউবা মিচেল বসুন্ধরা কিংস ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি চলতি মৌসুমে বসুন্ধরা কিংসে যোগ দিয়েছিলেন ইংল্যান্ডের সান্ডারল্যান্ড থেকে। সম্ভাবনাময় ও প্রতিভাবান এই ফুটবলারকে বাংলাদেশে এনে চমক সৃষ্টি করেছিল কিংস। কয়েক মাস না যেতেই কিউবা ক্লাবটি ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন। 

নতুন বছরের তৃতীয় দিনেই কঠিন এই সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি। আজ (শনিবার) সকালে তার সামাজিক মাধ্যমে কিংস ছাড়া নিয়ে একটি পোস্ট দিয়েছেন। কিউবা চিঠিতে লিখেছেন, ‘আজ আমি বসুন্ধরা কিংসের সঙ্গে চুক্তি শেষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, কারণ দীর্ঘদিন ধরে আমার প্রাপ্য বেতন পরিশোধ করা হয়নি। এটাই আমার এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রধান কারণ। তবে যেসব সমস্যা বারবার সামনে এসেছে কিন্তু কোনো সমাধান হয়নি, সেই পরিস্থিতিতে খেলা চালিয়ে যাওয়া মানসিক ও শারীরিকভাবে খুবই কঠিন হয়ে পড়েছিল।’

বসুন্ধরা কিংসের বাংলাদেশ প্রিমিয়ার ফুটবল লিগে যাত্রা শুরু হয় ২০১৮ সালে। ওই বছর রাশিয়া বিশ্বকাপে খেলা কোস্টারিকার ড্যানিয়েল কলিন্দ্রেসকে এনেছিল। বসুন্ধরা কিংস বিগত সময়ে চুক্তির বাইরেও ফুটবলার, কোচিং স্টাফদের অতিরিক্ত অর্থ বোনাস হিসেবে দিয়েছে। পাঁচ আগস্ট পরবর্তী সময়ে ক্লাবটি আর্থিক সংকটে পড়ে। এতে অনেক ফুটবলার ও কোচের চুক্তিকৃত অর্থ প্রদানে ব্যর্থ হয় তারা। বিদেশি ফুটবলার-কোচরা পাওনা না পাওয়ায় ফিফায় আবেদন করেন। ফিফা এতে কিংসের ওপর খেলোয়াড় নিবন্ধনে নিষেধাজ্ঞা দেয়। দেশি ফুটবলারদের পাওনা থাকলেও তারা কঠোর পথে হাঁটেননি। তবে আর্থিক কারণে কিংস ছাড়েন জাতীয় দলের ফিনল্যান্ড প্রবাসী তারিক কাজী। তাকে অনুসরণ করে এবার কিউবাও একই ঘোষণা দিলেন। 

বসুন্ধরা কিংস ছাড়ার বিষয়ে কিউবা মিচেলের বিবৃতি

কিউবা আর্থিক বিষয় উল্লেখ করলেও কিংসে তিনি তেমন ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি। হংকং ম্যাচে তিনি স্কোয়াডে ছিলেন না। পরবর্তীতে জাতীয় দলে ডাক পেয়েছিলেন ভারত ম্যাচে। কিংস ছাড়ার পর বাংলাদেশের হয়ে কিউবার খেলার ভবিষ্যত কেমন দাঁড়ায় সেটাও একটা বিষয়। বাংলাদেশে মাস পাঁচেকেরও বেশি সময় থেকে তার মূল্যায়ন, ‘এখানে আমার সময়টা খুব বেশি দীর্ঘ ছিল না, তবুও এটি ছিল গুরুত্বপূর্ণ ও স্মরণীয়। আমি এখানে আসার পর থেকেই এখানকার জীবনযাপন, সংস্কৃতি ও মানুষদের আপন করে নিয়েছিলাম। আমি কিছু অসাধারণ সতীর্থ ও সমর্থকের সঙ্গে পরিচিত হয়েছি, যারা আমাকে আপন করে নিয়েছিল।’

কিংস থেকে বিদায় নেওয়ার সময় কিউবা সতীর্থ ফুটবলারদের পথ দেখিয়ে বলেন, ‘যারা একই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন– বিশেষ করে যারা বেতন না পাওয়া বা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের কারণে নীরবে কষ্ট সহ্য করছেন, তারা যেন নিজেদের কণ্ঠ খুঁজে পান। ন্যায্য ও পেশাদার আচরণ চাওয়ার কারণে কোনো খেলোয়াড়েরই নিজেকে অসহায় মনে করা উচিত নয়।’

কিউবা মিচেলের সঙ্গে তিন মৌসুমের চুক্তি ছিল বসুন্ধরা কিংসের। এক মৌসুমের অর্ধেক পার হওয়ার আগেই কিউবা চুক্তি ছিন্ন করলেন। চুক্তি অনুযায়ী এটা তিনি পারেন কি না কিংবা কেন কিউবা এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হলেন সে বিষয়ে কিংসের সভাপতিসহ একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া পাওয়া যায়নি। ফিফার নিষেধাজ্ঞা ও তারিক কাজীর কিংস ছাড়ার ঘোষণার সময়ও কিংসের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। 

এজেড/এএইচএস