যুক্তরাষ্ট্রের ২০০ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সাইবার হামলার শিকার হয়েছে। শনিবার (৩ জুলাই) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা হানট্রেস ল্যাবস বলছে, ফ্লোরিডাভিত্তিক আইটি প্রতিষ্ঠান কাসেয়াকে টার্গেট করে এ হামলা চালানো হয়েছে। সাইবার হামলার সঙ্গে কারা জড়িত সেটি তদন্ত করা হবে বলে ওয়েবসাইটের এক পোস্টে জানিয়েছে ফ্লোরিডার ওই কোম্পানি।

হানট্রেস ল্যাবস আরও বলছে, তারা মনে করছে এই হামলার সঙ্গে রেভিল নামে রাশিয়ার একটি সংস্থা জড়িত রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সাইবার নিরাপত্তা ও অবকাঠামো বিষয়ক সংস্থা এক বিবৃতিতে বলেছে, হ্যাকারদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

কখন থেকে সাইবার হামলা শুরু হয়?

স্থানীয় সময় শুক্রবার বিকেলে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওয়েবসাইটে হামলা শুরু হয়। ফ্লোরিডার আইটি প্রতিষ্ঠান কাসেয়া বলেছে, এ হামলার কারণে তাদের করপোরেট সার্ভার, ডেস্কটপ কম্পিউটার ও নেটওয়ার্ক ডিভাইস ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাই গ্রাহকের যেন আর ক্ষতি না হয়, সেই কারণে তারা কর্মীদের ভিএসএ সিস্টেম ব্যবহার করে সার্ভার বন্ধ করার পরামর্শ দিয়েছে।

বিবিসি জানায়, সাইবার হামলায় কয়টি প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সে ব্যাপারে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। হানট্রেস ল্যাবস বলছে, ২০০ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে কাসেয়া বলছে, ‘অল্পসংখ্যক’ প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

কাসেয়া বলছে, সাইবার হামলার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি ১০টির বেশি দেশের ১০ সহস্রাধিক গ্রাহক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

হানট্রেস ল্যাবসের সিনিয়র সিকিউরিটি রিসার্চার জন হ্যামন্ড ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকে পাঠানো এক ই-মেইলে বলেন, ‘সাইবার হামলার কারণে আমাদের কাজের পরিবেশ নষ্ট হয়েছে।’

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন গত মাসে জেনেভায় অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোতে ক্রমাগত সাইবার হামলার কারণে দায় এড়াতে পারেন না তিনি।

সম্মেলনে পুতিনকে যুক্তরাষ্ট্রের ১৬টি প্রতিষ্ঠানের তালিকা দিয়েছেন বাইডেন। তিনি বলেন, এ প্রতিষ্ঠানগুলোর ওয়েবসাইট যেন হ্যাক করা না হয়।

উল্লেখ্য, বিশ্বব্যাপী সাইবার অপরাধীদের কাছে লাভজনক সংস্থা হলো রেভিল। অনেকে একে সেদিকোনোবি নামেও চেনেন। সংস্থাটি চলতি বছরের মে মাসে অনলাইন মাংস বিক্রয়ের প্রতিষ্ঠান জেবিএসের ওয়েবসাইটে হামলার পর তাদের বিরুদ্ধে ব্যাপক সমালোচনা করেছিল যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই। তাছাড়া ২০১৯ সালে টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের দুই ডজন ওয়েবসাইটে হামলা চালিয়েছিল তারা।

সূত্র : বিবিসি।

এইচএকে/টিএম/এএ