উইটসা অ্যাওয়ার্ড জয়ীদের সম্মাননা অনুষ্ঠান

সম্প্রতি মালয়েশিয়াতে তথ্যপ্রযুক্তির অলিম্পিক খ্যাত ওয়ার্ল্ড কংগ্রেস অব আইটি (ডব্লিউসিআইটি-২০২০) এ ‘উইটসা আইসিটি এক্সসিলেন্স অ্যাওয়ার্ড’ ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে ৯টি বিভাগের মধ্যে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে দেশের ছয়টি তথ্যপ্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট প্রকল্প সম্মাননা অর্জন করে।

এ উপলক্ষে সোমবার (২৮ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (বিসিএস) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের আইসিটি টাওয়ারের বিসিসি অডিটোরিয়ামে ‘উইটসা অ্যাওয়ার্ড সেলিব্রেশন ২০২০’ আয়োজন করে।

আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। তিনি বলেন, এই করোনার সময়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এবং ডিজিটাল বাংলাদেশের আর্কিটেক্ট সজীব ওয়াজেদ জয়ের সহযোগিতা, সুপরামর্শ ও তত্ত্বাবধানে আমরা দেশের সব কার্যক্রম চালু রাখতে পেরেছি। যার কারণে আমরা উইটসার কাছ থেকে স্বীকৃতি পেয়েছি।

তিনি বলেন, ২০১৬ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইনোভেশন ডিজাইন অ্যান্ড এন্টারপ্রনোউরশিপ একাডেমি তৈরি করে দিয়েছিলেন। সেই একাডেমি মাত্র চার বছরের মধ্যে একটি দুইটি নয়, ১৫৮টি কোম্পানিকে মনিটরিং, মেন্টরিং এবং ফান্ডিং করে উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সহযোগিতা করেছে।

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা সজীব ‍ওয়াজেদ জয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা অনুকরণ করব না, আমরা উদ্ভাবন করব। উদ্ভাবনী এবং সৃজনশীলতা দিয়েই জ্ঞান ভিত্তিক উন্নত ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলব।

বিসিএস সভাপতি মো. শাহিদ-উল-মুনীর বলেন, উইটসা অ্যাওয়ার্ড তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বেশ গুরুত্বপূর্ণ। ওয়ার্ল্ড কংগ্রেস অব আইটিকে (ডব্লিউসিআইটি) বলা হয় তথ্যপ্রযুক্তির অলিম্পিক। ডব্লিউসিআইটি সম্মেলনে প্রতিবছর পৃথিবীজুড়ে তথ্যপ্রযুক্তিতে অবদান রাখার জন্য এই খাতের বিভিন্ন মানুষ এবং প্রতিষ্ঠানকে উইটসা সম্মাননা প্রদান করে। ২০২০ এ উইটসা অ্যাওয়ার্ডের ৯টি বিভাগের বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে আমরা ছয়টি আন্তর্জাতিক সম্মাননা পাওয়ার গৌরব অর্জন করেছি।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির (বিসিএস) মনোনীত প্রকল্পগুলোর মধ্যে কোভিড-১৯ টেক সলিউশনস ফর সিটিজ অ্যান্ড লোকালিটিজ বিভাগে সিনেসিস আইটি লিমিটেড ও তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের এটুআই এর যৌথ প্রকল্প, পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ বিভাগে সরকারের ইনোভেশন ডিজাইন অ্যান্ড এন্ট্রাপ্রেনিউরশিপ একাডেমি (আইডিয়া) প্রকল্প, ইনোভেটিভ ই-হেলথ সল্যুশনস বিভাগে মাইক্রসফটের মাই হেলথ বিডি, ভার্চ্যুয়াল হসপিটাল অব বাংলাদেশ এবং ই-এডুকেশন অ্যান্ড লার্নিং বিভাগে বিজয় ডিজিটাল অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছে। ডিজিটাল অপরচুনিটি অর ইনক্লুশন বিভাগে নগদ এবং সাসটেইনেবল গ্রোথ বিভাগে ডিভাইন আইটি লিমিটেডের প্রিজম ইআরপিকে মেরিট অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত করা হয়। আমি অ্যাওয়ার্ড বিজয়ীদের স্বাগত জানাই। তাদের উদ্ভাবন দেশের প্রযুক্তি খাতকেও প্রভাবিত করেছে এবং ভবিষ্যতে করবে।’

অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি আরও যুক্ত ছিলেন ওয়ার্ল্ড ইনফরমেশন টেকনোলজি অ্যান্ড সার্ভিসেস অ্যালায়েন্সের (উইটসা) চেয়ারম্যান ইয়ানিস সিরোস, সদ্য বিদায়ী চেয়ারম্যান ইভোনি চিউ এবং একই সংগঠনের মহাসচিব ড. জেমস এইচ. পয়সান্ট।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব এন এম জিয়াউল আলম এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের (বিসিসি) নির্বাহী পরিচালক পার্থ প্রতিম দে প্রমুখ।

অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা ছয় প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের হাতে ক্রেস্ট ও সম্মাননা তুলে দেন অতিথিরা।

এইচএন/এমএইচএস