বোয়িংকে ৮০ বিলিয়ন ডলারের অর্ডার দিতে ‘প্রস্তুত’ ভারত

বোয়িংকে প্রায় ৮০ বিলিয়ন ডলারের উড়োজাহাজ ক্রয়ের কার্যাদেশ দিতে ভারত প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন দেশটির বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল। তিনি জানান, ইঞ্জিন এবং অন্যান্য খুচরা যন্ত্রাংশের খরচ ধরলে এই অর্ডারের মোট মূল্য দাঁড়াবে প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলারে।
গত ৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের উড়োজাহাজের চাহিদা সম্পর্কে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে গোয়েল বলেন, “বোয়িংকে দেওয়া হয়েছে এবং দেওয়ার জন্য প্রস্তুত—এমন অর্ডারের পরিমাণ প্রায় ৭০ থেকে ৮০ বিলিয়ন ডলার। এর সাথে যদি ইঞ্জিন এবং অন্যান্য খুচরা যন্ত্রাংশ যোগ করা হয়, তবে এর খরচ সম্ভবত ১০০ বিলিয়ন ডলারে গিয়ে ঠেকবে।”
তিনি আরও যোগ করেন, ডেটা সেন্টারের জন্য বাজেটে বিশাল ছাড়ের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
গত বছর আহমেদাবাদে এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান দুর্ঘটনার প্রেক্ষিতে বোয়িং যখন মামলার মুখে রয়েছে, তখনই এই মন্তব্যগুলো সামনে এলো। মন্ত্রী জানান, জুনের ওই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় বিমানে থাকা ২৪২ জনের মধ্যে ২৪১ জনই প্রাণ হারান। নিহতদের পরিবার বোয়িংয়ের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে অভিযোগ করেছে যে, বিমানের ত্রুটিপূর্ণ ‘ডুয়াল সুইচ’ এই দুর্ঘটনার পেছনে ভূমিকা রেখেছে।
গোয়েল আগামী পাঁচ বছরে অন্তত ৫০০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের মার্কিন পণ্য সংগ্রহের একটি বৃহত্তর সুযোগের কথা উল্লেখ করেন। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, ওয়াশিংটনের সাথে বাণিজ্য সমঝোতার আওতায় বিনিয়োগের কোনো সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়নি।
চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে ভারত-ইইউ বাণিজ্য চুক্তির কয়েক দিনের মাথায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘোষণা করেন যে, নয়াদিল্লি ও ওয়াশিংটন একটি বাণিজ্য চুক্তিতে পৌঁছেছে। ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় পণ্যের ওপর শুল্ক কমিয়ে ১৮ শতাংশ করবে; বিপরীতে ভারত মার্কিন পণ্যের ওপর শুল্ক শূন্যে নামিয়ে আনবে। এ ছাড়া রাশিয়া থেকে তেল আমদানির বদলে যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলা থেকে তেল সংগ্রহ করবে, কৃষির মতো সংবেদনশীল খাতগুলো উন্মুক্ত করবে এবং ৫০০ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন পণ্য ক্রয় করবে ভারত।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই শুল্ক ছাড়কে স্বাগত জানিয়েছেন।
পীযূষ গোয়েল বলেন, চুক্তির প্রথম ধাপ চূড়ান্ত করতে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র একটি যৌথ বিবৃতি দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই বিবৃতি প্রকাশের পর যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় পণ্য রপ্তানির ওপর ১৮ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হবে। আগামী মার্চের মাঝামাঝি সময়ে একটি আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরের কথা রয়েছে, যার পর ভারতে প্রবেশকারী মার্কিন পণ্যের ওপর শুল্ক ছাড় সুবিধা কার্যকর হবে।
সূত্র অনুযায়ী, খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষকদের স্বার্থ বিবেচনা করে চাল, গম, সয়াবিন, ভুট্টা, দুগ্ধজাত পণ্য এবং চিনির মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যগুলোকে ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তির আওতার সম্পূর্ণ বাইরে রাখা হয়েছে।
কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলেছেন, ভারতীয় কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যের বড় অংশ এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। কারণ যুক্তরাষ্ট্র থেকে কৃষি আমদানি মূলত সেইসব পণ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে যা ভারতে ব্যাপক হারে উৎপাদিত হয় না। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এসব আমদানির তালিকায় এমন কোনো গণ-ভোগ্য পণ্য অন্তর্ভুক্ত করা হবে না যা দেশীয় বাজারকে অস্থিতিশীল করতে পারে।
সূত্র : নিউজ১৮।
এনএফ
