কয়েক বছর ধরে বাজারে ব্যস্ত সময় পার করছে মার্কিন টেক জায়ান্ট অ্যাপল। গত মাসে আইম্যাক, আইপ্যাড প্রো ও এয়ারট্যাগসহ একাধিক নতুন গ্যাজেট বাজারে আনার ঘোষণা দেয়।

চলতি বছরের জুনে অ্যাপলের অ্যানুয়াল ডেভেলপার কনফারেন্স হওয়ার কথা রয়েছে। ইভেন্টটিতে সাধারণত সফটওয়্যার নিয়ে আলোচনা করা হয়। কিন্তু এবার সফটওয়্যার ছাড়া নতুন কিছু হার্ডওয়্যার নিয়ে আসতে চলেছে এমনটিই জানিয়েছে একাধিক প্রযুক্তি বিষয়ক সংবাদমাধ্যম। ২০২১ সালে অ্যাপলের যেসব গ্যাজেট বাজারে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে সেসব সম্পর্কে আসুন জেনে নেওয়া যাক- 

ম্যাক

১৪ ইঞ্চি ও ১৬ ইঞ্চি ম্যাকবুক প্রোস

অ্যাপল বার বার ১৪ ইঞ্চি ও ১৬ ইঞ্চি ম্যাকবুক প্রো মডেল বাজারে আনার কাজ করছে। উভয় মডেলে ফ্লাট-এডজ ডিজাইন ও থিনার বেজেলসের ফিচার রয়েছে। আসন্ন ১৪ ইঞ্চি মডেলে বর্তমানে বাজারে থাকা ১৩.৩ ইঞ্চি ম্যাকবুক প্রো ভার্সন স্থান পাবে। যেমন ১৬ ইঞ্চি মডেলে বর্তমান ১৬ ইঞ্চি ভার্সন থাকবে। আপডেট করা ম্যাকবুক প্রোতে থাকবে এম-ওয়ান-এক্স ও এম-টু চিপসেট। এছাড়া নতুন ম্যাকবুকটিতে ১০-কোর সিপিইউ বা প্রসেসর, ৮ হাই-পারফর্ম্যান্স কোর এবং ২ এনার্জি এফিশিয়েন্ট কোর থাকবে। এটি পেশাদার গ্রাফিক ডিজাইনার ও ভিডিও এডিটরদের উপযোগী করে তৈরি করা হবে বলে জানানো হয়। 

ম্যাকবুক এয়ার

এবার ম্যাকবুক এয়ার প্রসঙ্গে দুটি কথা বলি। বর্তমান প্রজন্মের তরুণরা ম্যাকবুক এয়ার ব্যবহার করছেন। আগামী অ্যানুয়াল ডেভেলপার ইভেন্টে এর নতুন মডেল আনার পরিকল্পনা করছে অ্যাপল। এটি উপর্যুপরি পাতলা গড়নের ও বর্তমানে বাজারে যে ম্যাকবুক এয়ার রয়েছে তার চেয়ে শক্তিশালী। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ জন প্রোসার সাম্প্রতিক সময়ে নতুন ম্যাকবুক এয়ার কেমন হতে পারে সে ব্যাপারে মুখ খুলেছেন। তিনি বলেন, অ্যাপল যে নতুন ম্যাকবুক এয়ার বাজারে আনার পরিকল্পনা করছে সেটির রং এম-ওয়ান-আইম্যাকের সঙ্গে মিলে যায়। ম্যাকবুক এয়ারটির ডিসপ্লে সাদা রংয়ের। আশা করা যাচ্ছে, ম্যাকবুক এয়ারের নতুন ভার্সনটি চলতি বছরের শেষে অথবা আগামী বছরের প্রথমে বাজারে আনা হবে। 

ম্যাক প্রো

ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে সম্প্রতি বলা হয়েছে, দুটি ম্যাক প্রো মডেল আনার কাজ করছে অ্যাপল। এর মধ্যে একটিতে ইনটেল প্রসেসর রয়েছে ও ২০১৯ মডেলের অনুরূপ ডিজাইন। অন্যটিতে অ্যাপল সিলিকন ব্যবহার করা হয়েছে ও ২০০০ সালে তৈরি অ্যাপলের ম্যাক প্রো জি-ফোর কিউবের মতোই দেখতে। 

৩২ ইঞ্চি আইম্যাক

সাম্প্রতিক সময়ে এম-ওয়ান আইম্যাক চালু করেছে অ্যাপল। অফিসের কাজের জন্যই মূলত এটি তৈরি হয়েছে। এখন নতুনভাবে অফিসে কাজের জন্য ৩২ ইঞ্চি আইম্যাক তৈরি করা হচ্ছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে বলা হয়, কয়েক বছর ধরে গ্যাজেটটি তৈরির কাজ করে আসছে অ্যাপল। এতে অ্যাপল সিলিকন ব্যবহৃত হয়েছে। 

ম্যাক মিনি

যতদূর মনে হচ্ছে, অ্যাপলের কাছ থেকে আমরা আগামীতে ম্যাক মিনির হাই-এন্ড ভার্সনের সঙ্গে পরিচিত হতে যাচ্ছি। কেননা ম্যাক মিনির নতুন এম-ওয়ান চিপের উন্নত ভার্সন, ১০ কোর প্রসেসর, ৮ হাই-পারফর্ম্যান্স কোর ও ২ এনার্জি এফিশিয়েন্ট, প্লাস ১৬ কোর বা ৩২ কোর জিপিইউ অপশন থাকছে। চিপসেটটিতে ৬৪ জিবি র‌্যাম ও ৪ থান্ডারবোল্ট পোর্ট থাকবে। এছাড়া ম্যাক মিনিতে অনেকগুলো সংযোগকারী পোর্ট থাকবে। 

আইপ্যাড

আইপ্যাড মিনি ও এন্ট্রি-লেভেল আইপ্যাড

চলতি বছরেই বাজারে একাধিকবার আইপ্যাড মিনির নতুন ভার্সন এনেছে অ্যাপল। এর বৈশিষ্ট্য পাতলা গড়নের ও এতে ৯ ইঞ্চি স্ক্রিন রয়েছে। বিভিন্ন প্রযুক্তি বিষয়ক সংবাদমাধ্যমের খবরে উল্লেখ করা হয়েছে, মাল্টিমিডিয়া কনটেন্ট নির্মাতাদের কাছে আইপ্যাড মিনি জনপ্রিয় আইপ্যাড। 

এয়ারপড

এয়ারপড থ্রি ও এয়ারপড প্রো ২

চলতি বছরে অ্যাপল এয়ারপড থ্রি চালু করলেও ব্যবহারকারীদের বিস্মিত হওয়ার কিছু নেই। কারণ সম্প্রতি তারা বলেছে, বর্তমান এয়ারপড প্রোর মতো ডিজাইন করা হবে তৃতীয় প্রজন্মের এয়ারপডে। এয়ারপড প্রোর তুলনায় এটি আরও বেশি ব্যয়বহুল হবে। এয়ারপড প্রোর চার্জারের জায়গাটি হবে একেবারেই ছোট। কিন্তু আমরা কি চলতি বছরেই এয়ারপড প্রো টু পেতে যাচ্ছি? উত্তর হলো আমরা জানি না।

আইফোন

আইফোন ১৩ সিরিজ

চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে বাজারে আসবে আইফোন ১৩ সিরিজ। আইফোনের নতুন সিরিজে তেমন বৈচিত্র্য থাকছে না। অল্প কিছু ফিচার পরিবর্তন করা হবে। এছাড়া নতুন আইফোনে ক্যামেরা, ১২০ হার্জ ডিসপ্লে এ-ফিফটিন বায়োনিক ও উন্নত মানের ব্যাটারি পারফর্ম্যান্স রাখা হবে বলে জানানো হয়েছে। এতে ফাইভ-জি সুবিধাও থাকবে। এর স্ক্রিন সাইজ ৫.৪ ইঞ্চি, ৬.১ ইঞ্চি ও ৬.৭ ইঞ্চি। অর্থাৎ এবার আমরা চারটি মডেলের আইফোন পাচ্ছি- আইফোন ১৩, আইফোন ১৩ মিনি, আইফোন ১৩ প্রো ও আইফোন ১৩ প্রো-ম্যাক্স। এর লাইন-আপ চলবে আইওএস ১৫ অপারেটিং সিস্টেমের মাধ্যমে। 

অ্যাপল ওয়াচ সিরিজ ৭

অ্যাপল ওয়াচে বড় ধরনের আপডেট আসছে। পরবর্তী প্রজন্মের ওয়াচে একটি ফ্লাট-এডজ ডিজাইনের ফিচার রাখা হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। একই সঙ্গে আমরা আশা রাখি এটি আরও দ্রুতগতিসম্পন্ন হবে এবং পানিনিরোধক ফিচারে আরও উন্নত হবে। অ্যাপল জানিয়েছে, অ্যাপল ওয়াচ সিরিজ ৭ দিয়ে ডায়েবেটিস মাপা যাবে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে আইফোনের সঙ্গে বাজারে অ্যাপল ওয়াচ সিরিজ নিয়ে আসবে অ্যাপল। উল্লেখ্য, অ্যাপল প্রতি বছরের সেপ্টেম্বরে আইফোনের নতুন সিরিজের সঙ্গে অ্যাপল ওয়াচের নতুন সিরিজ আনে। 

নতুন আইপড টাচ কী অ্যাপলের সবচেয়ে আকর্ষণীয় প্রযুক্তি?

অ্যাপল বলেছে, তারা নতুন আইপড টাচ মডেল তৈরির জন্য কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। চলতি বছর থেকে অ্যাপল ২০ বছরের আইপড একত্রিত করে একটি আইপড টাচ তৈরি করছে। অ্যাপলের অন্যান্য গ্যাজেটের তুলনায় আইপড টাচ হবে সবচেয়ে কম ব্যয়বহুল। তাই আপাতদৃষ্টে মনে হচ্ছে ২০২১ সালের সবচেয়ে আকর্ষণীয় প্রযুক্তি হবে আইপড টাচ। 

সূত্র : ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

এইচএকে/টিএম/এএ