ব্রাদার্স ইউনিয়নকে ০-৪ গোলে হারানোর পর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্রের অবনমন এড়ানো নিশ্চিত হয়েছে। অবনমন এড়ানোর পরের দিনই আজ (বুধবার) মুক্তিযোদ্ধার ম্যানেজার ও অধিনায়কের সংবাদ সম্মেলন। এই সম্মেলনের কারণ চলতি মৌসুমে দুঃসময়ে যারা পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন তাদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন এবং আগামী মৌসুমের জন্য সাহায্যের আহ্বান।

চলমান মৌসুমে দল গড়াই কঠিন হয়ে পড়েছিল মুক্তিযোদ্ধা সংসদের। দলবদলের সময় সীমা শেষ হওয়ার অল্প কিছুদিন আগেও মুক্তিযোদ্ধার লিগে অংশগ্রহণ অনিশ্চিত ছিল। ঠিক ওই সময়ে ক্লাবের অর্থ সংকট কাটাতে এগিয়ে আসেন দলের অধিনায়ক ইউসেকো কাতো। তার ভিডিও বার্তার মাধ্যমে বহুজাতিক কোম্পানি ‘হিসাব’ এগিয়ে আসে। 

তারা এক কোটি টাকা দেয় মুক্তিযোদ্ধাকে। হিসাবের পাশাপাশি বসুন্ধরাও সাহায্য করেছে। এদের ধন্যবাদ জানিয়ে ম্যানেজার আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা এবার অবনমন এড়াতে পেরেছি। আমাদের সহায়তার জন্য বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত, হিসাব ও বসুন্ধরাকে ধন্যবাদ জানাই।’

কাতো শুধু ভিডিও বার্তার মাধ্যমে স্পন্সর পেতে সহায়তা করেননি। নিজেও জাপান থেকে অর্থ সংগ্রহের ব্যবস্থা করেছেন। মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্লাবের জার্সি বিক্রি করেছেন নিজ দেশে। সেই অর্থও কম নয়, প্রায় ৩০ লাখ টাকা এসেছে। 

এই অর্থের ব্যাপারে কাতো বলেন, ‘জাপানে আমার ঘনিষ্ঠ ও কাছের অনেকে মুক্তিযোদ্ধার জার্সি সংগ্রহ করেছে। এর বিনিময়ে কেউ ৫০০ ডলার কেউ ১০০ ডলার দিয়েছে। এভাবে বাংলাদেশি টাকায় ৩০ লাখের মতো হয়েছে।’ লিগ দীর্ঘায়িত হওয়ায় মুক্তিযোদ্ধার ব্যয় ৪০ লাখের মতো বেড়েছে। এই অর্থ খেলোয়াড়দের বেতনাদিতে ব্যয় হবে বলে জানান ম্যানেজার।

কাতো এই মৌসুমে মুক্তিযোদ্ধার হয়ে দুর্দান্ত খেলেছেন। অন্য ক্লাবের আগ্রহ বাড়ছে তার দিকে। কাতো তার ভবিষ্যৎ সম্পর্কে বলেন, ‘অবশ্যই জীবনে অর্থের প্রয়োজন রয়েছে। আমি এখানে স্বাচ্ছন্দ্যে রয়েছি। মুক্তিযোদ্ধাতেই থাকার সম্ভাবনা বেশি আমার।’ 

এজেড/এমএইচ